রঙ বাক্স

ই-কমার্স এবং বাংলাদেশ | অনলাইনে ব্যবসা করা সহজ নয়-ঝুমা হোসেন

ঝুমা হোসেন, জন্ম চট্টগ্রাম জেলায় ।সেখানেই বেরে ওঠা। আমার বাবা পেশায় একজন ইন্জিনিয়ার,মা গৃহিনী।আমরা তিনবোন একভাই। সবার ছোট ঝুমা। পরাশোনা করেছেন চট্টগ্রামেই। স্কুলের স্মৃতি নিয়ে ঝুমা বলেনঃ “সব সময়ই দৌরে প্রথম অথবা দ্বিতীয় পুরস্কারটি আমারই থাকতো।”
চট্টগ্রামের একেখান গেটস্থ ভিক্টোরী মডেল হাই স্কুল হতে এস,এস ,সি পাশ করেন ঝুমা।পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সরকারী মহিলা কলেজ হতে এইচ,এস সি , এবং ফিলোসফিতে অনার্স ,মাষ্টার্স সম্পন্ন করেন।
দুই কন্য সন্তানের জননী ঝুমা শুরুর দিকের কথা বলতে গিয়ে জানানঃ “বিয়ের পর চট্টগ্রামের জব ছেরে ঢাকা চলে আসি।আত্মনির্ভরশীল থাকাটা সবসময়ই আমার ফার্স্ট প্রায়োরিটি ছিল। আর ছোটবেলা থেকেই কিভাবে মানুষ চাকরী দেওয়া যায় এধরনের চিন্তা মাথায় ঘুরতো। কিছুদিন একটা বুটিকের কিছু অর্ডারের কাজও করেছিলাম ছাত্রজীবনে। কিন্তু মনে হয়েছিল এখানে পরিশ্রমের মূল্যমান যথার্থ নয়। পরিশ্রমের চেয়ে মেধার মূল্যমান বেশী।তাই জব কন্টিনিউ করেছিলাম। সেই সুপ্তইচ্ছা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল উদ্যোক্তা হওয়ার । বিয়ের পর প্রথম সন্তান হওয়ার পর কিছুদিন চেষ্টা করেছিলাম চাকুরী কন্টিনিউ করার।কিন্তু সন্তানের জন্য বেশীদিন করা হয় নি।
আত্মনির্ভরশীল থাকার চেষ্টা অব্যহত ছিল। একদিন আমার হাসব্যান্ডের পরামর্শেই শুরু করেছিলাম ডিজাইনার কালেকশন নামে অনলাইন পেজটি।”

তিনি আরো বলেনঃ “অনলাইনে ব্যবসা করা সহজ নয়। একজন অন্টারপ্রুনার হতে হলে অবশ্যই পন্যের কালেরশনে নতুনত্ব থাকতে হবে। চেয়েছিলাম সবার চেয়ে নিজেকে একটু আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে ।কিন্তু মূলধন স্বল্পতার কারনে একা আগানো সম্ভব হচ্ছিল না। তখন সহযোগী হয়ে আমার এক বরো ভাই আমার সাথে যুক্ত হন এবং আমরা হ্যান্ডব্লক প্রিন্ট নিয়ে কাজ শুরু করে দিই। নিজেদের ডিজাইন করা পন্য কারিগর দিয়ে কাজ করিয়ে তৈরী করছি। ভাইয়ার মগবাজার ওয়ারলেসে একটি টেইলারিং শপ ও আছে। যেখান থেকে আমরা আমাদের পন্য অফলাইনে ও সেল করছি।”

উদ্যোক্তা হতে হলে কি দরকার সে সম্পর্কে ঝুমা বলেনঃ উদ্যোক্তা হতে হলে অবশ্যই পন্যের গুনগতমানের দিকে লক্ষ্য রেখে পন্য কালেক্ট করতে হবে। অনলাইন অনেক বরো একটা মার্কেটপ্লেস ।এখানে পন্যের মান নিশ্চিত করতে পারলে এটার সুনিশ্চিত উজ্জ্বল ভবিষ্যত রয়েছে। আমি আমার পেজ বুস্ট করে প্রচারনা করি।
তরুন উদ্যোক্তাদের নিয়ে বলেনঃ টারটআপদেরকে অবশ্যই গদবাধা আইডিয়া থেকে বের হয়ে আসতে হবে এবং নিজের আইডিয়াতে নতুন কিছু উপস্থাপনের চেষ্টা করতে হবে।তবেই তারা এই প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে পারবে। অনলাইন বিজনেস পুরোটাই নেটওয়ার্কিংয়ের ব্যপার ।তাই যতো বেশী মানুষের সাথে মিশবে তত ভালোভাবে মানুষকে জানতে পারবে এবং গ্রহনযোগ্যতা তৈরী হবে।তরুনদেরকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী ,ক্রিয়েটিভ হতে হবে এবং সঠিক পথে পরিশ্রমকে কাজে লাগাতে হবে তবেই তারা সফলতা অর্জন করতে পারবে।

ঝুমার আজকের অবস্থান নিয়ে ঝুমা জানানঃ “আমার হাসব্যান্ডের অনুপ্রেরনা না থাকলে কখনই আমার এটা শুরু করাই হয়ত হত না। সে সবসময়ই বলতো তুমি পারবা তোমাকে দিয়ে হবে। এই সাহসটাই আমাকে আত্মপ্রত্যয়ী করেছিল। পাশাপাশি to Women and e-Commerce forum ( WE ) এ এক্টিভ আছি। যেখান থেকে আমার এবং আমার পেজের গ্রহনযোগ্যতা বারছে। আমি WE এর প্রেসিডেন্ট #নাসিমা আক্তার নিশা আপুর কাছে এবং WE এর কর্নধার রাজিব আহমেদ স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ আমাদের জন্য এরকম একটা নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। to Women and e-Commerce forum ( WE ) এর কারনে দিনে দিনে আরো বেশী আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে উঠছি।