অনুরণন

লাভ স্টোরি (পর্ব ২)

সাইরা কোম্পানি থেকে বের হল।সে এখন রাস্তায় হাটছে। তার খুব হাসি পাচ্ছে এটা ভেবেই যে, সে একটু আগে নিলয়ের সাথে কি করেছে?সে কোনভাবেই নিজের হাসিটাকে control করতে পারছে না।রাস্তায় হাটার সময় যে বা যারা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন তারা সকলেই খুব অবাক চোখে সাইরার দিকে তাকিয়েছেন। তারা হয়তো মনে মনে ভেবেছেন মেয়েটা কি পাগল? সাইরা যেটা বুঝেও না বুঝার মত করে সে গাড়ী ভাড়া করে বাসায় চলে আসে।
কলিংবেল বাজছে।আম্মু তখন কিচেনে কাজ করছেন।কলিংবেলের শব্দ পেয়ে তিনি গেট খুলে আমাকে দেখতে পান। তিনি আমাকে বলেন,
আম্মু ঃসাইরা মামুনি আজকের interview কেমন হল?
আমি(সাইরা)ঃওই আর কি।আগের গুলোর মতই। আমার আর এই জীবনে জব করা হবে না।
আম্মুকে সব detailsএর
বলেছি।তিনি সব শোনার পর আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন,
আম্মুঃ মামুনি টেনশন কর না।আল্লাহর উপর ভরসা রাখ।সব ঠিক হয়ে যাবে।মন খারাপ কর না তো।তুমি fresh হয়ে এসো। কখন বের হয়েছ তুমি।ঘড়িতে এখন বিকাল ৪টা বাজছে,দেখছ তুৃমি?সকালে তাড়াহুড়ায় তো পেটে কিছুই পড়ে নি।চল খেতে।
আমি(সাইরা)ঃওকে আম্মুনি। আমি fresh হয়ে আসি।ওহ তুমি খেয়েছ তো?
আম্মু কিছু বলছে না দেখ সাইরা বলল,
আমি(সাইরা)ঃ হুম, তোমার মুখ দেখেই বুঝেছি যে,তুমি এখনও খাও নি।এমন কর কেন আম্মু?
সাইরা fresh হয়ে আসার পর দুই মা মেয়ে একসাথে lunch করে নেয়।
ঘড়িতে১১ঃ৩০(রাত)বাজছে। সাইরা Earphone এ গান শুনছে।ইঠাত তার ফোনটা বেজে উঠে। unknown number থেকে কল আসে।সে ফোন রিসিভ করে।ফোনের ওপাশে থাকা ভদ্রলোকটি তাকে বললেন,
ভদ্রলোক ঃআপনি সাইরা হোসেন বলছেন?
আমি(সাইরা)ঃজ্বী আমি সাইরা হোসেন বলছি। বলুন কি দরকারে ফোন করছেন?
ভদ্রলোক ঃ আপনি তো দেখছি ঠিক আমার বসের মত। বসের কথার বলার style আর আপনার কথার বলার style তো দেখছি same ।মনে হচ্ছে আমি যেন আমার বসের Female version এর সাথে কথা বলছি। বস তার মত একজনকে পেলেন অবশেষ।Interesting কিন্তু ব্যাপারটা ।

আমি(সাইরা)ঃ ওহ হ্যালো মিষ্টার। এসব কি বলছেন আপনি?(রাগান্বিত কন্ঠে)।
ভদ্রলোক ঃcool down Miss।Oh sorry আমিতো আপনাকে আমার পরিচয় দিতেই ভুলে গেছি।আপনি আজকে যে কোম্পানিতে interview দিতে এসেছিলেন। আমি সেই কোম্পানির Owner নিলয় স্যারের ম্যানেজার, জনি বলছি।কালকে থেকে আপনি অফিসে আসতে পারেন।
আমি(সাইরা)ঃতার মানে আমার জবটা হয়ে গেছে?এই যে মিষ্টার আপনি কি আমার সাথে fun করতে এত রাতে কল দিয়েছেন?😞😞
ভদ্রলোক ঃসাইরা ম্যাম, আপনার কি তা মনে হচ্ছে?
