সেলুলয়েডের গল্প

দ্য মেটামরফোসিস | ফ্রাঞ্জ কাফকা

বইয়ের নাম : দ্য মেটামরফোসিস

লেখক : ফ্রাঞ্জ কাফকা

পৃষ্টা : ৭৭

প্লট : একদিন সকালে ঘুম ভেঙে উঠে গ্রেগর সামসা দেখল যে, সে এক বিশাল পতঙ্গে রূপান্তরিত হয়ে গেছে।পতঙ্গে রূপান্তরের পর গ্রেগর সামসার জীবনে রাজ্যের বিড়ম্বনা শুরু হয়। সে যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কেরানি তার খোঁজ নিতে আসেন। কিন্তু গ্রেগরের পক্ষে কিছুই করা সম্ভব হচ্ছিল না। কারণ সে তখন আর মানুষ নেই। এরকম ট্রাজেডির পরও সে আশাবাদী ছিল, যে হয়ত সে স্বাভাবিক হয়ে কাজে ফিরতে পারবে। কিন্তু সে আশায়ও গুড়েবালি। পতঙ্গ থেকে আর মানুষে রূপান্তর তার আর হয়ে ওঠেনি। এভাবে গল্প এগুতে থাকে। গল্পের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পূর্ণ সামসা’র বিড়ম্বনাকে ঘিরে। আর এসব বিড়ম্বনার আড়ালে কাফকা তুলে এনেছেন পুঁজিবাদী সমাজের নির্মম বাস্তবতাকে।

ব্যক্তিগত মতামত : দ্য মেটামোরফোসিসের গল্পটি একটি যুবকের প্রতীকী কাহিনী, যে তাঁর পরিবারের রুটিরুজি আনেন, যিনি অপ্রত্যাশিতভাবে একটি রূপান্তরের শিকার হয়েছেন , যা প্রতীকীভাবে একটা রোগে আক্রান্ত হওয়াকে বোঝায়, এমন কোনো রোগ যা থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় নেই। তাঁর পরিবারের পরবর্তী প্রতিক্রিয়াগুলি – শোক, পদত্যাগ, সহনশীলতা, তিরস্কার এবং তারপরে স্পষ্টভাবে বিদ্রূপ, অতিমাত্রায়ে সত্যি এই পুঁজিবাদী সমাজে। কতটা নির্মম হয়ে ওঠে সমাজ একজন অক্ষম শ্রমিকের জন্য, কেউই পক্ষে থাকে না সেই অভাগা শ্রমিকের। সমাজ, পরিবার, অফিস– কেউ না। সেই সমাজ শুধু টাকা চেনে, ফায়দা চেনে। মেটামোরফোসিসের সমস্ত অযৌক্তিকতা থাকা সত্ত্বেও উপন্যাসটি কাফকার অন্যতম সর্বাধিক পরিচিত রচনা। অযৌক্তিক এবং প্রতীকী সংমিশ্রণটি আসলে উপন্যাসকে অতি জটিল এবং আকর্ষণীয় পাঠযোগ্য করে তুলেছে। তবে এটি সবার প্রিয় টাইপের বই নয়, সবাই মেটামোরফোসিসের মতো বই পড়তে পছন্দ করে না। তবুও, আমার মতে এটি পড়ার মতো বই, কারন আপনি নিজেও হয়ত জানেন না নে কবে কখন কোথায় জীবন আপনাকে এরকম একটা সত্যর মুখোমুখি করে দিতে পারে।

রেটিং : ৪.৮/৫