মুক্তধারা

ধর্ষণের পরে কি কি করনীয়

শাম্মী সারোয়ারঃ ধর্ষণ নিয়ে প্রতিদিন কিছু না কিছু লেখা পড়া হয়। সেখানে বিভিন্ন ধরনের টপিক থাকে। কাপড় থেকে শুরু করে মেয়েটার কি কি দোষ ছিলো সব। একটা ব্যাপার ইদানীং যুক্ত হচ্ছে সেটা হচ্ছে সেল্ফ ডিফেন্স। খুব ই গুরুত্বপূর্ণ টপিক। কিন্তু এর চেয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক আছে যেটা নিয়ে কোনো লেখা দেখিনাই। বা হতে পারে আমার চোখে পরেনাই। ধর্ষণের পরে কি কি করনীয়। যেহেতু আমরা ধরেই নিয়েছি রাস্তায় বের হলেই আমাদের ধর্ষণ হবার চান্স বেড়ে গেছে তাই এর পরের করনীয় কাজ গুলো ও জেনে রাখা উচিৎ। যে ভুল গুলো ধর্ষণের পরে মেয়েরা সাধারণত করে, (যদি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়)ঃ
১.নিজেকে পরিস্কার করা। যার মদ্ধে অন্যতম গোসল। তাও আবার যে সে গোসল না, ইচ্ছামত ঘসামাজা করে গোসল। যেনো এই এক গোসলে ধর্ষকের সব পাপ মুছে ফেলবে। মনে রাখবেন আপনি গোসলের মাধ্যমে সব রকম এভিডেন্স ধুয়ে মুছে ফেলছেন। আপনার সাথে হওয়া অপরাধের যেসব চিহ্ন আপনার শরির বহন করে সেটা ই একমাত্র প্রমান যা অপরাধিকে আইনের মাধ্যমে শাস্তি দিতে পারে। ফরেন্সিকরা এখন এগুলোর মাধ্যমে আসল অপরাধিকে চিহ্নিত করতে পারে। স্পার্ম, ট্যিসু,ধস্তাধস্তি হলে চুল, বা আচরের সময় নখের নিচে রক্ত, লালা এগুলো ডি এন এ বহন করে। এগুলো নস্ট করে ফেলবেন না।
২. ধর্ষণের সময়ে পরিহিত কাপড় ফেলে দেয়া। ধর্ষন এমন একটা জঘন্য অপরাধ যা কিনা সারা জীবন একটা মানুষের মদ্ধে তার ছায়া রেখে যায়। চাইলে ও হয়ত এই ঘটনা ভুলে যাওয়া সম্ভ না। তাই মেয়েরা চেস্টা করেন এই ঘটনার সাথে জরিত সব কিছু জীবন থেকে দুরে সরিয়ে ফেলতে। এটা করবেন না। এগুলো ও এভিডেন্স। কোর্টে কাজে লাগবে।
৩. ধর্ষণের পরে হাসপাতাল বা পুলিশের কাছে না গিয়ে বাসায় চলে যাওয়া। একটা মেয়ের জন্য ধর্্ষনের চেয়ে বড় ট্রমা আর কিছু হতে পারেনা। স্বাভাবিক ভাবে আপন জনের কাছে যাওয়া বা সেইফ একটা জায়গায় পৌছানো খুব জরুরী সে সময়। কিন্তু একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, যত দেরি আপনি করবেন তত দেরি হবে অপরাধী কে ধরতে। তাই ভেংগে না পরে সাথে সাথে নিকটস্থ হাসপাতাল বা থানায় যান।
৪. নিজেকে ঘরবন্দী করে ফেলা। আপনি কেনো নিজেকে ঘরবন্দী করবেন? আপনি অপরাধ না করে ও নিজেকে অপরাধী সাজিয়ে ফেলছেন। ওকে ফাইন, মানসিক বা শারিরীক ভাবে সুস্থ হওয়ার জন্য সময় দরকার। সময় নিন। কিন্তু মানুষ কি বলবে, কিভাবে আপনাকে মেনে নেবে, লজ্জা পাচ্ছেন এসব ভেবে নিজেকে একঘরে করে রাখবেন না। আচ্ছা মেনে নিচ্ছি বলা সহজ করা কঠিন। