মুক্তধারা

মাতৃভূমি ‘র প্রতি ভালবাসা নিবেদন করছি

আতাউল হাকিম আরিফঃ আজ আমি কিছু লিখছি মাতৃভূমি সামাজিক সংগঠন নিয়ে,লিখাটি মূলত লিখছি আবেগ ও ভালবাসা থেকে।সালটি সম্ভবত ১৯৯৮ কিংবা ৯৯ খ্রীঃ ভোরের কাগজ পাঠক ফোরাম এবং মাতৃভূমি সামাজিক সংগঠন এর যৌথ উদ্যোগে সীতাকুণ্ড হাই স্কুল মাঠে বৈশাখী মেলার আয়োজন করে। ভোরের কাগজ পাঠক ফোরামের সদস্য সচিব হিসেবে প্রথম বৈশাখী মেলায় আমাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়।বন্ধু ইকরাম রানাও অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেন।বৈশাখী মেলার কিছুদিন আগে মাতৃভূমির আত্মপ্রকাশ ঘটলেও প্রথম স্বার্থক কোনো আয়োজন মূলত এই বৈশাখী মেলার মধ্যে দিয়ে।তৎকালীন জাতীয় সংসদ সদস্য এবিএম আবুল কাশেম মাষ্টার ও সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক (বর্তমান সভাপতি) আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে অত্যন্ত উৎসবমুখর এই বৈশাখী মেলার সূত্রপাত হয়। মাতৃভূমির পক্ষে সেদিন সাকিল,শিপলু,আলমগীর, রবিন, মানস, পিকলু,কমল,ইলা,বুবলি, রণধীর, সূর্য সহ অনেককেই দেখেছি অত্যন্ত সংক্রিয় কর্মী হিসেবে ।

ছবির প্রধান তিনজন ব্যক্তির বামে লেখক ও কবি আতাউল হাকিম আরিফ

একঝাঁক নিবেদিত প্রাণ কর্মীর ধারাবাহিক বিচরণে মাতৃভূমির অগ্রযাত্রা সীতাকুণ্ডের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শুধুমাত্র প্রাণের সঞ্চারই ঘটাইনি রীতিমতো বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।প্রথমবার ভোরের কাগজ পাঠক ফোরামের সাথে যৌথভাবে একদিনব্যাপী বৈশাখী মেলার সূচনা পরবর্তীতে প্রায় একযুগব্যাপী মাতৃভূমি সামাজিক সংগঠন কখনো ৩ দিন,কখনো ৫ দিনব্যাপী ধারাবাহিক ভাবে বৈশাখী মেলার সফল আয়োজক।সীতাকুণ্ডের সর্বস্তরের সংগঠনগুলোকে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে আয়োজিত বৈশাখী মেলার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপিত হয়।মাতৃভূমি আয়োজিত বৈশাখী মেলায় বিভিন্ন সময় অতিথি হয়ে আসেন অনেক দেশবরণ্য ব্যক্তিবর্গ।হয়তো সবার কথা আমার এই মুহুর্তে মনে নেই, যাদের কথা মনে পড়ছে তারা হলেন ড.জাফর ইকবাল, সুলতানা কামাল,কথা সাহিত্যিক শেলীনা হোসেন,ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক,আহমেদ মাযহার,সংগীত শিল্পী, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা,কুমার বিশ্বজিৎ,আব্দুর রহমান বয়াতী,নাট্যশিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার,খাইরুল আলম সবুজ,শিরিন বকুল,সাংবাদিক মুন্নী সাহা প্রমুখ। সীতাকুণ্ডের বরণ্য রাজনীতিবিদ, সংগঠকদের উপস্থিতিতো ছিলোই। প্রতিটি মেলা অগনিত মানুষের সমাগমে প্রাণের উৎসবে পরিনত হয়।

বৈশাখী মেলাই শুধু নয় বসন্ত উৎসব,মধুমাসের ফল উৎসব,পিঠা উৎসব,জাতীয় পতাকা উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, জোৎস্না উৎসব, স্বদেশ বোধের চেতনায় না শব্দের প্রচারণা সহ বহুমুখী উৎসবের সূচনা করে মাতৃভূমি সামাজিক সংগঠন।মাতৃভূমির বসন্ত উৎসবে একবার ফকির আলমগীরের উপস্থিতির কথা মনে পড়ছে। শিক্ষার গুনগত উৎকর্ষ সাধনেও মাতৃভূমি সামাজিক সংগঠন স্কুল ভিত্তিক বৃত্তি প্রদান করেছিল বেশ কয়েক বছর।সম্প্রতি “মাতৃভূমি” আয়োজিত কয়েকটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য আ ম ম দিলশাদ জেলা পরিষদের পক্ষে বেশ কটি স্কুলকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদান করেন। এছাড়াও মাতৃভূমি সামাজিক সংগঠন আরো অনেক ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বিশেষ করে বিভিন্ন দিবস ভিত্তিক অনুষ্ঠান,বিভিন্ন ধরনের সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা মূলক অনুষ্ঠান, চন্দ্রমনি সাহিত্য পদক প্রদান ইত্যাদি।কিন্তু মাতৃভূমির এই অগ্রযাত্রা সু-বিস্তির্ণ কিংবা সু-মশ্রিন ছিলোনা কখনোই।

আমি যতটুকু জেনেছি এবং দেখেছি মাতৃভূমি সংগঠনটি তাঁদের দুই যুগের জার্নিতে অনেক বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছে,কিন্তু তারুণ্যের উদ্দীপ্ত শক্তি ও সাহসিকতায় তাঁরা থেমে থাকেনি।বলা যায় তাঁদের থামানো যাইনি।আবার কিছুক্ষেত্রে দেখা যায় মাতৃভূমি যেটি সূচনা করে একযুগ চালিয়ে নিয়ে থেমে যেতে হয়েছে সেই কাজটায় সীতাকুণ্ডের সাংস্কৃতিক কর্মীরা সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।যেমনটি বলা যেতে পারে বৈশাখী মেলা।সীতাকুণ্ডের নারী জাগরণের পথিকৃত, খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ ও সংগঠক সুরাইয়া বাকেরের নেতৃত্বে গঠিত সীতাকুণ্ড সাংস্কৃতিক পরিষদ অত্যন্ত সফল ও প্রাণবন্তভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।(সীতাকুণ্ড সীতাকুণ্ড সাংস্কৃতিক পরিষদ বইমেলা সহ আরো অনেক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে।) এটিকে মাতৃভূমির একটি অনবদ্য সফলতা মনে করছি।কয়েক বছর বিরতির পর মাতৃভূমিও সীতাকুণ্ড পাহাড়ের পাদদেশে বৈশাখী উৎসব পালন করে আসছে।

মাতৃভূমি ‘র ভিন্নধারার বিভিন্ন কার্যক্রম কাজ যেমন অনেক মানুষের দৃষ্টিবদ্ধ হয়েছে তেমনি মানবিক কর্মকাণ্ডেও মাতৃভূমি নির্মোহভাবে ভূমিকা পালন করে চলেছে। সীতাকুণ্ডের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় আন্তনগর ট্রেনের স্টপেজের জন্য আন্দোলন, শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ সহ অনেক মানবিক কাজ সম্পাদন করছে মাতৃভূমি।সর্বশেষ কোভিড ১৯ অর্থাৎ নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রেক্ষিতে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষিত হলে মাতৃভূমি এগিয়ে আসে মানবিকতার মিছিল নিয়ে, তাঁদের “অজয়া” ও “মানবিক দোকান ” কর্মসূচীর অধীনে আমি যতটুকু জেনেছি প্রায় ২০০০ মানুষ কোনোনা কোনোভাবে উপকারভোগী হয়েছেন।গতকাল ১৫ জুন ২০২০ খ্রীঃ সীতাকুণ্ডের স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য ১০০ পিপিই তুলে দেন সীতাকুণ্ডে উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায়ের হাতে।মাতৃভূমির এই মানবিক কর্মসূচী আমাকে আপ্লূত করেছে, তাই আবেগ ও ভালবাসা নিবেদন করছি প্রিয় সংগঠনটির সকল সংগঠকদের প্রতি।