'ও ডাক্তার'

করোনার দিনগুলোতে মনের যত্ন

শান্ত সীমন্তিনী(ট্রেইনি সাইকোলজিস্ট) ঃ মানুষ সবচেয়ে কি সবচেয়ে বেশি ভয় পায়? উত্তরটা হচ্ছে অজানা জিনিসকে। এই নভেল করোনাভাইরাস নতুন বলেই এর গতিপ্রকৃতি আমাদের অনেককিছুই জানা নেই। সবকিছু ঘিরে আছে অনিশ্চয়তা। করোনাকালের ঘরবন্দী দিনগুলোতে এই অনিশ্চয়তাই আমাদের মনের উপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে আছে।
কোয়ারেন্টিনের এই দিনগুলোতে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে নিচের কাজগুলো করতে পারি-

 

১) রুটিন মেইনটেইন করা : ঘরে থাকার কারনে আমাদের অনেকেরই খাওয়া, ঘুম, গোসল, বিশ্রাম এসবের কোন নির্দিষ্ট টাইম মেইনটেইন করা হয়ে ওঠে না। কিন্তু নিজের ডেইলি শিডিউল ঠিক রাখা আমাদের মনকে স্থির রাখতে বেশ সহায়তা করে। তাই নিজের বেসিক ডেইলি শিডিউল টা প্রতিদিনই ফলো করার চেষ্টা করতে হবে।

২) তথ্যের ভারে ভারাক্রান্ত না হওয়া : এখন প্রত্যেকটা টিভি চ্যানেল, নিউজপেপার, সোশ্যাল মিডিয়া সবখানেই করোনা নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা। আমরা মনে রাখব অতিরিক্ত তথ্য আমাদের কোন উপকারে আসে না, বরং আমাদের সময় ও চিন্তার অনেকখানি দখল করে নেয়। তাই আমরা ফ্যাক্টগুলো জানব রিলায়েবল সোর্স থেকে। প্রতিদিনের আপডেট জানব। এছাড়া করোনা সংক্রান্ত আর সব খুঁটিনাটি সংবাদ এড়িয়ে যাব।

৩) ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি : এই বৈশ্বিক মহামারীর দুঃসময়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ভীষনভাবে প্রয়োজন। যেমন আজপর্যন্ত কত মানুষ মারা গেল এটাতে ফোকাস না করে আমরা ভাবতে পারি আজ পর্যন্ত কতজন সুস্থ হয়ে উঠেছে। একটা ছোট্ট ইতিবাচক চিন্তাও এই কঠিন সময়ে আমাদের মানসিক শক্তি দিবে। হাল ছেড়ে না দেওয়ার সাহস জোগাবে।

৪) নিজের সাথে ভাল সময় কাটানো : এটা শুনতে কিছুটা আজব শুনাতে পারে, নিজের সাথে আবার আলাদা করে কি সময় কাটাব!
অল্প কিছু সময় একেবারেই আপনার জন্যে, যে সময়টাতে আপনি করোনা বা অন্য যেকোন দুশ্চিন্তা, নেগেটিভ ইমোশন সবকিছুকে দূরে সরিয়ে রেখে নিজের খুব পছন্দের কোন কাজ করবেন। হতে পারে একটা ছবি আঁকলেন, বা একটা কাগজের খেলনা বানালেন, বা কোন প্রিয় ডিশ রান্না করলেন। কাজটা হতে হবে এমন কিছু যা আপনার ভাল লাগে, যা করলে আপনার স্ট্রেস রিলিফ হয়।

৫) যখনি খুব বিরক্ত লাগবে, অসহ্য লাগবে এই সারাক্ষণ ঘরে থাকা, নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন মনে হবে তখনি নিজেকে বারবার মনে করাবেন, ‘কেন আমি এটা করছি? কেন এত ক্ষতি স্বীকার করেও আমি ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি? কারন আমি নিজেকে ভাল রাখতে চাই, নিজের পরিবারকে ভাল রাখতে চাই। পৃথিবীর অসুখ সেরে গেলে সবাই মিলে আবার একসাথে ভাল থাকব বলে এই কষ্টকর জার্নিটা আমাকে শেষ করতেই হবে।’