অনুরণন

স্বপ্নযাত্রার ভাঙ্গা সুর

এক

শফিক, মফস্বলের ছেলে। আলো বাতাসের দুরান্ত মাখামাখিতে বেড়ে ওঠেছে একটি শিক্ষক পরিবারে। সেই যুগের শিক্ষক, যে সময়টাতে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো শিক্ষকদের। ধন ছিল না, মন ছিল। অর্থ ছিল না, সততা ছিল। সে রকম একটি পরিবারে শফিকের বেড়ে ওঠা। নিদারুন টানাপোড়েনের মাঝেও সুখ ছিল। কেননা, এমন বাবা-মায়ের ছায়া তলে থাকা স্বর্গ সমান সুখ। একটা সময় শফিকের বয়স শফিককে জানিয়ে দিলো, একক ভাবে সক্ষমতা অর্জনের। সময় এলো স্বাবলম্বী হয়ে নিজেকে তৈরি করার। তাই শফিক ছুটে এলো যান্ত্রিক নগর দর্পনে। সম্পূর্ণ অচেনা এই শহর । এই প্রথম আসা ঢাকা শহরে। মধ্য দুপুর পেরিয়ে বিকাল যখন ছুঁই ছুঁই তখন শফিক পা রাখল। এখন সন্ধ্যা গড়িয়ে এলো। সন্ধ্যার আলোয় জ্বলে উঠল নগর জুড়ে অজস্র বাতি। লাল হলুদের বাতি শফিকের মনে বিস্ময় জাগালো।

এই শহরের কোথায় যাবে, কোথায় থাকবে, এক রাজ্য ভাবনা ভর করেছে শফিকের মনে। অচেনা শহর, অজানা পথঘাট। তাই বেশখানিকটা চিন্তা ভাঁজ করেছে শফিকের কপালে। ভয়ে ভয়ে ফোন করল ছোটবেলার বন্ধু হাবিবকে। রাশভারি গোছের ছিলো হাবিব। কথা বলে কম। হ্যালো, কে? জিজ্ঞাসা করতেই বললো, বন্ধু আমি শফিক। হ্যাঁ, বল। কি হয়েছে? কণ্ঠ শুনেই শফিক ঘাবড়ে গেল। কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে বললো, বন্ধু আমি ঢাকায়। ওওও, তাই। কখন এলি, এখন কোথায় তুই? আমি রাস্তায়। কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না। গম্ভীর স্বরে হাবিব বললো, ঠিক আছে আমার বাসায় চলে আয়। শফিকের শুকনো গলায় যেন কিছুটা পানি এলো। অজানা পথ হলেও অচেনা মানুষদের জিজ্ঞাসা করে করে বন্ধুর বাসায় এসে উঠল।

বেশ কিছুদিন বন্ধুর বাসায় সময় কাটাত লাগল। কী করবে তা ঠিক বুঝে উঠতে পারছেনা। বন্ধুর বাসায় দুই তিনদিন বিশ্রাম নিয়ে বের হলো চাকরির সন্ধানে। হঠাৎ শফিকের চোখ আটকে গেল শহরের দেয়াল জুড়ে অজস্র লোভনীয় চাকরি সংবাদে। এই সংকটের বাজারে যেন চাকরি উল্টো মানুষ খুঁজছে! মফস্বল থেকে আসা শফিকের কাছে এটি আরও বিস্ময়কর! দোকান থেকে কাগজ কলম কিনে শফিক হেঁটে হেঁটে অনেকগুলো মোবাইল নাম্বার ঠুকে নিলো

