রঙ বাক্স

ই-কমার্স এবং বাংলাদেশ | সফলতা কখনও সহজে ধরা দেয় না-লায়লা শারমীন মৌ

লায়লা শারমীন মৌ ঢাকার বাসিন্দা,বেড়ে ওঠা,শৈশব,কৈশোর সব কিছুই ঢাকা কেন্দ্রিক। শারমীনেরে বাবা-মা দুজনই ছিলেন চাকুরীজীবি শারমীনকে তারা মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন, মেয়ে হিসেবে নয়। শারমিন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি, বিসিআইসি কলেজ থেকে এইচ এস সি, স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী গার্হস্হ অর্থনীতি কলেজ থেকে,বস্ত্র পরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প বিভাগ থেকে করেছেন। বতর্মানে তিনি উইমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরামের (উই) একজন পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। যা দেশি পণ্যকে জনপ্রিয় করার একটি প্লাটফর্ম।

শারমীন তার কর্মক্ষেত্র নিয়ে বলেনঃ “আমার বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিল আমি ডাক্তার হবো। যা আসলে আমারও ছোটবেলার স্বপ্ন। বর্তমানে আমি ই-কমার্স বিজনেসের সাথে জড়িত। আমার Safriana’s touch নামে একটি অন লাইন পেজ আছে।ওয়েবসাইটের কাজ চলছে। ২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল এর যাত্রা শুরু হয়। চাকরির দিয়ে স্বাবলম্বী জীবনের শুরু, কিন্তু সংসার শুরুর পর ছেড়ে দেই চাকরিটা। এরপর সরকারী চাকরি চেষ্টা চালিয়ে গেছি কিন্তু প্রতিবারই ব্যার্থ হয়েছি। আমার তিন বাচ্চা, সেজন্যই হয়তে আমি একজন উদ্যোক্তা। আমার মা কর্মজীবি ছিলেন,তার অনেক ইচ্ছা ছিল আমি স্বাবলম্বী হই। মায়ের জন্যই আমার নতুন কটে শুরু করা। ১৫০০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। আমার পরিবার আমাকে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পূর্নাঙ্গ সাপোর্ট দিয়ে আসছে।কখনো তেমন কোন কটু কথা শুনতে হয়নি। বরং কিভাবে আমাকে সাপোর্ট দেয়া যায় সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকে। এক্ষেত্রে আমি সৌভাগ্যবতী।

নিজের অনলাইন বিজনেস নিয়ে তিনি আরো জানানঃ আমি আমার তিন বাচ্চা আর আমার বোনের বাচ্চা ওদের নাম থেকে নামটা তৈরি করি।সাফির,জিয়ানা,রাইফ ও তারিফ থেকে এসেছে Safriana’s Touch. যা আমার জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ আমি মনে করি। আমি মূলত দেশীয় তাঁতের কটকী শাড়ি, মাসেরাইজড কটন শাড়ি,জামদানী শাড়ি,থ্রি পিস,ওয়ান পিস নিয়ে কাজ করছি।

ব্যবসার খুঁটিনাটি ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে শারমীন বলেনঃ তাঁতের থ্রি পিস, জামদানী ওয়ান পিসের চাহিদা অনেক বেশী কারণ এখন আমাদের সবাইকেই বাইরে যেতে হয়।হোক গৃহিণী, চাকরিজীবি সবাই সালোয়ার কামিজেই স্বচ্ছন্দবোধ করে। সারাদিনের দৌড় ঝাপে সবার পছন্দের তালিকায় সালোয়ার কামিজ শীর্ষস্হান দখল করে আছ। তিন বাচ্চাকে সামলে ঘরে বসে কাজ করাটাই বেশী স্বাচ্ছন্দ্যের এজন্যই উদ্যোক্তা হওয়া। একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান চালানোর ক্ষেত্রে স্টোরেজ, সময়মতপণ্য ডেলিভারি করা,হিসাব রক্ষণাবেক্ষণে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক সময় ক্লায়েন্ট দেখে পণ্য কিনতে চায়,সেক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। ছবি দেখে পণ্য ক্রয়ে অনেক সময় ক্রেতার ভিতর ভীতি দেখা যায়। আবার ঢাকার বাইরের ক্রেতারা অগ্রিম পেমেন্ট করতে চান না। তবে উইয়ের পরিচিত,এক্টিভ মেমবারদের জন্য আমরা ঢাকার বাইরেও সহজে ডেলিভারি দিতে পারছি কারণ তারা আমাদেরকে সহজে পেমেন্ট দিচ্ছেন।মানুষের বিশ্বাসের জায়গাটা তৈরি হচ্ছে খুব সহজে।

