সেলুলয়েডের গল্প

Kannum Kannum Kollaiyadithaal | তামিল মুভি

কান্নুম কান্নুম কোল্লাইয়াডিথাল (বাংলায় অর্থ আসে ‘চোরা চাহনি’) একটা ২০২০ সালের ভারতীয় তামিল ভাষার রোমান্টিক কমেডি থ্রিলাত ফিল্ম যা দেশিং পেরিয়াসামি রচনা ও পরিচালনা করেছেন। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডালকুয়ার সালমান এবং ঋতু ভার্মা, অন্যদিকে রক্ষণ ও নিরঞ্জনি অহাথিয়ান সাপোর্টিভ ভূমিকায় অভিনয়ের মাধ্যমে তাদের অভিনয়ে ডেব্যু করেছে। ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী ছবিটি রিলিজ হয়েছিলো এর ডাবযুক্ত তেলেগু সংস্করণ কানুলু কানুলানু দোচান্তে সহ।


সিদ্ধার্থ এবং ক্যালিস ওরফে কালীস্বরণ মুর্তি হলেন দুই তরুণ যারা মেয়েদের সাথে পার্টি করে সময় কাটায়। একসময় তারা যথাক্রমে মীরা ও শ্রেয়া নামে দুটো মেয়ের প্রেমে পড়ে বহু টাকা উড়ায়, এসময় দেখানো হয় যে তারা আসলে জালিয়াতি করে, যারা অর্থ উপার্জনের জন্য অনলাইন শপিং স্ক্যামস ব্যবহার করে। ডিসিপি প্রতাপ চক্রবর্তী এই স্ক্যামের তদন্ত করেন যখন তার কন্যার ব্যবহার করা ল্যাপটপটি বিস্ফোরিত হয়। একসময় মীরার হ্যান্ডব্যাগ চুরি হলে সে মাতম করে আর বলে চুরি হওয়া ৩০০০ টাকা কষ্ট করে উপার্জিত টাকা, তখন সিদ্ধার্থ অপরাধী বোধ করে এবং ছেলেরা বেঁচে থাকার অশুভ উপায় বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা টাকা দিয়ে একটা রেস্তোরাঁ শুরু করে গোয়ায় স্থানান্তরিত হয়ে সেখানে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গোয়াতে একসময় ডিসিপি প্রতাপ তাদের স্থানে এসে বলে যে মেয়েগুলো তাদের থেকে বড় জালিয়াত, সেখানে সিদ্ধার্থ এবং ক্যালিস তাদের টাকার ব্যাগটি অনুপস্থিত অবস্থায় পায় এবং হতাশ হয় যে মেয়েদের যখন তারা সত্যিকার অর্থে ভালোবাসতো তখন তারা তাদের সাথে প্রতারণা করেছে। তারা চেন্নাইয়ে ফ্রি রাইডে যায় এবং ধীরেধীরে তাদের ‘অপরাধী’ মন মেয়েদের সন্ধানে ব্যবহার করে।