বাসায় ফিরে বেশ কয়েকটি নাম্বারে কথা হলো। সকাল হতেই শফিক বেরিয়ে গেল। নাম্বার থেকে পাওয়া ঠিকানা খুঁজে খুজে বের করলো। এই ভাবে মাসখানেক চলতে লাগল। এর মধ্যে দুই একটি চাকরি পেলেও মন মতো না হওয়ায় চাকরি আর করলো না। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত খুঁজতে লাগল চাকরি। হঠাৎ এক অফিসে গিয়ে মিলে গেল সোনার হরিণ। সবকিছু ঠিকঠাক। আজকের রাতটি পোহালেই যেন সকালটি এক নতুনের। জামানত বাবদ পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। শফিক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে তার কাছে থাকা দুই হাজার টাকায় ম্যানেজ করলো।

বাসায় ফিরে বন্ধুসহ একসাথে রাতের খাবার খেল। চাকরির বিষয়টা কী যেন মনে করে শফিক বন্ধুর কাছ থেকে গোপন রাখল। হয়ত মনে মনে ভেবেছিল চাকরিটা পেয়েই বন্ধুকে জানাবে সুখবরটি।

সুখ নিয়েই রাতে ঘুম ঘুমাতে গেল। সকালে ঘুম থেকে উঠেই ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি নিতে শুরু করলো শফিক। ব্যাগ থেকে বাছাই করতে শুরু করলো অপেক্ষাকৃত ভালো জামা প্যান্টটা। শফিক ছোটবেলা থেকেই সহজসরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত। পোশাকিভদ্রতা বলতে আধুনিক সমাজব্যবস্থায় যেটা বুঝাই শফিক তার থেকে একটু ভিন্ন। সে সবসময় সুন্দর মনের চর্চা করলেও সুন্দর ও দামী পোশাকআশাক নিয়ে কখনো ভাবেনি।

সকালের নাস্তাটা মুখে তুলে তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে গেল। বন্ধুর বাসা থেকে কর্মস্থলের অবস্থান হাঁটা পথে ৩০ মিনিটের পথ। শফিক হাটা শুরু করলো……

অফিসের সামনে জটলা দেখে শফিক হঠাৎ একটু ঘাবড়ে গেল। কাঁপা কাঁপা পায়ে এগিয়ে গেল। জটলা বাঁধা সব লোকগুলো তার মতো স্বপ্নযাত্রা শুরু করতে এখানে এসেছিল। এসে দেখে অফিসে তালা ঝুলছে। খবর নিয়ে জানা গেল এটি একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান। সবার টাকা নিয়ে পালিয়েছে।

শফিকের উচ্ছ্বসিত মনটা নিমিষেই হারিয়ে গেল অজানা এক শংকায়। সামান্য যে কয়টা টাকা ছিল তাও গেল! তবে সবার সাথে কথা বলে শফিক মনে মনে কিছুটা সান্তনা পেল। কারণ জটলা বাঁধা সবাই শফিকের চেয়েও অনেক বেশি টাকা দিয়েছিল স্বপ্নযাত্রার টিকিট কিনবে বলে!

স্বপ্নজাল ছিঁড়ে হারিয়ে গেল সুখ পাখিটা। হতাশ মনে হাঁটতে লাগল। উদ্দেশ্য কোথায় তা জানা নেই শফিকের।

হাঁটতে হাঁটতে চোখ আটকে গেল একটি সাইনবোর্ডে। বড় বড় করে লেখা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। হতাশ মনটি জেগে উঠলো আনন্দে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার প্রিয় একটি জায়গা। ছোট বেলা থেকেই শফিক তার এলাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দেখাশোনা করতো। সমন্বয়কারী হিসাবে অনেক বছর শফিক বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করেছে। এই আলোকিত রাজ্যের বাসিন্দা হয়ে শফিক নিজেকে অনেকখানি বিকশিত করেছিল সৃজনশীলতায়। একসময় সকাল থেকে রাত অব্দি সময় কাটতো বিসাকে।

