মুক্তধারা

শিশু নির্যাতন

সহজ কথায় বলতে গেলে শিশু নির্যাতন মানে হচ্ছে শিশুর প্রতি বাবা-মা বা অভিভাবক বা আশেপাশের কোনো ব্যক্তির এমন কোনো আচরণ, যার দরুন শিশু মানসিক বা শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। হতে পারে সেটা বাবা-মা অথবা পরিবারের অন্য কারও কাছ থেকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতন বা পরিচিত কেউ, স্কুলের বন্ধু, সমবয়সী কেউ অথবা বাইরের কারও কাছ থেকে শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত পাওয়া।

শারীরিক নির্যাতন (Physical Abuse)
শারীরিক নির্যাতন বা ফিজিক্যাল অ্যাবিউজ বলতে শিশুকে শারীরিকভাবে আঘাত করা বোঝায়, সেটা ইচ্ছাকৃত হতে পারে আবার অনিচ্ছাকৃত হতে পারে। যেমন- শিশুকে লাথি মারা বা পা দিয়ে আঘাত করা, চড় মারা বা চড় মারার হুমকি দেওয়া, জ্বলন্ত কিছু দিয়ে শরীরে কোথাও পুড়িয়ে দেওয়া, চুল ধরে টানা, কান ধরে টানা, শিশুকে ধরে জোরে জোরে ঝাঁকি দেওয়া, অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা, লাঠি বা অন্য কিছু দিয়ে আঘাত করা ইত্যাদি।

বাচ্চাকে না মেরে বা ধমক না দিয়ে বুঝিয়ে বলুন

বাবা-মা বা অভিভাবক হিসেবে আপনার সন্তানকে শাসন করার সমস্ত অধিকার আছে ঠিকই, কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, আপনার এই ধরনের আচরণ আপনার সন্তানকে সারা জীবনের জন্য বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। শারীরিক নির্যাতনের জন্য আপনার সন্তান কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে আসুন দেখি।

শরীরে অভ্যন্তরীন আঘাত ও মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
হাড় ভেঙে যেতে পারে ও আপনার সন্তানের দুর্বল জয়েন্টগুলো নড়ে যেতে পারে।
মানসিকভাবে সারা জীবনের জন্য বিধ্বস্ত হয়ে যেতে পারে।
শারীরিকভাবে সারা জীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, মৃত্যুর সম্ভাবনাও আছে।

কীভাবে বুঝবেন শিশু শারীরিক নির্যাতনের শিকার কিনা—

খেলার সাথী, পোষা প্রাণী ও অন্যান্য পশু পাখির উপর আক্রমণাত্মক মনোভাব।

বাবা-মা বা অভিভাবক অথবা বয়সে বড় কাউকে দেখে অনেক ভয় পাওয়া।

অত্যধিক ভয় পাওয়া, প্রায় সময় বিষণ্ন থাকা এবং সামান্য কিছুতেই খুব বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করা।

ঠিকঠাক ঘুম না হওয়া ও রাতে প্রায়ই দুঃস্বপ্ন দেখা।
শিশুর মানসিক ও আচরণগত সমস্যা।

আত্ম-ধ্বংসাত্মক আচরণ বা মনোভাব।
সব শিশুর প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিৎ।

মেহনাজ চৌধুরী
আইনজীবী, ঢাকা জজ কোর্ট