রঙ বাক্স

ই-কমার্স এবং বাংলাদেশ | নিজ টার্গেট এর দিকে ফোকাস করতে হবে- তাবাসসুম

পুরোনো ঢাকার আরমানীটোলায় জন্ম তাবাসসুম ফারাহ্ ব্যবসায় শিক্ষার উপরে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন আহমেদ বাওয়ানী একাডেমী থেকে, এরপর সমাজকর্-এর উপরে স্নাতক করেন বেগম বদরুন্নেসা সরকারী মহিলা কলেজ এবং স্নাতকত্তর শেষ করেন ইডেন মহিলা কলেজ থেকে। সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের অধীনে পড়াশুনা চলাকালীন সমাজকর্মী হিসেবে হাসপাতালে অর্থহীন দারিদ্র রোগীদের জন্য কাজ করেন।
তাবাসসুম কে নিয়ে বাবা মার স্বপ্ন ছিলো পড়াশুনা করে অন্যের উপকারে আসে এমন একজন মানুষ হবেন। ক্যারিয়ার নিয়ে ছোটবেলার স্বপ্নই ছিলো সেল্ফ ইন্ডিপ্যান্ডেন্ট হবেন। তবে কারো অধীনে কাজ করে নয়। নিজের পক্ষে যা সম্ভব হবে এমন কিছু নিয়ে কাজ করবেন তাবাসসুম। আর এমন কিছু নিয়ে কাজ করবেন যা শুধুমাত্র অন্য মানুষেরও উপকারে আসবে।

তাবাসসুম জানানঃ বর্তমানে আমি একজন ই-কমার্স এবং এফ কমার্স ব্যাবসায়ী। আমার ব্যাবসায়িক যাত্রা শুরু হয় ২০১২ সাল থেকে। ক্যারিয়ারের শুরুটা ছিলো এমন যে ব্যাবসা করবো। তবে পারিবারিক সমর্থন না থাকার কারণে আমার কাছে কোন মূলধন ছিলোনা। টাকা বলতে শুধুমাত্র ক্যাম্পাস আসা-যাওয়ার এবং কোচিং ক্লাসে আসা যাওয়ার রিক্সাভাড়া টাই থাকতো। সেইটা দিয়েই ব্যাবসা শুরু করা টা মূলত একটা চ্যালেঞ্জ ছিলো আমাত জন্য। তখন আমি ক্যাম্পাস এবং কোচিং ক্লাসে যেতাম ফ্রেন্ডের সাথে শেয়ারে। রিক্সাভাড়া আর ক্লাইন্ট থেকে প্রডাক্টের দামের ৫০% অগ্রীম নিয়ে ই প্রডাক্ট আনতাম। আরেকটা সুবিধা ছিলো ফ্রেন্ডের বাসায় তার শ্বশুরের একটা গোডাউন ভাড়া দেয়া ছিলো। যেখানে ইম্পোর্টার বাহির থেকে এনে প্রডাক্ট রাখতো। আমার ফ্রেন্ড আমাকে সেখান থেকে প্রডাক্টের সোর্সিং করে দিতো।

কাজ শুরু করতে গিয়ে ব্যর্থতা নিয়ে বলেন তাবাসসুমঃ প্রডাক্ট প্যাকেজিং টা ভালো বুঝতাম না। যে কারণে প্রডাক্ট ভেঙে যাওয়ার ফলে ক্ষতিপূরণটা দেয়া লাগতো।
ক্যারিয়ারের শুরুতে পরিবার থেকেই বাঁধা টা এসেছিলো। পরিবারের সদস্যরা মনে করতেন ব্যাবসা কোন সম্মানীত পেশা না। এতো কষ্ট করে পড়াশুনা করিয়েছেন। ভালো উচ্চপদস্থ কোন জব করবো। পরোপকার করবো। ব্যাবসা করা কেউ ভালো চোখে দেখেনা। চাকুরী একটা সম্মানজনক পেশা। সরকারী চাকুরী আরো বেশি সম্মানের। তবে কথা প্রসঙ্গে আমাকে বোঝানো যে ব্যাবসা কোন ভালো পরিবারের মেয়েরা করেনা৷ ব্যাবসা পেশাটা সম্মানজনক না। এটা প্রচুর হয়েছে। কিছু বিশেষ মানুষ থেকে আসছে কথাগুলো। পরিবারের সবার থেকে না।