শফিক আর দেরি না করে ছুটে গেল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে। বইয়ের গন্ধে চারপাশ মু মু করছে। বিস্ময় জাগানিয়া মনে সবদিক তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। সবাই অপরিচিত। তবে চেনা মুখও অনেক। অনেক লেখক, শিল্পী, অভিনেতাদের উপস্থিতি শফিককে মুগ্ধ করেছে।

এই ভীড়ের মাঝে শফিকের জোড়া চোখ কাকে যেন খুঁজছে! হঠাৎ পিছন থেকে শফিকের কাঁধে হাত। শফিক অনেকটা লাফিয়ে উঠল। ভাবলো এই অচেনা ভীড়ের মাঝে কে তাকে স্পর্শ করলো! পিছনে ফিরে দেখে সুমন ভাই। স্বস্তি পেল শফিক। সুমন ভাই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একজন। সুমন ভাই বেশ কয়েকবার শফিকদের এলাকায় গিয়েছিল বিসাকের কাজে। সেখান থেকে পরিচয়। এবং প্রায় সময় মোবাইলে কথা হতো বিসাকের প্রয়োজনে দু’জনের মধ্যে।

সুমন ভাইকে শফিক সব খুলে বললো। সুমন ভাই শফিককে নিয়ে গেল সায়ীদ স্যারের কাছে। স্যার সব শুনে একটি চিঠি লিখে পাঠালো একজনের কাছে।

দুই

একদিন বিকালে শফিক বন্ধুর বাসায় ফিরে দেখে বন্ধুর স্ত্রীর মনটা ভীষণ খারাপ। গম্ভীর গলার স্বর। ভাত খেতে ডাকলো, কিন্তু কন্ঠস্বরটা অপরিচিত লাগল। এই কয়দিন যে আন্তরিক ভরপুর কন্ঠ ছিলো তা আজ নেই। শফিকের মনে বিষয়টা ধাক্কা দিলো। বন্ধুর স্ত্রী স্নিগ্ধাও শফিকের বন্ধু। হাবিব ও স্নিগ্ধা প্রেম করে বিয়ে করেছিল। তারা যখন প্রেম করছিল তখন থেকেই শফিকের সাথে স্নিগ্ধার পরিচয়। সম্পর্কটা এক পর্যায়ে তুইতোকারিতে চলে যায়।

শফিক বিষয়টা জানতে চাইল। স্নিগ্ধা সব খুলে বললো শফিককে। সব শুনে শফিকের ভীষণ মন খারাপ হলো। শফিক কিছু না বলেই গন্তব্যহীন ভাবে ঘর থেকে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে গেল। কোথায় যাবে জানে না। দেয়ালে টু লেট দেখে দেখে ফোন দিলো। কিন্তু ভাঙ্গা মাসে কেউ মেস এ তুলতে রাজি নয়। অনেক ঘোরাঘুরির পর একটা আশ্রয় পেল। শফিকের কাছে সব শুনে মেস মেম্বাররা আর এডভান্স নিলো না।

পকেটে টাকা নেই। কোথায় পাবে টাকা? সে প্রশ্ন বেশ জেঁকে বসেছে শফিকের মনে। শফিক তার সাথে চলমান ঘটনার কোনটাই পরিবারের সাথে শেয়ার করেনি। কারণ ঢাকা শহরে আসার সময় পরিবারকে বলে এসেছে সে একটা চাকরি পেয়েছে, তাই ঢাকা যাচ্ছে।

টাকা আর চাকরির চিন্তায় শফিকের মনটা বেশ অস্হির থাকে সবসময়। মেস এ খাবারের টাকা দিতে পারবে না বলে শফিক সকালেই বের হয়ে যেত কাজ আছে বলে। চলে যেত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আবার কখনো কখনো শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরিতে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শফিকের সময় কাটতো সেখানে বইয়ের মাঝে।

প্রায় রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে যেত। মধ্য রাতে ক্ষুধায় ঘুম ভেঙ্গে যেত। পানি খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ত। মেস মেম্বার হেলাল তা খেয়াল করে। হেলাল পড়াশোনা করছে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। বড় লোকের ছেলে। শফিকের কাছে সব খোলসা করে জানতে চাইল।

