মুক্তধারা

আত্ননির্ভরশীলতা এবং আত্নসম্মান বোধ

সুমাইয়া নাহারঃ আত্ননির্ভরশীলতা এবং আত্নসম্মান বোধ দুইটা জিনিস ই একান্ত ব্যক্তিগত সম্পদ। কেও ভাগ বসাতে আসবে না বা কাও কে ভাগ দেয়ার জন্য বাধ্য করা ও যায় না।

যেমন,ধরুন আমার বয়স দশ । অনেক চা খেতে মন চাচ্ছে। বাসার সবাই ব্যস্ত বা বিশ্রাম এ আছে। আমি নিজে ই চা টা বানিয়ে খেলাম। এই যে নিজে চা টা বানিয়ে খেলাম এটা আত্ননির্ভরশীলতা আর কেও কে যে আমি বিরক্ত করি নি বা জোর করি নি আমাকে চা বানিয়ে দিতে এটা আমার”আত্নসম্মানবোধ”। তবে হ্যা এই বোধ গুলি জন্মসুত্রে কেও পায় ,কাও কে বলে/শিখিয়ে বোঝাতে হয়।

বিলেতে পড়তে গেলাম,এক বাংলিশ এর বাসায় সাবলেট ছিলাম। বাংলিশ লিখলাম কারন তারা বাংলাদেশে র মানুষ ,ওখানে যেয়ে সেটেল হয়েছে । দুই মেয়ে আমার চরম ভক্ত হয়ে গেলো । একজন এর বয়স চার অন্যজন এক। তাদের সবার আচরন,জীবন বিধি লক্ষ করতে লাগলাম। চার বছর বয়সী মেয়ের রুম ভিন্ন। ডুপ্লেক্স বাসা,মাঝে মাঝ ই তাদের মা সিড়ির কাছে দাড়িয়ে বলে” সাবিহা,রুম ক্লিন করে নিচে চলে আসো ” । সত্যি সে তাই করে।

প্রতিদিন সকালে নামাজ শেষ করে তাদের বাবা ব্রেকফাস্ট রেডি
করে,নিচে থেকে ডাকে ” sabiha it’s school time” বাচ্চা নিজে ইউনিফরম পরে নিচে চলে যায়। নিজ হাতে খায়,খাবার আগে বিসমিল্লাহ বলতে হয় সাবিহা,বাবা বলেন। মা অন্য বেবি টার সাথে ঘুমায়। নয় টায় ঘুম থেকে উঠে শুধু মেয়ে বাবা স্কুল এ যাবে তাই আল্লাহ হাফেয সাবিহা,বলার জন্য।
স্কুল থেকে ফিরে মা এর সাথে মুখে মুখে কোরআন এর শেষ পারার ছোট ছোট সুরা মুখস্ত।

প্রতিসপ্তাহে তাকে একদিন পিটানো হতো। ছোট বোন কে পর্যাপ্ত আদর না করা বা একটু চুল টানার অপরাধে। কান ধরে ছোট বোন কে “sorry ” বলতে বাধ্য করা হতো।
সাধারনত ইউরোপ এর দেশ গুলিতে পনেরো বছর এর পর থেকে বাচ্চাদের কে পকেট মানি আর দেয়া হয় না। পার্ট টাইম কাজ করে তারা ম্যনেজ করে। তাদের সবার বাবা মা যে গরিব তা নয় বরং তারা চায় ছোট থেকে ই সন্তান গুলি আত্ননির্ভরশিল হোক। আত্ননির্ভরশীলতা তাদের মাঝে আত্নসম্মানবোধ এর বীজ বুনে দেবে। লোভ সংবরন করতে শেখাবে,অন্যের শ্রম কে মুল্য দিতে শেখাবে।

লন্ডন আমি স্নাতোকত্তর করতে গিয়েছিলাম। পুরো বছর এর কোর্স ফিস বাবা দিয়ে দিলেন। কিন্তু প্রতি মাসে যে আমার বাসা ভাড়া এবং অন্যান্য খরচ বাবাদ লাগে আশি হাজার বাংলাদেশি টাকা। প্রথম দুই মাসের সে টাকা ও বাবা দিয়েছিলেন। তারপর থেকে নিজে পড়াশোনা র পাশাপাশি পার্ট টাইম কাজ করে নিজের যা শখ বিলাসিতা সব পুরন করেছি। আলহামদুলিল্লাহ
শুনেই আতকে উঠে নিচু মনের কিছু মানুষ বলবেন,”কেমন বাবা মা সন্তান কে চাকরি করায়ে করায়ে পড়িয়েছে?
কেও বলবে আমার বাবা গরীব,কেও বলবে আমার বাবা কৃপন।
না,এসব এর কোন টা ই নন আমার বাবা। বরং আমি একজন আত্ননির্ভরশিল এবং আত্নসম্মানবোধ সম্পন্ন মানুষ। সে আত্নসম্মান বোধ আমাকে বাধা দেয় বরাবর কার ও কাছে কিছু চেয়ে নিতে বা জোর করতে। বিবাহিত জীবনে কোনদিন হাসব্যন্ড এর কাছে থেকে কিছু চেয়ে নিয়েছি মনে পড়ে না,জোর করার প্রশ্নই আসে না। বরং যতটা পেরেছি সহযোগী হয়েছি।

আমাদের দেশের তথ্যমন্ত্রির বোন ছিল আমার সহপাঠী ,সে ও জব করতো,রাজশাহী ক্যডেট কলেজ এর প্রিন্সিপাল এর মেয়ে ছিল আমার সহপাঠী সে ও জব করতো । আওয়ামী লিগ এর নব্বই এর দশক এর প্রথম সারির একজন নেতার ছেলে,ব্যারিস্টার আহ সান হাবিব,তার স্ত্রী আমার সহপাঠী তাই শুনেছি,উনি নিজে ও অনেক টক শো তে বলেছেন জব করে ই উনি লিখাপড়া করেছেন বিলেতে। বরং সময় এবং মেধার সমন্বয় লাগবে সেখানে মিড লেভেল জব করতে। প্রতিদিন নিজের মেধাকে প্রমান করতে হয়।
বোঝা ই যাচ্ছে খুব একটা সাধারণ পরিবারের সন্তান রা বিলেত যান না। বিদেশ এ শুধুমাত্র অর্থকস্টে মানুষ জব করে,এমন ধারনা থেকে বের হয়ে আসার উচিৎ ।