মুক্তধারা

মাশরাফি বাংলাদেশ ক্রিকেটের অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব

আতাউল হাকিম আরিফঃ কৌশিক,লড়াইল এক্সপ্রেস। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচাইতে জনপ্রিয় এবং ত্যাগী খেলোয়াড়। যার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় নুয়ে পড়ে এদেশের লক্ষ কোটি মানুষ।হ্যাঁ বলছিলাম ম্যাশ অর্থাৎ মাশরাফি বিন মুর্তজার কথা, দ্য ক্যাপ্টেন।একজন মাশরাফির কথা যদি বলতে হয় কলমের কালিতে সেটি বর্ণনাতীত। মাশরাফি যে শুধুই হৃদয়ে গাঁথা অনুভূতির এক নাম।একজন সফল ক্রিকেটার শুধু নন একজন সফল নেতাও বটে।এককথায় তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের মন্ত্রবাণ।৬ জুলাই ২০২০ খ্রীঃ বাংলাদেশ ক্রিকেটের মিশ্র অনুভবের একদিন,এদেশের লক্ষ কোটি মানুষের প্রাণস্পন্দন,প্রিয় ম্যাশের শেষ ম্যাচ একদিকে বিষাদের অন্যদিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভাগ্যবান সেই ব্যক্তি দু দশকের সফল ক্রিকেটার হিসেবে ইতি টানলেন মাঠ থেকেই এবং জয়ের বেশে।একজন মাশরাফির ক্যারিয়ার যদি পর্যালোচনা করি ক্রিকেট পরিসংখ্যানে হয়তো আহামরি কিছুই না, তবে এর পেছনে যে গল্প লুকায়িত আছে সেটি যে রোমাঞ্চকর ও ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর। ২০০১ সালেই জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টেষ্ট ও ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু, বিশাল এক সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে শুরু করা এই ক্রিকেটারের শুরুর দিকেই পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়-প্রথমবারই অষ্ট্রেলিয় পিজিও ডাঃ ইয়াং ক্রিকেট খেলায় ফিরতে নিষেধ করেছেন সেই মাশরাফিই কিনা সাত সাতবার পায়ে বড় ধরণের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন জীবনের মায়া ত্যাগ করে শুধুমাত্র ক্রিকেটকেই ভালবাসে।