শফিকের কাছ থেকে হেলাল সব শুনে বললো- আপনি আজ থেকে আমাদের সাথে মেস এ খাবেন। যখন ইচ্ছে তখন টাকা দিবেন। হেলাল এই সিদ্ধান্ত সবাইকে জানিয়ে দিলো। সব মেস মেম্বার সায় দিলো।

তিন

শুরু হলো কর্মময় জীবন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেল শফিক। একসাথে মিলিত হলো অনেকগুলো মানুষের স্বপ্ন বুনন, স্বপ্নের পথচলা। শফিকের বাবা-মায়ের কোন চাহিদাপত্র ছিল না শফিকের কাছে, আজও নেই। প্রত্যাশা ছিল তাদের একটাই-ছেলে যেন ভালো থাকে। বরং শফিকের বাবা তাকে শিখিয়েছে জীবনের এক দারুণ মন্ত্র- “জীবনের অর্থ না বুঝে যে জীবন অর্থের পিছনে ছুটে বেড়ায় সে জীবন অর্থহীন”।

কর্মময় জীবনে অনেক গুলো মানুষ একে অপরের সারথী ছিলো। অনেকটা মোহের ঘোরে কেটে যেতে লাগলো সময়গুলো। হঠাৎ এলো ছন্দপতন। শফিকরা একসাথে ১২ জনের একটি দল চাকরিতে জয়েন্ট করে। কিন্তু, একটি অংশ আবার চলে গেল অর্থের মোহে নতুন কর্মে। শফিক রয়ে গেল ভালোবাসার মোহে। কেননা, এক থেকে দশ তলার প্রতিটি সিঁড়িতে রচিত হতো শফিকদের কষ্টে অর্জিত ভালোবাসা। তাই ছেড়ে যেতে পারিনি নতুনের খোঁজে।

চার

শফিক ছোটবেলা বেলা থেকে পারিবারিক বলয়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হয়েছে। শিক্ষক বাবা শফিকদের প্রতিটি ভাইবোনদের বড় করেছে সৃজনশীলতা দিয়ে। অভাবের সংসারেও আনন্দ ছিলো অন্যরকম। এমনও দিন ছিলো পেটপুরে খেতে পারেনি শফিকরা, যখন শফিকের শিক্ষক বাবা নীতি বিসর্জন দিতে না পেরে শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়েছিলেন। সে সময়ের কেটে যাওয়া এক একটি দিন ছিলো বিষাদময়। বিশাল পরিবার, কোথায় পাবে এতো মানুষের খাবার, পোশাকআশাক! তবুও শিক্ষক বাবা নীতি আদর্শে অটল ছিলেন।

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শফিক ও তার পিটা পিটি দুই বড় ভাই পড়াশোনা করেছে ভীষণ কষ্টে। প্রথম মাস ছয় কেটে যেত স্কুলে ভর্তি ছাড়া। প্রথম সাময়িকী পরীক্ষা দিতে পারতো না তারা, ভর্তি ও স্কুলের মাসিক বেতন দিতে না পারায়। নতুন বই কেনা হতো না কোন বছর। বাবা শিক্ষক ছিলেন, তাই পরিচিত দুইটা লাইব্রেরি থেকে বই এনে সারারাত খাতায় লিখে সকাল হলেই বই ফেরত দিতো। এই ভাবেই শফিকরা পড়াশোনা করেছে।

এত অভাবের ভিতরও মনের সৃজনশীলতা নষ্ট হয়নি। শফিকের প্রতিটি ভাই বোন রাজনীতি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। শফিকও সে মানসিকতা নিয়ে বড় হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত। এখনো আছে।

