মুক্তধারা

সাধারণের মাঝে অসাধারণ একজন আনোয়ারা আলম

আতাউল হাকিম আরিফ:  ফরিদা (ছদ্মনাম) স্বামী পরিত্যাক্তা নারী, মাথা গোঁজার ঠায় নিয়েছেন তুলাতলী বস্তিতে,অভাব অনটনে দিশেহারা এমন সময় মাতৃতুল্য আনোয়ারা আলমের সান্নিধ্যে এবং সহযোগিতায় প্রথমে কাজ শিখেছেন পড়ে চাকুরী পেয়ে আজ স্বাবলম্বী।ফরিদার মতো অনেকেই আনোয়ারা আলমের আনুকুল্যে আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন।পাঠক বুঝতেই পারছেন আনোয়ারা আলমের কথায় বলছিলাম,আনোয়ারা আলম-চল্লিশোর্ধ্ব বয়সী এক নারী। শরীরে নানাবিধ অসুখ বাঁধিয়েও অদ্যাবধি ক্লান্তিহীনভাবে অবিরাম ছুটে চলছেন,প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে কাজ করে যাওয়ায় যে তার আনন্দ। রাজনীতি, সামাজিক কর্মকাণ্ড, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সর্বক্ষেত্রে নিরলস কাজ করে যাওয়া একজন আনোয়ারা আলম নিঃসন্দেহে তার সমাজের জন্য অন্যরকম এক আলোকবর্তিকা স্বরূপ।

আনোয়ারা আলম

দারিদ্র্যতার মাঝে সংগ্রাম করে বেড়ে উঠা আনোয়ারা আলম কর্মজীবন শুরু করেন গার্মেন্টস সুইং অপারেটর হিসেবে,গার্মেন্টস এ চাকুরী করলেও তাঁর সহজাত ভঙ্গিমায় নিজ এলাকা তুলাতলী, ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমনটি বলা যেতে পারে নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ বন্ধ, মাদকের বিস্তার রোধে প্রতিবাদ করতেন দ্ব্যার্থহীনভাবে।তাঁর এই স্বভাবসূলভ গুণাবলীর প্রথম সন্ধান পাই উন্নয়ন সংগঠন ডিএসকে।গার্মেন্টস ছেড়ে ডিএসকে ‘র উন্নয়ন কর্মী হিসেবে কাজে যোগদান করেন।প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়ে তিনি উপরোক্ত কাজগুলো ছাড়াও পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পুষ্টি প্রচারণা সহ নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন।ক্রমেই তুলাতলী এলাকায় নারীদের আস্থার প্রতীকে পরিনত হন।

নারী সমাজের তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রাজনীতিবিদকেও তাঁর প্রতি আগ্রহী করে তোলে।আওয়ামী আদর্শকে ধারণ করায় তৎকালীন মেয়র মরহুম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সহ আওয়ামীলীগ নের্তৃবৃন্দ তাঁকে টেনে আনেন দলের মূল স্রোতে। ডিএসকে ‘র সাথে ৫ বছর কাজ করার পর ২০০৮-২০১৩ খ্রীঃ কাজ করেন ইউএনডিপি ‘র সাথে।পরবর্তীতে তিনি ব্রাক,ইপসা, ইমেজ সহ বিভিন্ন এনজিওর কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।তার অসাধারণ নেতৃত্ব গুণে মুগ্ধ হয়ে এনজিও, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন সবাই তাঁকেই টেনে নেয় স্ব স্ব কার্যক্রমে।ফলশ্রুতিতে তাঁর প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভূমিকায় কয়েক হাজার নারী-পুরুষ উপকারভোগী হয়েছেন।সেলাই প্রশিক্ষণ সহ নানাবিধ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এলাকার অনেক নারী-ই আজ স্বাবলম্বী, কাজ শেখার পাশাপাশি তাঁদের কর্মসংস্থান পাইয়ে দিতেও নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি, কাউন্সিলর আলহাজ্ব মোরশেদ আলমের সহযোগিতায় এলাকায় ছিন্নমূলদের জন্য গড়ে উঠেছে চারুলতা বিদ্যাপীঠ, সেখানেও তিনি ছিন্নমূলদের উদ্বুদ্ধকরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। ইউএনডিপি, ব্রাক,ইপসার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানে তাঁর অনবদ্য ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

তিনি ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সদস্য, স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য সংগঠন ইপসা-প্রয়াস-২ নারী দলের দলনেত্রী হিসেবে নগর ঝুঁকিহ্রাস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।অতি সম্প্রতি কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষিতে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষিত হলে তাঁর মাধ্যমে UNDP ১০০০ পরিবারকে ১৫০০/= টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। YPSA ‘ র মাধ্যমে সোপি ওয়াটার তৈরি ও বিতরণ এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ব্যাপক ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমেও নেতৃত্ব দেন। সামাজিক উন্নয়ণ কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাশীল এই নারীনেত্রী চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালন করছেন।

বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে তাঁর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার প্রেক্ষিতে সাবেক মেয়র মরহুম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহতাব চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন,মহিবুল হাসান নওফেল, নিজ এলাকার জনপ্রিয় কাউন্সিলর আলহাজ্ব মোঃ মোরশেদ আলমের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে রাজনৈতিকভাবেও নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছেন।কমিউনিটি পুলিশিং এ তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।এছাড়াও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন UNDP ‘ র হাউজিং সোসাইটির চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১ ওয়ার্ডের সভাপতি, ব্রাক UPP ও UDP ‘র সভাপতি, সমাজ সেবা-ইমেজের সভাপতি, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর কার্যক্রম বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য, চারুলতা বিদ্যাপীঠ এর উপদেষ্টা,নুরে মদিনা মহল্লা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ৪২ নং সাংঠনিক ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক।

আনোয়ারা আলম প্রসঙ্গে তুলাতলী এলাকার নারী সংগঠক নিশাত আক্তার পাখি বলেন- তাঁকে আমরা আন্টি বলেই ডাকি, তিনি আমাদের এলাকার মানুষের সুখেদুখে অত্যন্ত আপনজন, যখনি কেউ কোনো সমস্যায় পড়ে তিনি সর্বান্তকরণে ঝাপিয়ে পড়েন, এলাকায় নারীদের সংগঠিত করে তাঁদের জীবনমান উন্নয়ণেও ব্যাপকতর ভূমিকা রাখেন।তাঁর চরিত্রের অন্যতম গুণাবলী হলো তিনি সৎ, নিরংকারী ও নির্লোভ।আনোয়ারা আলম নিজেকে অতি নগণ্য আখ্যায়িত করে বলেন হয়তো বিধাতার ইচ্ছা, তাই তিনি আমাকে দিয়ে দরিদ্রপীড়িত সমাজে কিছুটা কাজ করিয়ে নিচ্ছেন।কাজ করার মধ্যেই যে আমি শান্তি খুঁজে পাই।