মুক্তধারা

আমরা অনেক আধুনিক হয়েছি কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বের হতে পারিনি

মুনসাফা তৃপ্তিঃ বিশ্ববিদ্যালয়র ক্যাম্পাসে সব চেয়ে হট টপিক কোন মেয়ে কোন ছেলেকে কিক মারলো অর্থাৎ আমরা প্রায় দেখি যে অনেক দিনের রিলেশন কিন্তু বিয়ে করে করে প্রতিষ্ঠিত কোন ছেলেকে

কিছু পয়েন্ট করা যাক-

১। মেয়েরা প্রেম করে বেকারের সাথে আর বিয়ে করে প্রতিষ্ঠিত কোন ছেলেকে
২। মেয়েরা সুন্দর ছেলে দেখে প্রেম করে আর বিয়ে করে টাক ওয়ালা
৩। মেয়েরা খুব স্বার্থপর হয়
৪। মেয়েরা খুব লোভী হয়
৫। মেয়েরা খুব চতুর হয়
৬। মেয়েরা খুব কিপটে হয়
৭।মেয়েরা ব্লা ব্লা ব্লা……………


মেয়েদেরকে নিয়ে অনেক অভিযোগ আছে, মজার কথা হচ্ছে অনেক ছেলেকেই দেখেছি অন্যদের গল্পে নিজেকে নায়ক বানিয়েও মেয়েদের এভাবে ব্লেইম করে যায়।
আমি মনে করি ভাল-মন্দ মানুষের মাঝেই থাকে- হোক সে ছেলে বা হোক সে মেয়ে, হাত ধুইয়ে এভাবে জেনারেলাইজেশন করাটা বোধ হয় একটু অমানবিক উপরের পয়েন্টগুলো একটু আলোচনা করা যাক, এতে অনেক আপু এবং ভাইয়ারা কষ্ট পেতে পারেন, আগেই সরি বলে নিচ্ছি
১। আমাদের সমাজে মেয়েদেরকে আড়ালেই বড় করা হয় বা চেষ্টা করা হয় ( বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই)। পড়াশুনা বা চাকরীর কথা বলছি না, বলছি স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার মানসিকতা নিয়ে, স্বাধীন চিন্তা নিয়ে
২। সমবয়সী ভাই বোনের মধ্যে মেয়েরা বয়সন্ধিতে পৌঁছুলে মাঠে খেলা বন্ধ হয়ে যায়, বিকেলগুলোতে ভাই যখন মাঠে ক্রিকেট খেলে তখন কোন কোন বোনের বারান্দায় যাওয়া নিয়েও ঝামেলা হয়
৩। বয়সে ২/৩ বছরের ছোট হয়েও ভাইয়েরা বোনেদের চলাফেরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে, আর সিদ্ধান্ত গুলোও ধীরে ধীরে ভাইয়ের কব্জায় চলে যায়
৪। দুই টাকা দামের শ্যাম্পু কিনতে হলেও বোন তার ছোট ভাইকে বাজারে পাঠিয়ে দেয় – তাহলে টাকা বিনিময় করে কিছু ক্রয় করার মানসিকতা একটা মেয়ের কীভাবে হবে! সে তো জানেই না, যে কীভাবে টাকার ব্যবহার করতে হয়। আর এই মেয়েরাই সভাবে খুব কিপটে হয় অথবা টাকা উড়িয়ে বেড়ায়
৫। বাড়ির সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার ব্যাপারে বেশীরভাগ সময় মেয়েদের উপেক্ষা করা হয়, আর এ কারণেই মেয়েরা বেশীরভাগ সময়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে
৬। অনেক ছেলেদের সাথে মিশতে হয় বলে সামাজিক কর্মকাণ্ডে মেয়েদেরকে এখনও যুদ্ধ করে যোগ দিতে হয়, বেশীরভাগ মেয়েরা জানেই না যে সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রয়োজন কী! তাহলে মেয়েরা কীভাবে সামাজিক হবে!
৭। আপনি প্রেমিক/স্বামী হিসেবেও চান না যে আপনার প্রেমিকা বা বউ কোন সংগঠন করুক বা সামাজিক যোগাযোগ বাড়াক অথচ চান যে আপনার বউ আপনার মা-বাবাকে নিয়ে ভাল্ভাবে সংসার করবে
৮। ছোট বেলা থেকে মানসিক চার দেয়ালে বেড়ে ওঠা একটা মানুষ যে নিজেকে বা নিজের পরিবারকে ছাড়া আর কিছুই কল্পনা করতে পারে না সে কেন আপনার বাবা-মার সাথে মানিয়ে চলবে? কিন্তু শুধু আপনাকে নিয়ে খুব ভাল একটা সংসার করতে পারবে- শুধু আপনাকে নিয়েই
৯। যুগ যুগ ধরে ছেলেরা বেকার মেয়েদের বিয়ে করেছে কিন্তু কোন স্বাবলম্বী মেয়ে কেন বেকার বিয়ে করে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের নিজেদেরকে বাবা ও ভাইয়ের ভুমিকায় দাড় করাতে হবে। আমরা কী আমাদের বোন বা মেয়েকে কোন বেকার ছেলের হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত
১০। সব শেষে একটা কথা, প্রেমের ক্ষেত্রে বেশীরভাগ মেয়েরাই বেশী স্যাক্রিফাইস করে, মার খায়, গাল মন্দ শোনে, চাকরী পাওয়ার পর অনেক মেয়ে বাবা’মায়ের সাথে যুদ্ধ করে। কেউ জিতে যায় কেউ হেরে যায়- এই যা আমরা অনেক আধুনিক হয়েছি কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বের হতে পারিনি। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা শব্দটা শুনে ভাইয়ারা ক্ষেপে যাবেন না প্লিজ, এটা এমন একটা বিষয় যে নারী- পুরুষ সবার মধ্যে রক্তে মিশে গেছে।
তবুও বলি, জীবন খুব ছোট এবং খুব সুন্দর। তাই ব্যক্তিগত চাওয়াগুলো সম্পর্কে খুব স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে, নিজেকে খুব স্পষ্ট ভাবে চিনতে হবে, জানতে হবে। সামান্য একটু ভুল সিদ্ধান্তে একটা জীবন কেটে যাবে – এরকম অন্যায় করা যাবে না । আসুন, সবাই সবাইকে শ্রদ্ধা করা শিখি, আসুন, ভাল থাকি।