কথায় বলে- ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙ্গে। শফিকের বেলাতেও তাই। চাকরির কিছুদিন না যেতেই ঢাকায় জড়িয়ে পড়ে বেশ কয়েকটি সংগঠনের সাথে। গড়ে তোলে নিজেই একটি সংগঠন। সে সংগঠনের অভিষেক অনুষ্ঠানে বন্ধু হাবির ও স্নিগ্ধা নিয়ে এলো শারমিনকে। শারমিন স্নিগ্ধার খালাতো বোন। অনুষ্ঠানে শফিকের সাথে শারমিনের প্রথম পরিচয়।

শফিক আবার আসাযাওয়া শুরু করলো হাবিবের বাসায়। শারমিনের সাথে আড্ডা হতো, কথা হতো। হয়ে গেল মনের আদান-প্রদান। অল্প কয়েকদিনের পরিচয় ও সম্পর্কের সূত্র ধরে শফিক ও শারমিন পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করে ফেললো।

বিয়ে হলো ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখ। তখন শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর রাজাকারদের ফাঁসির দাবীতে উত্তাল। শফিক শুরু থেকেই সক্রিয় শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে। কন্ঠে তেজোদ্দীপ্ত সে শ্লোগান- জয় বাংলা, ক তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার, তুই রাজাকার।

৫ তারিখ যখন গণজাগরণের সূচনা লগ্ন তখন থেকেই শফিক নিজেকে জড়িয়েছে দেশপ্রেমের মন্ত্রে এই আন্দোলনে। তখন বিকাল। কাদের মোল্লার প্রতি আদালতের নমনীয় রায়ে বিক্ষুব্ধ হতে শুরু করলো ছাত্র – জনতা। শাহবাগের গোল চত্বরে হাতেগোনা ২০/২৫ জন জমায়েত হয়ে এই রায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন করতে শুরু করলো। শফিকও সে ২০/২৫ জনের একজন। আস্তে আস্তে এই খবর ছড়িয়ে পড়তে লাগল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দল বেঁধে আসতে লাগল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তখনও ইমরান এইচ সরকার জানতে পারেনি এই আন্দোলনের কথা। রাতে এসে যোগ দেয় তিনি।

শফিক তার সদ্য বিয়ে করা স্ত্রীর নতুন হাত ধরে প্রতিদিন আসতে লাগল গণজাগরণ মঞ্চে। কোনকোন দিন তারা দুজনে রাত কাটিয়ে দিয়েছে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে। দিনে অফিস, রাতে শাহবাগ। এভাবেই চলছে শফিকের নতুন জীবন।

পাঁচ

চাকরিতে বছর দুয়েক হতো লাগল। তখন ছিল শফিকের উপর শুধু দু’পায়ের নির্ভরতা। বছর দুয়েক পর যোগ হলো আরও দুটি পা। শফিকের উপর দায়িত্ব এসে গেল শারমিনের৷ বিয়ের দুই তিন বছরের মাঝে যুগলবন্দী জীবনের সংমিশ্রণে জন্ম নিলো একটি কন্যা সন্তান।

নির্মিত হলো একটি মধ্যবিত্তের গল্প। বেশ কিছুদিন সুখ ছিল সে পরিবারে। কিন্তু, সে সুখ সময়ের প্রয়োজনে, নিষ্ঠুর বাস্তবতার কাছে হারিয়ে যেতে লাগল। প্রতিনিয়ত সামান্যতম জীবনের প্রয়োজনে তৈরি হতো নতুন নতুন গল্প। মুঠোফোনের বদৌলতে কর্ম থেকে বাসায় ফেরার পথে জানিয়ে দেয়া হতো সংসারের চাহিদাপত্র। পকেট শূন্য, তাই অধিকাংশ সময় চাহিদাপত্রের বিপরীতে থাকতো শূন্য হাত। সেই সুখের বদলে প্রতিদিন রচিত হতো মান।

লেখকঃ সাইফুর রহমান শাকিল