আমি(সাইরা) ঃ আমার কি মনে হচ্ছে সেটা বড় কথা নয়।আর মনে হলেও বা কিছু আসবে কি?
নিলয় স্যার যেমন তার p.A.টাও হয়েছে তেমন।এবার জমবে
ভালই🤣🤣Perfect couple যাকে বলে। মনে মনে এসব ভেবে জনির খুব হাসি পাচ্ছে।কিন্তু সাইরার সামনে সে তার হাসটাকে কোনভাবে control করে। তারপর সে সাইরাকে বলেন,
ভদ্রলোক ঃ ওকে,ওকে।আমি এবার আসল কথায় আসছি। Listen very carefully ,Sir আপনাকে সকাল ৭টায় যেতে বলছেন।আমি আপনাকে তার বাসার ঠিকানা sms এর পাঠিয়ে দিচ্ছি কেমন?
আমি(সাইরা)ঃ😠😠এত সকালে কেউ কি অফিসে যায়?
জনিঃ আপনি কি ভুলে গেছেন যে আপনি বসের P.A.?Soমনে রাখবেন একটা কথা মিস সাইরা এখন থেকে বসের সব কাজ আপনাকেই করতে হবে।এখন আমি রাখছি মিস।Good night Miss,take care.Bye,bye.
ফোন রেখে দেওয়ার পর সাইরা নিজের সাথে নিজে কথা বলছে,
সাইরাঃ Mr. Niloy, you are really a Devil.আমি ঠিক নামই দিয়েছি devil man,devil man😡😡Devil আমার সাথে যদি খারাপ কিছু করেছ তো তোমার কপালে দুঃখ আছে।devil man 😡😡😡রেগে আগুন হয়ে যায় সে।জনির sms এ পাঠানো ঠিকানায় সাইরা পোঁছে যায় পরেরদিন সকালে।নিলয়ের বাড়ি দেখে সাইরা তো খুবই অবাক।সাইরার মুখ থেকে বের হল, wow, so beautiful house.এটা যেন একটা রাজপ্রসাদ। এখানেই সেই devil man থাকে!ভাবা যায়?🤔🤔
সাইরাকে security guard ভিতরে নিয়ে যায়।নিলয় তাদেরকে আগে থেকেই ওর ব্যাপারে বলে রেখেছিল।তারা সাইরাকে নিয়ে সেই placeএর যান যেখানে নিলয় রয়েছে। এইসময় নিলয় তার personal gym এ থাকে। প্রতিদিনের মত আজও সে সেখানেই আছে। নিলয় সাইরাকে দেখে তাদেরকে তার আঙ্গুলের ইশারায় দিয়ে চলে যেতে বলে। তারা তাদের বসের order follow করেন।তারা চলে যাওয়ার সাথে সাথে নিলয় সাইরাকে খুব ভালভাবে দেখতে শুরু করে।তারপর সাইরাকে নিলয় বলল,
নিলয়ঃ কালকে জিমের পোষাক নিয়ে আসবে সাথে করে।আর আমার অফিসে কাজ করতে হলে এই চেহেরা চলবে না।
আমি(সাইরা)ঃ oh hello, what do u mean? এই চেহেরা মানে কি?
