অনুরণন

সন্তান।স্বপ্নের শহর

আফরিন পারভেজঃ আমাদের জীবনে এমন কিছু মানুষ থাকে যারা ছায়ার মতো। এদের উপস্থিতি সবসময় টের পাওয়া যায় না। আমার জীবনে এমন একজন মানুষ আমার বড় মামা। বুঝতে শেখার পর থেকে দেখতাম একজন রাশভারী মানুষ তিনি। অতিরিক্ত দ্বায়িত্বশীল আর পারফেকশনিস্ট। এমনকি হুট করে রুমে ঢুকে দেয়াল ঘড়িটাও এক সেন্টিমিটার বাঁকা থাকলে তা খেয়াল করে ফেলতেন এবং ঠিক করে দিতেন। আমার মনে আছে কয়েকবছর আগে আমাকে কেউ প্রশ্ন করেছিলো যে আমি ছেলেমানুষ হলে কাকে ফলো করতাম, আমার উত্তর ছিল “বড় মামা”।

কারণ তিনি এমন একজন মানুষ যে তার নিজের জায়গায় থেকে সবাইকে আগলে রাখার চেষ্টা করেন সবসময়। তার জীবন তিনি সবটুকুই উপভোগ করেছেন কিন্তু কখনো তার দ্বায়িত্ব নেয়ার সময় পিছিয়ে তো জান নি, বরংচ তিনি নিজে থেকে তার দ্বায়িত্ব মনে রেখে তা পূরণ করার চেষ্টা করেছেন। আম্মা সবসময় বলতো “বড় ভাই কোনোদিন বাবা নাই এটা বুঝতে দেন নাই।” আমিও আমার মায়ের মতো অনেক ভাগ্য করে এসেছি, তাই আমার বাবার অবর্তমানে তিনিই বাবার মতো আছেন এবং ছিলেন। উনাকে দেখতাম দরকার হলে নিজে রোদে বৃষ্টিতে পায়ে থেকে যাবেন কিন্তু তার সন্তানদের কখনো যেন এসি গাড়িছাড়া কোথাও যেতে না হয় সেই ব্যবস্থা তিনি সবসময়েই করেন।
আমার ভাইয়ের প্রথম সন্তান হওয়ার সময় আমি তাকেও এমন একটা কথা বলেছিলাম, আমাদের বাচ্চারা যেন রোদে কষ্ট না করতে হয় কখনো।
গতদিন আমাদের পারিবারিক একটা অনুষ্ঠান ছিল, এখন এত বয়সে, এত মানুষের ভিড়েও তিনি ঠিকই খেয়াল করেছেন যে, আমি কেক খাইনি! আর কোনায় নিজের মতো বসে আছি। উনি একটা প্লেটে বড় একপিস কেক এনে আমার সামনে দিয়ে বললেন, নে কেক খা!! আমি বললাম, নাহ এত ক্রিম খাবো না!! উনি সাথে সাথে কেক এর পিস ভেঙে মুখের সামনে তুলে বললেন, খা!! খা!! আগামী বছর তোকে মুখে তুলে কেক খাওয়াতে পারি নাকি রে!!!
আমি সবসময়ই চাপা ধরনের আবেগী, মুখে আবেগ প্রকাশ করতে পারি না। তাই চেষ্টা করি আমার লেখায় আবেগগুলো ফুটিয়ে তুলতে। আর এজন্যই আজকের লেখাটা।
মামা, আপনি আরও অনেক বছর সুস্থ আর হাসিমুখে আমাদের সাথে থাকেন। এবার আর দায়িত্ব পালনের জন্য না, এবার একটু বিশ্রাম নেন। এবার শুধু আপনার সন্তানদের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য বেঁচে থাকুন।