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন, আপনি কাকে পুরুস্কৃত করছেন? যে কাজের জন্য আপনি নিজেকে শাস্তি দিচ্ছেন সেটা একটা এক্সিডেন্ট। যেমন গাড়ি এক্সিডেন্ট হতে পারে, আগুনে হাত পা পুরে যেতে পারে, কেউ আপনার পার্সোনাল একাউন্ট হ্যাক করতে পারে। এগুলো যেমন এক্সিডেন্ট তেমন রেপ ও একটা এক্সিডেন্ট। গাড়ি এক্সিডেন্ট এর পরে হাসপাতাল থেকে বাসায় যেতে লজ্জা পেতেন? স্কুল কলেজ বা অফিসে ফিরতে ভয় পেতেন? রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা খেতে কিংবা হলে গিয়ে মুভি দেখতে অস্বস্তি হোতো? না তো? তাহলে ধর্ষণের পরে কেনো পাবেন? রাগ হতে পারে, প্রতিশোধ নেয়ার ইচ্ছা হতে পারে, বড়জোর খুন করতে পারেন একটা বা দুইটা( অবশ্যই অপরাধ সম্পৃক্ত ব্যাক্তি বিশেষ কে) কিন্তু লজ্জা? কেনো? ধর্ষণ নিয়ে অনেক কিছু বলার নেই আমার। এটা যুগে যুগে হয়ে আসছে। সব দেশে, সব কালচার এ, সব ধরনের মানুষের সাথে হয়ে আসছে। এটা মেনে নেয়ার ও কিছু নাই এটাকে নিয়ে আহা উহু করার ও কিছু নাই। এইসব দুইদিনের আন্দোলনে কোনো বালটা ও পরিবর্তন হবে না। যারা মোমবাতি, প্লাকার্ড নিয়ে চিল্লাচিল্লি করেছে তারা দুইদিন পরে অন্য কোনো ইস্যু নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে যাবেন। যা করার আপনার নিজের ই করা লাগবে।
প্রথমতঃ, নিজেকে এই টপিকে শিক্ষিত করুন। নিজে জানুন অন্যকে জানান।
দ্বিতীয়তঃ সতর্কতা অবলম্বন করুন। সেল্ফ ডিফেন্স শিখুন। সব সময় নিজের সাথে এমন কিছু রাখুন যা কিনা আপনাকে কিছুটা হলে ও সাহায্য করতে পারে। আশে পাশে চোখ কান খোলা রেখে চলাফেরা করুন। বাড়িতে ও সতর্কতা অবলম্বন করুন। দারোয়ান, ড্রাইভার, মালি, কেয়ারটেকার এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
মোটকথা কাউকে ই ১০০% অন্ধ বিশ্বাস করে বসে থাকবেন না। তৃতীয়তঃ নিজেকে কখনো ই কম শক্তিশালী ভাববেন না। আপনি নারী। আল্লাহ আপনাকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষের মাধ্যমে এই পৃথিবীতে এনেছেন, আর তিনি আপনার মা। এতো শক্তি জীবিত কারো নেই। যতক্ষণ জান থাকে যুদ্ধ করবেন। যেমন যুদ্ধ করে পৃথিবীতে এসেছেন, বেঁচে আছেন তেমনি যুদ্ধ করে যেনো যেতে পারেন। সর্বশেষ ঃ নিজেকে ভালোবাসুন। আত্মসম্মানবোধ তৈরি করুন। আপনি যেমন ই হন না কেনো, আল্লাহ আপনাকে নিয়ে সেভাবেই সন্তুষ্ট। এটা মনে রেখে জীবন যাপন করুন। শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে শক্তি প্রার্থনা করুন। তিনি আপনাকে সব রকম বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারেন। ইনশাআল্লাহ।
আমাদের দেশের মতো কিছু দেশে যেখানে ধর্ষকের শাস্তি বলে কিছু নাই এসব দেশের আইন ব্যাবস্থা নিয়ে করার মতো অনেক কিছু আছে। সবশেষে বলব, আইন থাকুক আইনের স্থানে, আপনি বা আপনারা নিজ নিজ যায়গা থেকে সচেতন হন। ধন্যবাদ।