মুক্তধারা

করোনা পরবর্তী দানবীয় রূপটায় কী দেখতে পাবো?

আতাউল হাকিম আরিফঃ হতাশা এবং আতঙ্কে টালমাটাল পৃথিবীর মানুষ। চরম অসহায়ত্বে হাপিত্যেশ করছে! কোথাও যেনো এতটুকু সস্তি নেই, হাসি-আনন্দ মিইয়ে গেছে।কেউ কারো বাড়ীর পা মাড়াচ্ছেনা,আত্মীয়-স্বজনের সাথে শুধুমাত্র মুঠোফোনেই যোগাযোগ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।সামাজিক অনুষ্ঠান নেই,খেলাধুলা নেই এমনকি কেউ অসুস্থ হলে কিংবা মারা গেলেও পরিচিত কেউ তো দূরের কথা রক্তের সম্পর্কের আপনজনরা দূরে সরে থাকে! জানিনা,কখন করোনা পরিস্থিতি থেকে পৃথিবীর উত্তোরণ ঘটবে।এখন পর্যন্ত আশাপ্রদ কোনো সু-সংবাদ নেই।কিন্তু আমাদের চলতে হবে এবং চালিয়ে নিতে হবে!বাঁচার জন্য জীবিকা নির্বাহ করতে হবে পাশাপাশি শারিরীক,মানসিকভাবেও নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে, এটিই বাস্তবতা।

এই মুহুর্তে নাম মনে পড়ছেনা,একজন মনিষী বলে গেছেন ” করোনা পরবর্তী পরবর্তী পৃথিবী হয়তো অত্যন্ত মানবীয় নতুবা অত্যন্ত দানবীয় হয়ে উঠবে” আমিও সেটাই বিশ্বাস করি। পেন্ডামিক কোভিড- ১৯ বিশ্ববাসীকে অনেক কিছু শিখিয়েছে যেমনটি বলা যেতে পারে মানুষ নিজেকে যতই শক্তিশালী ভাবুক বাস্তবিক অর্থে প্রকৃতির কাছে সে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য,অর্থাৎ তাঁর অহংকার করার কিছুই নেই।ধন-সম্পদ সবকিছুই নিতান্তই ক্ষণস্থায়ী।অর্থ দিয়েও অনেক কিছু সম্ভব নয়! দ্বিতীয়ত মানুষ আরো বুঝতে পেরেছে সময়ে আপনজনও কতটা দূরে সরে যেতে পারে।এছাড়া মানুষের আরেকটি বড় উপলব্ধি হলো মানুষ বুঝতে পেরেছে বিগত দিনে প্রকৃতির উপর তারা প্রচণ্ড অনাচার করেছে।লকডাউনের প্রেক্ষিতে বায়ুদূষণে কবলিত পৃথিবীর বিবর্ণরূপ আবার সতেজতা ফিরে পেয়েছে।নিজের সুস্বাস্থ্যের প্রতি মানুষের যেমনটি গুরুত্ব দিতে হবে তদ্রূপ প্রকৃতির প্রতিও সদয় হতে হবে।

লেখকঃ আতাউল হাকিম আরিফ

অন্যদিকে চরম বাস্তবতা হলো-করোনার প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী চরম অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে,শতকোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে,দারিদ্রতার অভিশাপে জর্জরিত হয়ে মানুষ হয়তোবা লুটতরাজের মতো গহির্ত কাজেও জড়িত হয়ে পড়বে।এতে মানুষের দানবীয় রূপটায় হয়তো প্রকট হবে। সময়-ই নির্ধারণ করবে কোভিড-১৯ অর্থাৎ নোভেল করোনা ভাইরাস পৃথিবীতে কতদিন স্থায়ী হবে, করোনা পরবর্তী পৃথিবী কেমন হবে কিংবা আদৌ আমরা বেঁচে থাকবো কিনা!তাই সবকিছুতেই একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা আবশ্যক।সেটি ব্যক্তি,পরিবার,সমাজ এবং রাষ্ট্র সর্বত্র।আমাদের ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী অনেক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিছুকিছু সফলতার পাশাপাশি ব্যার্থতাও আছে।প্রধানমন্ত্রীর সব সিদ্ধান্ত সমূহ মাঠ পর্যায়ে যথাযথ বাস্তবরূপ লাভ না করায় অর্থাৎ ব্যক্তি পর্যায় থেকে সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমাদের অসচেতনতায় এটিকে ব্যার্থ করার অন্যতম নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।এতে মাঠ প্রশাসনের দায়ভার কম না।

আমাদের সামনে দুটি চ্যালেঞ্জ- একদিকে করোনার আগ্রাসী অবস্থানকে ঠেকানো অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিকেও সচল রাখতে হবে।ঘোষিত সাধারণ ছুটি শেষ হয়েছে প্রায় ১ মাস হতে চললো, এখনো জনজীবন এক অর্থে স্থবির হয়ে আছে,কেননা সাধারণ ছুটি শেষ হলেও করোনার আগ্রাসী রূপ কমেনি বরং দিনদিন বেড়েই চলেছে।কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বর্তমান সময়কালকে করোনার পিক টাইম বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন অনেকে আবার আগামী কয়েকমাস আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে বলে ধারণা করছেন। এমতাবস্থায় মোটাদাগে আমাদের কিছু প্রস্তুতি দরকার, এই প্রসঙ্গে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়- আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ থেকে ১০/১১ বছর আগে যদি ডিজিটাল বাংলাদেশের অঙ্গীকার না করতেন- আজকের এইসময়ে আমরা কোথায় গিয়ে ঠেকতাম তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি? বর্তমান সরকার তথ্য প্রযুক্তিকে এগিয়ে নেয়ার প্রেক্ষিতে আজ অফিস, আদালত থেকে শুরু করে শিক্ষা ব্যবস্থায় ভার্চুয়াল কার্যক্রম আশা জাগানিয়া সফলতা দেখিয়েছে।এটি মূলত হলো আগাম পরিকল্পনার সফলতা।

ভবিষ্যত বিবেচনায় এমনি কিছু যুগান্তকারী পরিকল্পনা আমাদের নিতে হবে।স্বাস্থ্য, চিকিৎসা,শিক্ষা থেকে শুরু করে সর্বত্র চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা তরান্বিত করতে হবে পাশাপাশি আমাদের দেশের শ্রমজীবি মানুষদের কর্মসংস্থানে কার্যকর প্রদক্ষেপ নিতে হবে।এই ব্যাপারে দেশের শিল্পপতি থেকে শুরু করে এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে বসে সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।মধ্যপ্রাচ্যে সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লক্ষ দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রকট, ইতোমধ্যে অনেকে আসতে শুরু করেছে তাঁদের ব্যাপারেও গ্রাম-মফস্বল পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুগান্তকারী উদ্যোগ বা পরিকল্পনা নিতে হবে।আর এইসব কিছুই সম্ভব সমস্ত মতভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে।আর যদি সেটি সম্ভব না হয় আমরা হয়তো দানবীয় রূপটায় দেখতে পাবো!