হুতুমপেঁচা বলছি

অটিজম এবং ভিন্নতা

জোবায়দা ফাতিমাঃ যে শিশুরা ‘অটিজম’ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন বা জন্মগতভাবেই ‘অটিস্টিক’ বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণ অনুযায়ীই এরা ভিন্ন হয়ে থাকেন। সাধারণত ধারণা করা হয় অটিস্টিক শিশুরা বিশেষ ধরণের কিছু প্রতিভা বা মেধা নিয়ে জন্মান, যা ‘সাধারণ’ শিশুদের মাঝে দেখা যায়না। তাই ‘অটিজম’ স্পেশাল এবিলিটিও বলা হয়ে থাকে।
প্রকৃতিগতভাবেই অটিস্টিক শিশুদের বেড়ে ওঠা, লালন পালন, শিক্ষা সবকিছুতেই বিশেষ নজর দিতে হয় বা বিশেষত্ব বিদ্যমান। অটিস্টিক শিশুরা যেহেতু অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে থাকেন তাই তাদের পিতা মাতা, আত্মীয় স্বজন সর্বোপরি সবারই তাদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করা জরুরী৷

জোবায়দা ফাতিমা

কিন্তু আমাদের দেশের ‘দুর্দশা’র জন্য এই সকল শিশুদের জন্য সামাজিক পরিসরে বিশেষ সুবিধা অপ্রতুল বা নেই বললেই চলে। ঢাকায় কিছু বিশেষ স্কুল এবং অল্প কিছু হাসপাতালে বিশেষ সেবা থাকলেও ঢাকার বাইরে তা অপ্রতুল। আর সামাজিক রীতি অনুযায়ী যেহেতু শিশুর যত্ন এবং পরিচর্যার দায়িত্ব মায়ের, তাই এই সকল শিশুদের মা এবং অভিভাবকগণ নানা রকম বিড়ম্বনা এবং প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে জীবন নির্বাহ করে থাকেন।
যেহেতু অটিস্টিক শিশুরা বিশেষ ধরণের হয়ে থাকেন তাই তাদের স্কুলিং বা শিক্ষাব্যবস্থাও বিশেষ / স্পেশাল হওয়াটা অতীব জরুরী। কিন্তু এই স্পেশাল এডুকেশন আসলে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের নাগালের বাইরে। বাংলাদেশে স্পেশাল এডুকেশনের পরিসর অত্যন্ত কম (চাহিদা এবং প্রয়োজনের তুলনায়) এবং নীতিনির্ধারকগণের এই পরিসর বিস্তারের চিন্তাভাবনাও কম।
প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষাব্যবস্থা এমন হওয়া উচিৎ যেন সে তার প্রতিভা চিনে নিয়ে নিজের প্রতিভার বিকাশ করতে পারে এবং একটি আত্মপরিচয় ও অবস্থান তৈরি করতে পারে। কিন্তু এই বিশেষ শিশুরা যখন সাধারণ শিক্ষায় প্রবেশ করে তখন তারা তাদের বিশেষত্ব চিনে নিতে পারেনা, বরং নিজেকে সাধারণের তুলনায় পিছিয়ে পড়া মনে করে এবং প্রায়শই হীনমন্যতায় ভোগে। যা এই শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশকে বাঁধাগ্রস্ত করে। আর অভিভাবক, পিতা-মাতার হীনমন্যতার কথা নাই বা বললাম।
আমাদের কী করণীয় হতে পারে এক্ষেত্রে? সর্বপ্রথম পিতা-মাতার অবশ্যই হীনমন্যতায় ভোগা উচিৎ না। যারা কোন ধরণের নেতিবাচক আচরণ বা মনোভাব প্রকাশ করে তাদের আচরণ এবং এই ধরণের মনোভাবকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিৎ। অভিভাবকদের নিজেদের সমস্যাগুলো লুকিয়ে না রেখে খোলামেলা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আলোচনা করা উচিৎ। সর্বোপরি, বিশেষ শিশুর অভিভাবক হিসেবে নিজেকেও বিশেষ/ স্পেশাল ভাবা উচিৎ। এখন বিভিন্ন সংগঠন অটিজম এবং বিশেষ শিশুদের নিয়ে কাজ করে থাকে, যদিও সেগুলোও খুবই স্বল্প পরিসরেই বলা যায়, সেসকল সংগঠন থেকে ট্রেনিং নিতে পারেন।
এর মাধ্যমে দুটো জিনিস হয়; এক সামাজিক ট্যাবু ভাংগা, দুই বিশেষ শিশুর ‘ভিন্নতা’ কে এড্রেস করা/ স্বীকৃতি দেয়া।
পরিশেষে বলবো, অভিভাবকরা সরব হোন, সচেতন হোন, আলোচনা করুন।

PS: খুবই সংক্ষিপ্ত আকারে নিজের ভাবনা ও পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করলাম। আলোচনা, পর্যালোচনা ও সমালোচনা কাম্য।।

“পৃথিবীর সকল শিশু বেড়ে উঠুক নিজস্ব স্বকীয়তায়”।।