মুক্তধারা

হিজিবিজি

নূসরাত জাহানঃ লেখাটা জরুরী। খুব জরুরী। অশান্ত সময়। আমিও অশান্ত কিছুটা। মাঝে বেশ কিছুদিন নিজের সাথে যুদ্ধ করলাম, বড় যুদ্ধ, সাহস যোগাবার যুদ্ধ।

পত্রিকা, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সব জায়গায় শুধু ধর্ষিত হবার খবর। খুব ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল শক্তি সব শেষ।

থামলে চলবে কেন। খুব ভাবলাম। ধর্ষক একদিনে তৈরি হয় না । Literally ধর্ষিত না হলেও, “verbal abuse (পড়ুন rape)” খুব কমন। কম বেশি সবাই এই phase এ গিয়েছি বা যাচ্ছি। প্রতিবাদ হয়ত নিজের বেলায় খুব কম মানুষ করছি। হুমায়ূন আহমেদ এর “প্রিয়তমেষু” এর মত।

ছোটকালে বিবাহিত চরিত্রহীন “আত্মীয়র আদর্শ স্বামী” বা “আদর্শ আত্মীয়” দিয়ে abused হই নি বা হচ্ছি না , এমন নজির কম। অনেক ক্ষেত্রে মা- বাবা বিশ্বাস করলেও নীরব থাকেন। মেয়েকে সাবধানে থাকতে বলেই দায়িত্ব চুকিয়ে ফেলেন, বা বড়জোর ওই “আদর্শ আত্মীয়র” সামনে আর হয়ত যেতে দেন না। ওই potential pedophile rapist “আদর্শ স্বামী” বা “আদর্শ আত্মীয়” কিন্তু বিজয়ীর হাসি দিয়ে বাকি জীবন কারো না কারো সাথে এই কাজ চালিয়ে যান ( শোধরানোর কোন কারন দেখি না)।

কর্মক্ষেত্রে আপনি/ আমি নিরাপদ? না, এখানেও “verbal abuse” কমন। আপনার থেকে বয়সে দ্বিগুণ বস হয়তো লালসা থেকে বলবে “burn your bra”, প্রতিবাদ করতে চাইলে ক্রমাগত নোংরামি করা হবে। কমপ্লেইন করতে চাইলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলবে “কথা বাড়ালে আপনারই লস, উনি powerful, ওনার কিছু হবে না।“ সহকর্মীরা বলবে, “নারী স্বাধীনতা” এজন্ন্য  দায়ি”। লজ্জার ব্যাপার , যারা বলে তারাও নারী। এই যে নিরলজ্জের মত ১০০০ বছর আগে বাস করছেন এখনো, ঘিন্না লাগে না আপনাদের? Rape trauma syndrome কতটা ভয়াবহ সেটা victim ই জানেন। আপনি স্বান্তনা দিতে পারেন না, আপনার স্বান্তনা চাইও না, at least পাকনামি কইরেন না। আপনার পাকনামি আর  “নারী-স্বাধিনতা” বিরোধী উপদেশ আপনার কাছেই রাখেন। পুরো লাইফ traumatized , chronic depression এর রোগী তো আপনি হন নাই। খুব কষ্ট হয় যখন দেখি abused মানুষগুলোই আজীবন “অনুভূতি ভোঁতা” করার জন্য medicine নিয়ে যাচ্ছেন, রাতে ১/২ ঘণ্টা ঘুমের জন্য ও ওষুধ এর শরণাপন্ন হচ্ছেন। আর abuser রা successfully abuse করার খুশিতে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে তুলতে রাত ১১ টায় বালিশে মাথা রাখতে না রাখতেই সুখ নিদ্রায় তলিয়ে যাচ্ছেন।

আহা সেলুকাস। মানুষ করনি। হয় জোর প্রতিবাদ হবে, না হয় “ইতাক তোকে মানাইছে না রে, ইক্কেবারে মানাইছে না রে”, গাইতে গাইতে লোকালয় ত্যাগ করতে হবে।