মুক্তধারা

করোনা সম্পর্কিত প্রেস ব্রিফিং সোশ্যাল মিডিয়া এবং জনমনে সন্দেহ

আতাউল হাকিম আরিফঃ খুব দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্য,ইতোমধ্যে প্রায় ৫০০০০০ (পাঁচ লক্ষ)ছাড়িয়েছে, মৃত্যুবরণ করেছেন ২২০০০ হাজারেরও কিছ অধিক। প্রযুক্তির বদৌলতে প্রতি মুহুর্তের আপডেট জানতে পারছি আমরা (Worldo Meters)।চীনের পর ইতালি,স্পেন, যুক্তরাষ্ট, ইরান,ফ্রান্স,বৃটেন সহ বিশ্বের অনেক ক্ষমতাধর ও উন্নত রাষ্ট্রের পরিস্থিতি আমরা দেখতে পাচ্ছি,কি ভয়ানক বিভীষিকা!সমগ্র পৃথিবীর একতৃতীয়াংশ মানুষ আজ গৃহবন্দী অবস্থা ( লকডাউন)আছে।প্রতিটি মুহুর্তই যেনো কাটছে এক অনিশ্চিত ভবিতব্যের শংকায়।

সারা বিশ্বের মতো একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে প্রিয় স্বদেশেও।বাংলাদেশে এই পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪জন, মারা গেছে ০৫ জন।এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮ জন বাঙালি।একইভাবে ইতালি,স্পেনেও বাঙালি মৃত্যুবরণ করেছে। অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানিতেও অনেক বাঙালির আক্রান্তের খবর আমরা জানতে পারছি।মোদ্দা কথা বাঙালি মরছে দেশে এবং বিদেশেও! বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ আজ প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া,কিন্তু আমরা যে বড়ই দূর্ভাগা এক জাতি ,সম্পূর্ণ অরক্ষিত এবং অসহায়!সুরক্ষার তেমন কোনো ব্যবস্থা আমাদের নেই, ডাক্তার, হাসপাতাল, ল্যাব সর্বত্র সংকট, উপকরণের (পিপিই/কীট ইত্যাদি) সল্পতাতো আছেই ,যৎসামান্য যা আছে তাও শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক। সারাদেশের কোথায় কিভাবে, কতজন রোগী আছে সে প্রশ্নও আজ দেখা দিয়েছে! আইইডিসিআর এর পদত্ত সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত তথ্যে সত্যতা কতটুকু, আরো তো অনেকেই আছে! সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত কিছু সংবাদ আমাদের নজরে আসছে! সেগুলোও কি সত্য নাকি মিথ্যা! গুজবও হাত, পা ছড়াচ্ছে সমানে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিছু মানুষ মারা যাওয়ার পর খবর চাউর হচ্ছে মৃত মানুষটি করোনা ছিলো! কিংবা সন্দেহ করছে ছিল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের দুটি জিনিস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করছি তা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে যত শীর্ঘ্রই সম্ভব নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষা নিরিক্ষা চালিয়ে যাওয়া, ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেকটায় ব্যবস্থা করেছেন, হয়তো দুই একদিনের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে, দ্বিতীয়ত অবাধ ও নিরপেক্ষ তথ্য সরবরাহ করা। যাতে মানুষ প্রকৃত চিত্র উপলব্ধি করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।যদি রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনো কৌশলগত কারণে তথ্য গোপন করা হয় তার পরিনতি ভালো হতে পারেনা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কেমন আছে সে সত্যটায় আমাদের কে জানতেই হবে,জানাতে হবে।(আমরা বিশ্বাস করতে চাই কিংবা খুশি হবো জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে পদত্ত প্রেস ব্রিফিং সত্য) জনমনে সকল সন্দেহ দূরীকরণের মধ্যে দিয়ে বাস্তবতা উপলব্ধি করে সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমেই করোনার ভয়াবহ আগ্রাসন মোকাবেলা করতে হবে,তার জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা, সম্মিলিত টাস্কফোর্স গঠন, সম্মিলিত তহবিল গঠন এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস আছে। ইনশাআল্লাহ জাতির জন্য সর্বাধিক কল্যানকর ব্যবস্থায় তিনি গ্রহণ করবেন।