বিশ্বকাপে ভারতবদ সহ অনেক সাফল্যেই এসেছে মাশরাফির হাত ধরে।একজন মাশরাফি কেন এতটা ব্যতিক্রম সেটি যদি আলোচনা করি- তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় আলোকপাত করতেই হয়, ষ্টিভস রোডসের একটি কথা প্রণিধানযোগ্য- তিনি মাশরাফি গুনে মুগ্ধ হয়ে মন্তব্য করেন “মাশরাফি যোদ্ধার মতই নেতৃত্ব দেন”।বাংলাদেশ ক্রিকেটের আরেকজন সফল ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান বলেন ” মাশরাফি ট্যাকটিকাল অধিনায়ক প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তার অগাধ জ্ঞান রয়েছে” সত্যিইতো মাশরাফি একজন যোদ্ধা- ক্রিকেট জন্য যুদ্ধে একজন ত্যাগী ও সফল নায়ক।অনেকই তাঁকে মহানায়ক হিসেবেও অভিহিত করেছেন।। মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট সর্বাধিক ম্যাচ জিতলেও বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপের শিরোপা জেতা হয়নি তবুও একজন ক্রিকেটার এদেশের মানুষের কাছে মহানায়ক হয়ে উঠে তখনি যখন একজন খেলোয়াড়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্বের মাঝেও মানুষ খুঁজে পাই ভিন্নধারার উপজীব্যতা ত্যাগ ও মাহাত্ম্যের গল্প।মাশরাফি বিন মুর্তজা এদেশের মানুষ তাঁকে ম্যাশ বলেই ডাকতে প্রছন্দ করে, একজন ফাষ্ট বোলার মাঝেমধ্যে মারমুখী ব্যাটসম্যানও বটে।সাতবার ডান পা,বাম পায়ে অস্ত্রোপচার হওয়া সত্ত্বেও দেশকে ভালবেসে, ক্রিকেটকে ভালবেসে খেলেছেন এবং নের্তৃত্ব দিয়েছেন যা পৃথিবীর ইতিহাসে সত্যিই বিরল।মাশরাফির চিকিৎসক ডাঃ ইয়াং নিজেই বিস্মিত হয়েছে, অর্থোপেডিক্স সোসাইটির আমন্ত্রণে একবার বাংলাদেশে এসে তাঁর বিস্ময়ের কথা জানান। তিনি মন্তব্য করেন, প্রচণ্ড দেশপ্রেম ও আত্মবিশ্বাস না থাকলে সাতবার বড় ধরণের অস্ত্রোপচার সত্ত্বেও ক্রিকেট খেলা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। সবচেয়ে বড় কথা জাতীয় দলে তারাই শুধুমাত্র খেলতে পারে যারা পারফরমেন্স করে থাকে।মাশরাফিও পারফন্স করেই টিকে আছে।২০১১ সালে ইনজুরির কারণে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় অঝোরধারায় কান্না করেছিলেন মাশরাফি।সে কান্না শুধু মাশরাফির নয় এদেশের লক্ষ-কোটি মানুষের বুক বিদীর্ণ করেছিলো।ফিরে এসেই সেই মাশরাফি পুনরায় ক্রিকেটকে দিয়েছেন একের পর সাফল্যগাঁথা। খেলোয়াড় মাশরাফি সার্বজনীন শ্রদ্ধা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে তাঁর পারফরমেন্স, নের্তৃত্বের গুনাবলী ক্রিকেটের বাইরে একজন ভালো মানুষ হিসেবে।১৮ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মাঠের বাইরেও তার ব্যক্তিত্ব পরিশীলিত হয়েছিলো নানাবিধ গুনাবলীর কারণে ভদ্রতা,নম্রতা, দানশীলতা,পরহেজগার জীবনযাপন সবকিছুই মিডিয়ার বদৌলতে ভক্তকূল জেনেছেন, শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিক্ত করেছেন।একজন ক্রিকেটার হিসেবেই শুধু নয় রাজনীতিবিদ হিসেবেও সফল ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য।

এক নজরে মাশরাফি কে তুলে ধরা যাকঃ

নামঃ মাশরাফি বিন মুর্তজা।ডাক নাম কৌশিক।জন্ম: ৫ই অক্টোবর ১৯৮৩, জন্মস্থান নড়াইল।
খেলার ধরণঃ
ডানহাতি পেস বোলার,ডানহাতি ব্যটসম্যান( মারমুখী)।
বাংলাদেশ জাতীয় দল ও এশিয়া একাদশের হয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা পেস বোলার এবং সর্বাধিক সফল অধিনায়ক।টেস্ট অভিষেক ৮ নভেম্বর ২০০১ বনাম জিম্বাবুয়ে।
শেষ টেস্ট ৯ জুলাই ২০০৯ বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। খেলেছেন ৩৬ টেষ্ট।

ওডিআই অভিষেক
২৩ নভেম্বর ২০০১ বনাম জিম্বাবুয়ে।শেষ ওডিআই ৬ মার্চ ২০২০।
টি২০আই অভিষেক
২৮ নভেম্বর ২০০৬ বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে।
শেষ টি২০- ৬ এপ্রিল ২০১৭ বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা।
আই পি এলে খেলেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্স এর হয়ে, বিপিএলে খেলেছেন ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স,কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স,রংপুর রাইডার্স, ২০১৯–বর্তমান ঢাকা প্লাটুনের হয়ে। জাতীয় দলের পাশাপাশি বিপিএলেও অধিনায়ক হিসেবে নিজ দলকে সর্বাধিক চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন।
সেরা মুহুর্ত ঃ ২০০৭ সালে বিশ্বজাপে ভারত বদ, মাশরাফির দুর্দান্ত ৪ উইকেট শিকারে ভারতের সেরা ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ে।

বর্তমানে জাতীয় সংসদের সদস্যঃ নড়াইল -২, রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।
ব্যক্তি জীবনে বিবাহিত,স্ত্রীঃ সুমনা হক সুমি ,
দুই সন্তান ঃ১ মেয়ে, ১ ছেলে
মাতাঃ হামিদা মর্তুজা
পিতাঃ গোলাম মর্তুজা।