সেলুলয়েডের গল্প

ভালবাসার কারনে ফাঁসি হয়েছিল যে ক্রিকেটারের

হিলটনই একমাত্র ক্রিকেটার যাকে ফাঁসি কাঠে ঝোলানো হয়েছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ফাস্ট বোলার নিজের স্ত্রী’কে গুলি করে হত্য়া করেছিলেন। হিলটন ১৯৩৪-৩৫-এ ‘রেস উইকেটস ইংলিশম্য়ান’-এর বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট সিরিজ খেলেছিলেন। অভিষেক টেস্টেই তুলে নিয়েছিলেন ১৩টি উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্যাপ পরে ছ’টি টেস্ট খেলে মোট ১৯টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ১৯৩৯ সালে হিলটন নিজের প্রথম শ্রেণির ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতি টানেন। এরপর সুপারভাইজারের চাকরি নিয়েই কেরিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন।

পরের বছরই লারলিন রোজের প্রেমে পড়েন হিলটন। জামাইকার এক পুলিশ ইনস্পেকটরের কন্যা ছিলেন লারলিন। শুরুর দিকে এ সম্পর্কটা দু বাড়ি থেকেই মানা হয়নি। দুই পরিবারের মৃল্য়বোধের বিস্তর ফারাকের জন্য়ই একাধিক আপত্তি উঠেছিল। রোজের পরিবারের কেউই হিলটনকে পছন্দ করতেন না। এমনকি রোজের বাবা হিলটনের  অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখার জন্য় পুলিশে খোঁজখবরও করেছিলেন। কিন্তু হাজারো বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে হিলটন ও রোজ ১৯৪২-এর শেষ দিকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পাঁচ বছরের মধ্য়েই রোজ একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সব ঠিকই চলছিল। কিন্তু ১৯৫৪-তে সম্পর্কের রসায়ন সম্পূর্ণ বদলে যায়।

নিজের পোশাক ব্য়বসার সূত্রে নিয়মিত নিউ ইয়র্ক যেতে শুরু করেন রোজ। সেবছর এপ্রিলেই  হিলটন বেনামে একাধিক চিঠি পেতে থাকেন। সেখানে লেখা হয় যে, ব্রুকলিন অ্য়াভিনিউর রয় ফ্রান্সিসের সঙ্গেই হিলটনের স্ত্রী-র অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। হিলটন তৎক্ষণাৎ টেলিগ্রাম করে ফিরে আসতে বলেন লারলিনকে।

 বেনামি চিঠিগুলি রোজের মা ও পরিবারের অন্যদেরও দেখিয়েছিলেন হিলটন। এসবের কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন লারলিনের বাবা। এদিকে লারলিন ফিরে এসে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব  অভিযোগ অস্বীকার করেন। ফ্রান্সিসকে নিছকই পরিচিত একজন বলেই ব্য়াখ্য়া দেন তিনি। সেসময় ‘ডেইল গ্লিনার’ এই ঘটনার রিপোর্ট ছাপিয়ে শিরোনাম দিয়েছিল, “দ্য় ম্যাটার ওয়াজ সেটলড ইন ট্রু ম্য়াট্রিমোনিয়াল ফর্ম।”

এখানেই বিষয়টি শেষ হয়নি। ফ্রান্সিসকে পাঠানো লারলিনের একাধিক চিঠি হিলটনের হাতে পড়ে, যা থেকে স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত হয়ে পড়েন তিনি। একদিন মাঝরাতে ঘুম থেকে স্ত্রীকে ডেকে তোলেন তিনি। উত্তেজনার মুখে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নেন লারলিন। জানিয়ে দেন, স্বামীর ওপর প্রথম থেকেই তিনি বিরক্ত। তাঁদের দুজনের রুচিও সম্পূর্ণ আলাদা। সে কারণেই ফ্রান্সিসের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন তিনি, ফ্রান্সিসও স্বামীর অভাব পূর্ণ করছেন। এরপরেই আসে চরম মুহূর্ত। স্ত্রীর উপর পরপর গুলি চালান প্রাক্তন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান পেসার। মৃত্যু হয় লারলিনের।

দুঁদে আইনজীবীদের সাহায্য নিয়েছিলেন হিলটন। আত্মপক্ষ সমর্থনে আদালতে বলেছিলেন, নিজের উপর গুলি চালাতে গিয়ে ভুলবশত স্ত্রীর উপর গুলি চালিয়েছেন। কিন্তু সে যুক্তি ধোপে টেঁকেনি। কারণ রোজের শরীরে মিলেছিল সাত সাতটি বুলেট। ১৯৫৫-র ১৭ মে হিলটনের সাজা ঘোষিত হয়।

এখনও পর্যন্ত হিলটনই একমাত্র ক্রিকেটার যাকে মৃত্য়ুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছস। হিলটনের ফাঁসির দিন বার্বাডোজের কেনিংসটন ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ টেস্ট চলছিল। ক্য়ারিবিয়ান ওপেনার জন হোল্ট সে সময় খারাপ ফর্মের মধ্য়ে দিয়েই যাচ্ছিলেন। ব্য়াটে রানের খরা তো চলছিলই। পাশাপাশি  ফিল্ডিং করতে গিয়েও বেশ কয়েকটি ক্য়াচ ফস্কান তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফ্য়ানেরা মাঠে যে ব্য়ানার নিয়ে এসেছিলেন তাতে লেখা ছিল,  “হ্য়াং হোল্ট, সেভ হিলটন।”

তথ্যসুত্রঃ উইকিপিডিয়া