একসময় তারা দিল্লিতে যেয়ে সেই মেয়েদের সন্ধান পায় এবং তারা একসাথে টিম হিসেবে কাজ করা শুরু করে, জানা যায় মীরার আসল নাম মধুমিতা এবং শ্রেয়ার নাম ভারসা, তারা একজন ব্যবসায়ী সুরজ মেহতাকে শর্টলিস্ট করে, যে ব্যবসায়ী মধু ওরফে ইশিতার প্রতি দুর্বল এবং ভারসা তার স্ত্রীর সাথে জিমে বন্ধুত্ব করেছিলো। ছেলেরা, তাদের প্রযুক্তিগত মস্তিষ্ক ব্যবহার করে আস্তে আস্তে ভিলায় সুরজের সুরক্ষা ফিচারগুলো ভেঙে দেয়। যখন সবাই জানতে পারে সুরজ আসলে ড্রাগ ডিলার, তখন সবাই পরিকল্পনাটি বাদ দিয়ে নিরাপদে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সিদ্ধার্থ তাদের কনভিন্স করে। তারা সুরজের রোলস রইস গাড়ি ব্যবহার করে সুরজের বাড়ির গ্যারেজে প্রবেশের পরিকল্পনা করেছে। মধু মূল পরিকল্পনার সময় রেস্টাহাউসের ভেতর সুরজের সাথে ভিতরে থাকে এবং ছেলেদের মাত্র ১ ঘণ্টা সময় থাকে হাতে। সিদ্ধার্থ ক্যালিসকে বলে যে সুরজের গাড়ি উন্নত এবং হ্যাক করা যায়। একসময় মধু অজ্ঞান হওয়ার ভান করলে সুরজ তাকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যেয়ে ডাক্তারদের আনতে গেলে মধু পালিয়ে যায়। সিদ্ধার্থ বলে যে তারা বাই রোড থাইল্যান্ড যাচ্ছে এবং তারা বাইকে যাত্রা শুরু করে। তখন প্রতাপকে দেখলে ছেলেরা প্রতাপের কাছে যেয়ে তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে, যার ফলে প্রতাপ বিমানবন্দরে যেয়ে সেখানের সিকিউরিটি লঙ্ঘন করেন এবং সেই সময় ছেলেরা পালিয়ে যায়। সিদ্ধার্থ এবং ক্যালিস মধুকে কল দিয়ে বলে যে তাদের সাথে বাইকে থাকা সমস্ত ব্যাগগুলি খালি রয়েছে এবং এখন তাদের প্রতিশোধ নেওয়ার সময় এবং তারা চিট করেছে এবং বলে যে পুলিশ তাদের কাছে কয়েক মিনিটের মধ্যে উপস্থিত হবে, হতবাক ও বিধ্বস্ত মেয়েরা না পালিয়ে যাবার মতো অনুভূতিতে থাকে এবং তারা মনে করে সত্যিকারের প্রেমিক সিড ও ক্যালিসকে প্রতারণার জন্য এটি তাদের প্রাপ্য ছিলো, ঠিক তখন পুলিশের গাড়ি সেখানে প্রবেশ করে এবং সিড এবং ক্যালিস সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বলে যে তারা কেবল গোলমাল করে এসেছে এবং তারা আরও বলে তারা মনে করেছে যে মেয়েরা সত্যিই তাদের সাথে প্রেম করতে শুরু করেছে এবং উভয় কাপল মিলিত হয় এবং জীবনে সেটেল হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

একসময় দেখা যায় প্রতাপ লজ্জা পেয়ে ঘোষণা করেন তিনিও মধুর প্রতারণার শিকার, প্রতাপ তার মাথা নিচু করে ফেলে। সুরজের বাড়িতে ফিরে তিনি সিদ্ধার্থ এবং ক্যালিসকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখেন টাকা চুরি করতে তবে তাদের মুখ লুকানো অবস্থায় আছে। দৃশ্যটি মণিপুরের একটা পাহাড়ের চূড়ায় স্থানান্তরিত হয়েছে যেখানে দুই জোড়া কাপল অস্থায়ীভাবে তাঁবুতে অবস্থান করছে, একসাথে তাদের জীবন উপভোগ করছে, সিদ্ধার্থ প্রকাশ করেছে যে সে মধুর নামে হাতে ট্যাটু করেছে, স্তম্ভিত মধু তখন প্রকাশ করে যে তার আসল নাম মধু নয় এবং ভারসা প্রকাশ করে যে তার আসল নাম থেনমোজি, তখন সিদ্ধার্থ প্রকাশ করে যে সে জানতো এরকম কিছু একটা সে ঘটাতে পারে এবং ট্যাটুটি জাল ছিলো এবং তারা আলিঙ্গন করে এবং সিদ্ধার্থ মধুকে তার আসল নাম জিজ্ঞেস করলে মধু তাকে সেটি খুঁজতে বলে, ক্যালিস হতবাক হয়ে যায় যে তার প্রেমিকা একজন কান্ট্রি বুম্বকিন এবং থেনমোজি তার নাম কালীস্বরণ নিয়ে মজা করে এবং ক্যামেরা এন্ড ক্রেডিট দেখাতে উত্থিত হয়।