সাইরার কথা শুনে নিলয় হেসে বলে,
নিলয়ঃআয়না কি দেখার সময় পাও না তুমি?আয়নাতে নিজেকে দেখতে যদি, তবে বুঝতে আমি কি mean করছি।
আমি(সাইরা)ঃআমি যথেষ্ট ফিট আছি ব–স🙄🙄
নিলয়ঃOh real? তুমি ফিট সাইরা হোসেন? really 🤣🤣🤣(নিলয় হাসছে)।
devil man,you are really a devil. I just hate u.কেন যে এই মানুষটাকে আমি tolerate করছি?কি আর করব? আমার কাছে তো এছাড়া কোন option নেই।একটা ভাল জব না পাওয়া পর্যন্ত এই devil কে আমায় সহ্য করতেই হবে।আর হ্যা যেদিন আমার সাথে খারাপ কিছু করছে তো সেদিনই হবে এই জবের শেষ দিন। আর এই devilটাকে উচিত শিখা দেওয়ার দিনও।
মনে মনে সাইরা একথাগুলো বলছে।
নিলয় :তো দেখি তুমি কতটা ফিট? 50reps push করে দেখাও আমাকে। আর হ্যা থামলে চলবে না।একটা টানা করবে,তবেই আমি বুঝব তুমি যা বলেছ তা সত্যি। তুমি যে ফিট আমি তা মেনে নিব।
আমি(সাইরা)ঃকি?😡😡 are u mad?push-up? তাও এবার এই dress এ?
সাইরা তখন লং থ্রিপিস পড়েছিল।
নিলয়ঃstop excuse(রেগে)।পারবে না তো সেটা accept করে নাও সাইরা।
আমি (সাইরা)ঃকেন accept করব? বলেন তো ব..স,বস।
নিলয়ঃok fine।
সে তার একজন staffকে ডেকে সাইরার জন্য জিমের dress আনিয়ে নিল।তারপর সেটা সাইরাকে দিয়ে বলল,
নিলয়ঃchange করে এসো। আর এখন তো বলবে না যে এই dress possible নয়।
সাইরা change করে আসার পর নিলয় তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সাইরা কখনই t-shirt পড়ে নি।তাই তার এই পোশাকে খুবই uncomfortable feel হচ্ছে। আর সেটা নিলয়ের চোখে ঠিকই ধরা পড়ে। সে বুঝতে পারে তার ঘাড়ে হাতে রেখে বলে,
নিলয়ঃAh,i am so tried। আমি ভিতরে যাচ্ছি। আজ থাকা।challenge next time হবে।ভালভাবে preparation নিয়ে রেখো Miss P.A. আমি কিন্তু ছাড়ব না। মনে রেখ।
আজকের মত কাজ শেষ এখানে।এখন তুমি আসতে পার।আর হ্যা ১০টায় কিন্তু অফিস।মনে থাকে যেন।Late করবে তো তোমার কপালে কষ্ট আছে। তারপর সে হাতে নেড়ে সাইড়াকে bye জানিয়ে সে চলে যায়।
সে চলে যাওয়ার পরও সাইরা একই স্থানে পাথরের মূর্তির মত হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে।সে কি স্বপ্ন দেখছে? নাকি এটা তার সাথে বাস্তবে ঘটেছে?সে বুঝতে পারছে না কিছুই।তাই সে নিজের হাতে চিমটি কাটে check করার জন্য ।
সাইরাঃAh।তার মানে এটা স্বপ্ন নয়, এটা সত্যিই আমার সাথে ঘটেছে।এই মানুষটা আসলে চাচ্ছেটা কি? মানুষটা যেমনটা দেখাচ্ছে আসলে কি সে তেমন?আসলে কে আপনি নিলয় স্যার?যাই হোক এসব ভাবার মত সময় এখন আমার হাতে নেই। অনেক কাজ বাকি আছে।বাসায় যাব, shower নিয়ে breakfast কর আর ঘুম, সেটা পারব না 😪😪 যদি এখন বাসায় ফিরে ঘুমাতে যাই তবে অফিসের জন্য দেরী হবে।আর দেরী হলে তো এই মানুষটা মানে আমার নিলয় স্যার Devil man হয়ে যাবেন।তখন আমার সাথে কি ঘটবে আল্লাহ মালিকই ভাল বলতে পারবেন।আহ!জীবন তুমি এমন কেন😰😰জব ছিল না যখন তখনই তো ভাল ছিলাম😞😞

লিখেছেনঃ দিলরুবা হাসান পামি