মুক্তধারা

অশ্রু সেন্টার

মোসাঃ মমতাজ বেগমঃ  “Laughter Therapy” নামে একটি গ্রহণযোগ্য আর খুবই ফলদায়ক একটি থেরাপি আছে। এই থেরাপিতে মানুষকে প্রাণ খুলে হাসতে হয়, হেলেদুলে হাসতে হয়, হাসি না পেলেও হাসতে হয়। বলা হয়, “The elation you feel when you laugh is a great way of combating the physical effects of stress. When we laugh, our body relaxes and endorphins (natural painkillers) are released into the blood stream.” হাসলে মানসিক আর শারীরিক উভয় ধরণের স্ট্রেস থেকেই কিছুটা হলেও মুক্তি মেলে। বিশ্বজুড়ে এই থেরাপির অনুশীলন চলছে। প্রাণ খুলে হাসার জায়গাও এই পৃথিবীতে অনেক। ঘরে-বাইরে, মাঠে-ঘাটে, বাজারে-বন্দরে, সমুদ্রের তীরে কিংবা পাহাড়ের চূড়ায় – সবখানেই প্রাণ খুলে হাসা যায়। এতে কেউ তেমন বাধা দেয় না। হয়তো জোরে জোরে হাসতে দেখলে মাঝে প্রথমে একটু অবাক হয়ে হয়ে তাকায়, পরেই এটা স্বাভাবিকভাবেই নেয়।

লেখক – মোসাঃ মমতাজ বেগম

প্রাণ খুলে হাসার জন্য জায়গার অভাব নেই আমাদের। জায়গার অভাব আছে প্রাণ ভরে কাঁদার জন্য, চিৎকার করে কাঁদার জন্য। কাঁদতে গেলে একটু সামান্য আওয়াজ করে কেঁদে ওঠারও সুযোগ নেই। চোখে পানি দেখলেই সবাই সন্দেহের চোখে তাকায়। একশ একটা প্রশ্নবাণ ছুঁড়ে দেয়। যে একটু কাঁদতে চায় সে আর কাঁদতে পারে না। তাকে তখন সবার প্রশ্নের উত্তর দিতে থাকতে হয়। কৈফিয়ত দিতে দিতে সে কাঁদার আর সুযোগ পায় না।

অথচ প্রাণ খুলে হাসার মত প্রাণ ভরে কাঁদাও কত জরুরি! মনের ভেতরের দুঃখগুলো, বিষণ্নতাগুলো, হতাশাগুলো চিৎকার করে উগলে দেওয়া কতটা যে প্রয়োজনীয়! এর জন্য কোনো এমন কোনো জায়গাই নেই যেখানে মানুষ গিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে পারবে কোনো কৈফিয়ত দেওয়া ছাড়া।

পৃথিবীতে কিছু সংখ্যক এমন অশ্রু সেন্টার গড়ে তোলা দরকার। সেসব অশ্রু সেন্টারে মানুষ কাঁদতে যাবে। সেখানে কেউ তাকে জিজ্ঞেস করবে না “কাঁদছো কেন? কি হয়েছে?” অথবা কোনো সান্ত্বনা দিতে আসবে না। মানুষ সেখানে যেমন করে ইচ্ছা, যতক্ষণ ইচ্ছা কাঁদতে পারবে। চিৎকার করে, হাউমাউ করে কাঁদতে পারবে। আরো ভালো হয় সেখানে কিছু স্বেচ্ছাসেবক রাখলে। স্বেচ্ছাসেবক হবে এমন কেউ যাদের মন মায়ায় ভরা। তাদেরকে জড়িয়ে ধরে, তাদের বুকে মাথা গুজে মানুষ কাঁদবে। স্বেচ্ছাসেবকেরা এতে বিরক্ত হবে না। তারা কাঁদতে থাকা মানুষগুলোর সাথে কোনো অযথা কথাও বলবে না, কোনোকিছু জিজ্ঞেসও করবে না, কোনো সান্ত্বনাও দিবে না। শুধু তাদেরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখবে আর মাঝে মাঝে কাঁদতে কাঁদতে কেঁপে ওঠা মাথাটায় হাত বুলিয়ে দেবে।

এমন অশ্রু সেন্টারগুলো হয়তো পৃথিবীজুড়ে বুকে দুঃখ, বিষণ্নতা, হতাশা আর অভিমান বয়ে বেড়ানো মানুষের সংখ্যা কমিয়ে দিবে। স্বেচ্ছাসেবক কি পাওয়া যাবে অশ্রু সেন্টারের জন্য?