ব্যবসায়ী হতে হলে কি করতে হবে এই প্রসঙ্গে তিনি বলেনঃ ব্যাবসায়ী বা উদ্যোক্তা হতে হলে লেগে থাকার মানসিকতা থাকতে হবে।কোন কাজই সহজ না।তাই যে বিষয়ের জানার প্বল আগ্রহ আছে যা নিয়ে সরাদিন পড়ে থাকা যাবে সে দিকে ফোকাস করতে হবে।অধৈর্য্য হওয়া যাবেনা।কারণ সফলতা কখনও সহজে ধরা দেয় না।এখন ক্রিয়েটিভ কিছু করার চেষ্টা করতে হবে।ভিন্নতা আর নতুনত্ব খোঁজ করে সবাই।নিজের জন্য সেই ভিন্ন জায়গাটা তৈরি করতে হবে। জনপ্রিয়তা বাড়াতে ফেসবুক,ইনস্ট্রাগ্রাম,লিংকডিন এমন প্ল্যাটর্ফমগুলো ব্যাবহারে করে প্রচারনা চালান যায়।

ভবিষ্যতে নিজের অবস্থান ই কমার্সে কিভাবে দেখতে চান প্রশ্ন করলে শারমীন জানানঃ আমার বতর্মানে পুরোপুরি ই-কমার্সে সেবা দিচ্ছি।তবে ভবিষ্যতে ইচ্ছা আছে নিজস্ব ওয়ার্কস্টশন করার। জনসংযোগ অনেক সহজ করে দেয় কাজকে।কোন কাজই একা করা যায় না।অনেকের সংযুক্তি থাকে।তাই পাবলিক রিলেশন ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।অন্যেরর কাজে সহযোগিতার মনোভাব থাকতে হবে।একই জিনিস নিয়ে যারা কাজ করে তাদের মধ্যে শক্ত বন্ধন থাকতে হবে।কানেক্টিভিটি ক্রিয়েট করতে হবে।এক হয়ে কাজ করতে পারলে পথচলা সহজ হবে।
দৃঢ় মনোবল,কঠোর পরিশ্রম, প্রযুক্তির সাথেসখ্যতাসফলতার জনয সময়োপযোগী গুণাবলী বলে আমি মনে করি। আমি উইয়ের প্রেসিডেন্ট নাসিমা আক্তার নিশা এবং জনাব রাজিব আহমেদ এর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই।আমাদের জন্য এত সুন্দর একটি প্লাটফর্ম তৈরী করার জন্য।যেখান থেকে নতুন ও পুরাতন উদ্যোক্তারা খুব সহজে জানতে পারছে,শিখতে পারছে এবং নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারছে। উই বিভিন্ন সময়ে বিভন্ন সেমিনার, ওয়াকশপের আয়োজন করে থাকে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কাযকর।কি উপায়ে এগিয়ে যাবে,কোন কোন পন্থায় কাজ করবে খুটিনাটি সবকিছুই জানতে পারছে। আমি সুস্থ, সুন্দর দারিদ্র্যতামুক্ত স্বাবলম্বী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি।