সেলুলয়েডের গল্প

প্রদোষে প্রাকৃতজন | বইয়ের কথা

নামঃ প্রদোষে প্রাকৃতজন
লেখকঃ শওকত আলী
প্রকাশকালঃ ১৯৮৪
প্রকাশনাঃ ইউপিএল প্রকাশনী।
পৃষ্ঠাঃ ১৯৭
দামঃ ২৭৫/- (মলাটমুল্য)

প্রাককথনঃ প্রদোষ শব্দের অর্থ সায়াহ্নকাল। আর প্রাকৃতজন অর্থ ব্রাত্যজন বা নিম্নশ্রেনীর জনসাধারন। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, ইতিহাসের কোনো এক ক্রান্তিলগ্নে সমাজের নিম্নশ্রেনীর মানুষের যাপিত জীবনাচরন এবং মনোজগতের অন্তর্দাহ এবং বহিরাঘাতের চিত্র চিত্রিত হয়েছে শওকত আলীর ইতিহাস-আশ্রয়ী এই উপন্যাসটিতে।

কাহিনি সংক্ষেপঃ সেনরাজার শাসন থেকে রাজ্য স্খলিত হয়ে যাচ্ছে! তুর্কী যবন বা মুসলমানদের আক্রমণও হতে পারে যেকোনো সময়। তবুও সে সময়ে রাজার সামন্ত-মহাসামন্তদের অত্যাচার থেমে থাকে না। সম্পদ লুন্ঠন, নারী অপহরণ, অত্যাচার, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া তাদের নিত্যদিনকার কাজ। সেইসব অনাচার কখনো রুখে দেয় অন্ত্যজেরা বা কখনো সদ্ধর্মী বৌদ্ধরা। এজন্য রাজার আক্রোশও তাদের উপর!

ইতিহাসের সেই প্রদোষকালের জটিল আবর্তে ঘূর্ণমান নরনারীর জীবন কাহিনি বিবৃত হয়েছে এই উপন্যাসে! মৃৎশিল্পী শ্যামাঙ্গের কেন শিল্প রচনায় ছেদ পড়ে? কেন তার এই নিরুদ্দেশ যাত্রা? স্বামী পরিত্যক্তা লীলাবতী কি চায়? কেন পায় না? লীলা বা শ্যামাঙ্গের এই নিরুদ্দেশ জীবন কি কোথাও স্থায়ী হতে পারে?

বিভিন্ন দেশে বানিজ্য যাত্রা করে বেড়ানো বসন্ত দাশ কেনই বা সদ্ধর্মী ভিক্ষুদের সহগামী হয়? তার স্ত্রী মায়াবতীর বাহুবন্ধন ছিন্ন করে রাতের আধারে কেনইবা সে ছুটে বেড়ায়? এসব প্রশ্নের মিমাংসা জানতে হলে বইটি পড়া অতীব প্রয়োজন!

নিজস্ব মতামতঃ বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য নিদর্শন এই বইটি। লেখক খুব যত্ন নিয়ে এই সাহিত্য কর্মটি রচনা করেছেন। ভাষা, শব্দ বা উপমা ব্যবহারে লেখক যে পারঙ্গমতা দেখিয়েছেন তা অবশ্য প্রশংসনীয়।

বইয়ের কথা লিখেছেনঃ তালহা মাহমুদ অভীক