মুক্তধারা

নূরানি দাড়ির অন্তরালে

নূসরাত জাহান: রাস্তায় কয়েকটা ৯/১০ বছরের ছেলে প্রতিদিন ক্রিকেট খেলে। passerby দেখলেও থামে না। আমার নিজের গায়ে ২ দিন বল লেগেছে। এই বয়স এর বাচ্চাদের কিছু বলি না। কিন্তু বলা উচিত ছিল, আজ বুঝতে পারলাম। আজ ও দেখেও খেলেই যাচ্ছে। ঘটনা অন্য জায়গায়। বাচ্চাগুলোকে পাশ কাটাচ্ছিলাম সাবধানে, last time কনুইতে বল লেগেছিল, মনে হয়েছিল electric shock খেয়েছি। আসল ঘটনায় আসি। পাশ কাটানোর সময় পাশের বাড়ি থেকে চেঁচামেচি। নূরানি দাড়িযুক্ত এক বুজুর্গ এর সামনে এক ৬/৭ বছর এর মেয়ে, সাথে অভিভাবক। তো সেই নূরানি দাড়ির বুজুর্গ “প্রভুত্তের” সাথে বললেন “এই মেয়ে তো পোলাগুলারে নষ্ট করতেসে”।

কীভাবে তা জানার প্রয়োজন মনে করিনি। মুখে একগাদা থুথু চলে আসছিল। একটা ৬/৭ বছরের মেয়েকেও ফতোয়া (আমি বলি ফতুয়া) দিচ্ছে, আর ছেলেগুলো এখনি বুঝে যাচ্ছে ওরা superior. মেয়ের অভিভাবক কিছু বলছে না। আমি underweight না হলে নূরানি দাড়ির superiority complex এ আক্রান্ত male chauvinist বেটার দাড়ি ধরে কয়েক দফা দিতাম। দিতাম বলেছি মানে দিতাম। ছিনতাইকারীকে চড় দেখিয়েছি তুই কোন ছাড়। society ছোট থেকেই ছেলেদের শেখাচ্ছে ওরা যা খুশি করতে পারে, ধর্মের নামে কত কী হচ্ছে !

ধর্মের নাম দিলেই ধর্মভীরু অন্ধের দল বেহুশ। আলহামদুলিল্লাহ নামাজ পড়ি। সর্বোপরি আমি believer. কিন্তু society ঠিক করতে গেলে আপনি ধর্মকে ঢাল হিসেবে আনতে পারবেন না। চপড়চপড় করে পান চিবিয়ে ধর্মের নামে ফতোয়া আর কতদিন ! society থেকে কলুষতা দূর করতে হলে secularism দরকার। দেশটা সবার। আপনার নূরানি দাড়ির “প্রভুত্তের” দিন প্রায় শেষ বলে আশা করছি। দিন বদলাইসে, ধর্মান্ধরাও বদলান। ধর্ম চর্চা হবে ঘরে, বাইরে আপনি / আমি “মানুষ”। চেষ্টা করলেই আমরা হতে পারি “ভালো মানুষ”। তো নূরানি দাড়ির চাচা, আজ যাই। লাইনে আসুন, কারন, সময় গেলে সাধন হবে না।