মন্দ লোকের মন্দ কথা, কটাক্ষ করা, নিরুৎসাহিত করা কে একই পরিবারের ভালো সদস্য দের উৎসাহের মাধ্যমেই কাটিয়ে উঠেন তাবাসসুম। কোম্পানির নাম প্রথমে রাখেন এক্সক্লুসিভ কালেকশন্স,পরবর্তীতে তাবাসসুম এবং তাঁর স্বামী মিলে সিদ্ধান্ত নেন যেহেতু তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সেইসব দেশের উল্লেখযোগ্য পণ্য বাংলাদেশে এনে বিক্রয় করেন তাই এই প্রতিষ্ঠানের নাম হওয়া উচিত Shop Global BD (শপ গ্লোবাল বিডি)।
তাবাসসুম বলেনঃ আলহামদুলিল্লাহ্ বর্তমানে ব্যাবসা ভালো চলছে। যেহেতু আমরা একের ভিতর সব প্রজেক্টে কাজ করার স্বপ্ন দেখছি বর্তমানে অলংকার,,প্রসাধনী সামগ্রী,,রান্নাঘরের এবং গৃহস্থালী সামগ্রী,,বাচ্চাদের জন্য শিক্ষণীয় খেলনা নিয়ে কাজ করছি। ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় গৃহস্থালী পণ্যের ক্রেতা বেশী।

উদ্যোক্তা হতে চাইলে কি করতে হবে এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তাবাসসুম জানানঃ নিজ টার্গেট এর দিকে ফোকাস করতে হবে। আমার সমমানের অন্য পেজ কি কাজ করছে সেদিকে নজর দেয়া যাবেনা। কোম্পানি / প্রতিষ্ঠানের এবং পণ্যের প্রচারনা ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রুপে স্পন্সরিং এবং নিজ এক্টিভিটি টাই চালায়ে যাচ্ছি। বর্তমানে আমাদের একটিই অফিস আছে সেটা পশ্চিম শেওড়াপাড়া মিরপুরে। গোছানো কোন শো-রুম নয়। তবে কাস্টমার চাইলে এসে দেখে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানের আরও কোন শাখা বৃদ্ধির পরিকল্পনা আছে। সেটা ঢাকার পরেই চিটাগং এ ইচ্ছা আছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলতে এটা আরো বেশি বিস্তৃত হবে। এর অধীনে আরো বেশি কর্মী কাজ করবেন। মেয়েদের আত্মনির্ভরতা আসবে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এইটাই কামনা। নতুন স্টার্টআপদের ভালো করতে হলে পাবলিক রিলেশন টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ উদ্যোক্তার জন্য জনসংযোগ এর কোন বিকল্প নাই। নিজেই মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করে জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

ব্যবসার বাইরে সমাজসেবায় নিয়োজিত আছেন তাবাসসুম। এটাই করতে চাই। অনেক গুল স্টেপ পার হয়ে বর্তমানে তাবাসসুম নিজ জায়গা থেকে সফল এবং ভবিষ্যতে আরও সাফল্য অর্জন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তাবাসসুম নিজের সফলতার পিছনে তাঁর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং লোকজনের সাথে সম্পর্ককে উল্লেখ্য করনে। পরিবারের ভাই, স্বামী এবং অন্যদেরকেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তাবাসসুম ই-কমার্স এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে বলেনঃ যে লক্ষ্যে আমি কাজ টা শুরু করেছিলাম ঠিক তেমনি একটা বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। যেখানে প্রত্যেকটা মেয়ে আত্মনির্ভর হবে। বিয়েই মেয়েদের জীবনের লক্ষ হবেনা। একটা মেয়ে কে তার পরিবার থেকে বিয়ে করা ছাড়াও আরো অনেক কিছু করার আছে জীবনে এই শিক্ষা দেয়া হবে। ঘরে ঘরে ছেলেদের মতো মেয়েরাও আগে নিজ পায়ে দাঁড়াবে এবং তারপর বিয়ের দিকে আগাবে। এমন একটা বাংলাদেশ দেখতে চাই।