নির্বাচিত, সেলুলয়েডের গল্প

পঞ্চায়েত |ওয়েব সিরিজ

ভয়েস ফ্রম জার্মানী :আমি একজন সিনেমাখোর আর সিরিজখাদক। যাই পাই তাই দেখি। বাংলা, ইংরেজি, কোরিয়ান, স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ সবই। তুলনামুলকভাবে সেদিক থেকে হিন্দি তথা ইন্ডিয়ান সিরিজ/সিনেমা খুব একটা দেখা হয় না। ব্যতিক্রম শুধু সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমাগুলো আর কিছু হিন্দি ওয়েব সিরিজ। মালায়ালাম, তামিল, তেলেগু কিছু সিনেমা আমার প্রিয় ১০০ সিনেমার তালিকায় আছে। সে কথা থাক, আজ বলব ইন্ডিয়ান এক ওয়েব সিরিজের কথা। নাম পঞ্চায়েত

পঞ্চায়েত এর গল্প শুরু অভিষেক ত্রিপাঠি‘র (জিতেন্দ্র কুমার) গ্রামের পঞ্চায়েত-এ সচিব পদে চাকরি পাওয়া নিয়ে। মাত্র ২০,০০০ রুপির চাকরি তাও পাড়াগাঁও-এ এই নিয়ে তার মনে সবসময় হীনমন্যতা কাজ করে। গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান কাগজে কলমে মঞ্জু দেবী (নীনা গুপ্তা) হলেও তার স্বামী ব্রিজভুষণ দুবে (রঘুবীর যাদব) প্রধানের কাজ করেন। গেলবার তিনিই প্রধান ছিলেন। কিন্তু সরকারি আদেশে গ্রামের প্রধান নারী হতে হবে বলে তার স্ত্রীকে পঞ্চায়েত ইলেকশনে দাঁড় করিয়ে নিজে উপাধি নিয়েছেন প্রধানপতি। উপপ্রধান প্রহ্লাদ পাণ্ডে (ফাইসাল মালিক) আর অফিস সহকারী বিকাশকে (চন্দন রয়) নিয়েই গ্রামের পঞ্চায়েত চালান দুবেজি।

অভিষেক কোন উচ্চাশা নিয়ে চাকরি করতে আসেনি। আশা যতটুকু ছিল তাও উবে যায় প্রথমদিনই যখন „প্রধান-পতি“ দুবেজি খোলা মাঠে ত্যাগ করতে গিয়ে পঞ্চায়েত অফিসের চাবিখানা খুইয়ে আসেন। মেলা খোঁজাখুঁজি করেও চাবি না মেলায় শেষমেষ তালা ভাঙ্গার চেষ্টা। তালা তো ভাঙ্গলই না, দরজা ভেঙ্গে খুলে পরল! সে রাতেই শহরে থাকা বন্ধুকে অভিষেক ফোন করে C.A.T. এক্সামের বই পাঠানোর জন্য। উদ্দেশ্য M.B.A. করে লাখরুপির চাকরি আর পাড়াগাঁ থেকে মুক্তি।

একদিকে চলতে থাকে C.A.T. এক্সামের জন্য পড়াশোনা আর আরেকদিকে পঞ্চায়েতের কাজ। ঘটতে থাকে মজার মজার ঘটনা। বেশি কিছু বলতে গেলে স্পয়লার হয়ে যাবে, তাই এখানেই ইতি।

পঞ্চায়েত এর গল্প লিখেছেন চন্দন কুমার আর পরিচালনা করেছেন দীপক কুমার মিশ্র। দীপক কুমার আরেক জনপ্রিয় সিরিজ পারমানেন্ট রুমমেট এর ৪ পর্ব পরিচালনা করেছিলেন। সাবলীল স্ক্রিনপ্লে আর ডিরেক্টরের মুন্সিয়ানায় অসাধারণ এক সিরিজ উপহার দিয়েছে Amazon Prime। গ্রামের ড্রোনশটগুলো সিকোয়েন্স অনুযায়ী খুব চমৎকারভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

অভিনয়ে জিতেন্দ্র কুমার, রঘুবীর যাদব, নীনা গুপ্তা, ফাইসাল মালিক, চন্দন রয় সবাই যার যার চরিত্র অত্যন্ত সাবলীল ছিলেন। অভিনয়, স্ক্রিনপ্লে সবকিছু মিলিয়ে মনে হবে এ যেন আমার নিজের গ্রামেরই গল্প। অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা NDTv-তে এক সাক্ষাৎকারে কেউ এই সিরিজ দেখবে কি না সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। দর্শক তার সন্দেহ ভুল প্রমাণ করেছে। সিরিজ রেটিং ও বেশ ভালো। সাড়ে সাত হাজারের বেশি ভোটে IMDB-তে রেটিং ৯!

তাহলে আর দেরি কিসের, দেখে ফেলতে পারেন আজই এই চমৎকার সিরিজটি। হ্যাপি ওয়াচিং।