রঙ বাক্স

ই-কমার্স এবং বাংলাদেশ | আমি বিলিভ করি একজন ভালো ও বিশ্বাস ক্রেতা আরো ১০ জন নতুন ক্রেতা পেতে সহযোগিতা করে-রুবা

আয়েশা রুবা -রুবা’স স্পেশাল(Ruba’s Special) নামক অনলাইন বিজনেসের কর্নধার । রামপুরা বনশ্রীতে অবস্থানরত রুবার জন্মস্থান টঙ্গি তে।। পরিবারের সবার ছোট রুবার মূলত ব্যবসায়ী পরিবার থেকেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠা। শহীদ স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয় এবং উত্তরা হাই স্কুল এন্ড কলেজে মানবিক বিভাগের ছাত্রী ছিলেন রুবা, বর্তমানে রুবা গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিল্পকলা & সৃজনশীল শিক্ষা বিভাগে । পড়াশুনার পাশাপাশি বির্তক, খেলাধুলা, বিভিন্ন ধরণের সৃজনশীল কাজ করা যেমন ক্রাফটিং, ছবি আঁকা এসবে রুবার আগ্রহ।

রুবার বিজনেসের যাত্রা শুরু ২০১৮ সালের জানুয়ারির ১৮ তারিখ।। অর্নাস ৩য় বর্ষে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে রুবার চেয়েছেন নিজস্ব একটা পরিচয় দরকার।। এবং সেই ভাবনা থেকেই একটা পেইজ খোলা এবং কি নিয়ে কাজ করবো তার চিন্তা করে ফেলা।
রুবা বলেনঃ শুরু টা আসলে খুব একটা সহজ ছিলো কারণ কাজের ক্ষেত্রে আমার নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতার সন্মুখীন হতে হয়েছে। ব্যবসায়ের কাচামাল গুলো সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে দরদাম সব কিছু তে আমাকে একজন মেয়ে হিসেবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কে ফেইস করতে হয়েছে যা মোটেও আমার অনুকূলে ছিলো না।
তিনি আরো জানানঃ কাজের শুরুতে ঠিক মন্দ কথা না ফেইস করলেও নানা ভাবে নিরুৎসাহিত হতে হয়েছে। যেমন আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমাকে বলেছিলো এসব বাদ দিয়ে চলো আমার সাথে বিসিএস / ব্যাংক জবের কোচিং ভর্তি হ, কিন্তু আমি এ ধরণের নিরুৎসাহিত কথাগুলো কে কর্ণপাত না করে নিজের আত্নবিশ্বাস ও কাজের উপর ফোকাস ছিলাম।

প্রতিষ্ঠানের নামকরণের পিছনে রুবা যে জিনিস টা কে মাথায় রেখেছিলাম তা হচ্ছে রুবার- প্রতি টা কাজ স্পেশাল, অন্যদের থেকে আলাদা আর তাই নিজের নামের সাথে স্পেশাল শব্দ জুড়ে দিয়েই রুবার প্রতিষ্ঠানের নাম- রুবা স্পেশাল।। রুবা জানানঃ বর্তমানে আমার ব্যবসায় বেশ ভালো চলছে।। আমি মূলত আচার, পেইন্টিং বিশেষত গ্লাস পেইন্টিং, কাঠের উপর খোদাই করা নানাধরণের নকশা, ক্রাফটিং, ফেবরিক নিয়ে কাজ করছি; এবং খুব শীঘ্রই খাদ্য ভেজাল এই বিষয় কে মাথায় রেখে হোম মেইড ফ্রোজন ফুড আমার ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে আচার এবং গ্লাস পেইন্টিং সবথেকে বেশি চলছে। কারণ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আচার নিয়ে কাজ করে খুব কম প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং বাইরের আচার খুব অস্বাস্থ্যকর ভাবে তৈরি হয়। তার জন্য ক্রেতারা হোম মেইড পণ্যের প্রতি খুব বেশি আগ্রহী। অন্যদিকে গ্লাস পেইন্টের কথা বললে আমার গ্লাস পেইন্টের ডিজাইন খুব বেশি ইউনিক ও কোয়ালিটি সম্পন্ন এছাড়া আমি যেহেতু কাস্টমারদের নিজস্ব পছন্দের ডিজাইন নিয়ে কাজ করে থাকি তাই আলহামদুলিল্লাহ ভালো রেস্পন্স পাচ্ছি।

নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দ্যেশ্যে রুবা বলেনঃ আমার মতে উদ্যোক্তা হতে চাইলে সৎ, উদ্যোমী, আত্মবিশ্বাসী, পরিশ্রমী, শক্ত মানসিকতার অধিকারী বিশেষ করে ধৈর্যশীল হতে হবে।। এছাড়া আরো ১ টা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে সব সময় আপডেট হতে হবে।। আমি ব্যবসায়ের বাইরে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে চাই বিশেষ করে যারা অর্থের অভাবে পড়াশুনা করতে পারে না তাদের পাশে দাড়াতে চাই।। আমি মূলত ক্রেতা কে প্রাধান্য দিয়েছি কারণ আমি বিলিভ করি একজন ভালো ও বিশ্বাস ক্রেতা আরো ১০ জন নতুন ক্রেতা পেতে সহযোগিতা করে। এছাড়া বর্তমানে ফেইসবুকের কল্যাণে বিভিন্ন ধরণের এড, বুস্ট, পেইজ প্রমোট করা খুব সহজ এবং এর মাধ্যমে খুব সহজে ক্রেতাদের কাছাকাছি যাওয়া যায়।

ব্যবসায়ের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে রুবা জানানঃ আমার ব্যবসায় নিয়ে যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে তা হলো একটা বড় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যেখানে এক ছাদের নীচে আমার তৈরি সব ধরণের পণ্য থাকবে।। তরুন উদ্যোক্তাদের জন্য জনসংযোগ খুব বেশি জরুরি এবং এক্ষেত্রে তাদের কে সামাজিক হতে হবে এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়িক নানা ধরণের সংস্থার সাথে যুক্ত হতে হবে।। তরুনদের আসলে প্রথমে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে সে কি আসলেই ব্যবসায়ী হতে চায় কিনা।। এরপর তাকে তার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার কাজের প্রতি সৎ ও ডেডিকেটেড হতে হবে।

রুবা জানানঃ আমাকে উদ্যোক্তা হতে অনুপ্রেরণা দিয়েছে আমার বাবা ও মা। বিশেষ করে আমার কাজে পরার্মশ থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে আমার মা সাহায্য করে। এছাড়া বাংলাদেশের বিবি রাসেল ও স্যার ফজলে হাসান আবেদ কে আমার ব্যবসায়ের আইডল হিসেবে দেখি। আজকে আমি যতটুকু সফল হয়েছি তার পিছনে বড় কারণ হলো আমার কাজের প্রতি ভালোবাসা, একাগ্রতা, সততা ও আত্নবিশ্বাস ; এখানে আত্নবিশ্বাস বলতে মূলত এই জিনিস টা বুঝিয়েছি যে আমি পারবো ই এমন মনোভাব রাখা। আমি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি “উইমেন এবং ই-কমার্স ফোরাম (উই) ” এর প্রতি যেটার প্রতিষ্ঠাতা শ্রদ্ধেয় রাজীব আহমেদ স্যার।। এই গ্রুপের মাধ্যমে আমি বিভিন্ন ধরণের ব্যবসায়িক দিক নির্দেশনা পেয়েছি।। আমার স্বপ্ন ও একই সাথে চাওয়া বাংলাদেশের সরকার থেকে শুরু করে নানাধরণের বেসরকারি দাতাগোষ্ঠী গুলো তরুন উদ্যোক্তা দের পাশে থাকে এবং বাংলাদেশ কে কর্মমুখী বাংলাদেশে রূপান্তরিত করে।