হুতুমপেঁচা বলছি

মানুষ এবং টক্সিক সম্পর্ক

যোবাইদা ফাতেমাঃ মানুষের মাঝে টক্সিসিটি বেড়ে গিয়েছে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে। অধিকাংশ মানুষের মাঝেই দেখা যাচ্ছে অন্যের মতামত, কথাবার্তাকে নেগেটিভলি রিসিভ করে নেগেটিভ রিয়েক্ট করছে। এর ফলে সম্পর্কের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে এবং বাড়ছে অবিশ্বাসের মাত্রা।
এখন মানুষের মাঝে যেই প্রবণতা দেখা যায় সেটা হল নিজেকেই সবসময় সঠিক ভাবা, এবং নিজের মতই দুনিয়ার সকল কিছু হতে হবে এই মানসিকতা। তাদের চিন্তাভাবনা একটা জায়গায় আটকে থাকে, নতুন কিছু বা ভিন্ন কিছুকে গ্রহণ করার সহজাত মনোভাব থাকেনা। সহনশীলতা এবং পরমতসহিষ্ণুতার চর্চা প্রায় নেই বললেই চলে।
ব্যক্তির মাঝে ‘অন্য’ বা ‘অপর’কে খারিজ করার এই যে প্রবণতা সেটা হতে পারে আইডেন্টিটি ক্রাইসিস অথবা ইনফিরিওর কমপ্লেক্স থেকে।
এই ইনফিরিওর কমপ্লেক্স এর বীজ অবশ্য আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিতে একটি শিশুর নিত্যদিনের বেড়ে ওঠার মধ্যেই রোপিত হয়ে যায়। কেননা ব্যক্তি হিসেবে নিজের স্বকীয়তা ও স্বতন্ত্রতা এক্সপ্লোর করার সুযোগ পরিবার ও শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোর মাঝে একটা শিশু পায়না বললেই চলে। এই ব্যবস্থা আমাদের পারিবারিক ও শিক্ষার কাঠামোতে অনুপস্থিত। যদি কেউ পেয়ে থাকে তবে দেখা যায় জীবনের বিভিন্ন ধাপে নানা মানুষের বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্যের মাঝে, যার সাহায্যে সে হয়ত নিজেকে কিছুটা হলেও জানার এবং চেনার সুযোগ পায়।
আমাদের পরিবারে বাবা-মা এবং মুরুব্বীরা শিশুর পোশাক থেকে পেশা সবই ঠিক করে রাখে। এবং অন্য শিশুদের সাথে নেতিবাচক তুলনার মধ্য দিয়ে বড় হয়। যার ফলে তার মাঝে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়। এবং প্রাপ্তবয়স্ক হলে সেও তখন একই চর্চা শুরু করে, অন্যকে ছোট/ হেয় করে দেখা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, অন্যের জানাশোনা সর্বোপরি জ্ঞান, প্রজ্ঞাকেও খাটো করে দেখা…
পরিবারে যদি গঠনমূলক আলোচনা, নতুন মতামতকে নিদেনপক্ষে শোনারও প্রবণতা ও চর্চা থাকতো, তাহলে পরিবারের বাইরের জগতেও তার প্রতিফলন থাকতো পারতো। কিন্তু হায়!
যাই হোক, আমরা আবার কিউট বাঙালি! তাই আমাদের এইসকল সাংস্কৃতিক ঘাটতি নিয়ে গঠনমূলক কথাবার্তা বলতে/ আলোচনা করতে নারাজ। বরং কে কি করল তার ব্যবচ্ছেদ করা আমাদের জন্য অতীব জরুরী কাজ!!