ইচ্ছেঘুড়ি

ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর ভ্রমণ

নয়নঃ বেশ কিছু মাস ধরে দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তার সাথে লড়াই করে মানসিক ভাবে বেশ ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। বারবার মনে হচ্ছিল মনটাকে একটু প্রশান্তি দেয়া দরকার নইলে শারীরিকভাবেও স্বস্তির দেখা পাচ্ছিলাম না..এরই সুত্র ধরে ঠিক করলাম কম খরচে আর কম সময়ের মধ্যে একটু হাওয়া বদল করে আসি; আর আমার চাহিদা অনুযায়ী পারফেক্ট ছিল চাঁদপুর.. যেই ভাবা সেই কাজ.. ইউটিউব দেখে একটু ডিরেকশন নিয়ে চলে গেলাম ইলিশের রাজ্য চাঁদপুর। খুব সকালে উঠে সদরঘাট চলে গেলাম যেন ৮ঃ৩০ এর লঞ্চ ধরতে পারি।

সদরঘাটে যখন লঞ্চে উঠে লঞ্চের ছাদে গেলাম বুড়িগঙ্গার কালো পানি আর দূর্গন্ধে মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেল। লঞ্চ ছাড়বার পর মোহনীয় বাতাসে মনটা সত্যিই জুড়িয়ে গেল..যদিও বেশ রোদ ছিল ছাদে কিন্তু সেসবের পরোয়া ছিলনা; নদীর পানির ঢেউগুলোকে আমি ছুতে না পারলেও ঢেউগুলো ঠিকই কিন্তু আমার মনটাকে ছুয়ে গেছে..সাড়ে ৩ ঘন্টা পর চাঁদপুর পৌঁছে মনে হল সিদ্ধান্তটা সত্যিই ভালো ছিল…এরপর বড় স্টেশনে গিয়ে সেখানে তিন নদীর মোহনার অপরূপ সৌন্দর্য আর শীতল বাতাসে নিজেকে আটকাতে পারলাম না..পাড়ে রাখা বড় বড় ব্লক পেরিয়ে নদীর পানিতে পা ভিজিয়ে বসে পড়লাম..আমার সব ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা, গ্লানি বিসর্জন দিলাম নদীর স্রোতে..এরপর গেলাম চাঁদপুরের ইলিশ খেতে..দুপুরের খাবার খেয়ে বিখ্যাত ওয়ান মিনিট আইসক্রিম খেয়ে রওনা দিলাম মিনি কক্সবাজারের উদ্দেশ্য.. সেখানে পৌছে সত্যিই আমার মনেই হচ্ছিল না যে এটা পদ্মা নদী এযেন সাগর তীর..মনটা জুড়িয়ে গেল এ অপার সৌন্দর্যে.. এবার ফেরার পালা..লঞ্চে উঠেই আবার ছাদে চলে গেলাম নদীতে গোধুলী দেখতে..দিনশেষে সূর্যের বিশ্রাম দেখতে দেখতে জীবনের অনেক না মেলা হিসেব নিমেষেই মিলিয়ে নিলাম..ধীরে ধীরে অন্ধকার রাজত্ব শুরু করলে লঞ্চের ছাদে শুরু হয়ে গেলে দলবেঁধে গান গাওয়ার উৎসব..আবার সাড়ে তিন ঘন্টার যাত্রা শেষ করে নীড়ের পাখি আবার নীড়ে ফিরে এলাম কিন্তু সাথে করে নিয়ে এলাম অসম্ভব সুন্দর কিছু স্মৃতি আর রিচার্জড মন।