মুক্তধারা

২০ দিন ধরে নিখোঁজ ১০ বছরের শিশু

মোঃআনোয়ার হোসেন, পিতাঃ- মজিবুর রহমান,মাতাঃ- শান্তি বেগম,
গ্রামঃ- ঠাকুরগঞ্জ,বানিডাংগা,
ইউনিয়নঃ- বালাপারা,
থানাঃ- ডিমলা,
জেলাঃ- নীলফামারী।

এই শিশুটিকে ঢাকায় ভালো চাকরি ও থাকা খাওয়া দেয়ার কথা বলে তার মা কে না জানিয়ে একটি ছেলে ঢাকায় নিয়ে আসে,এরপর নবীনগর রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়।১২/০৫/২০১৯ তারিখে সকালে নবীনগরে ছেলেটি আমার সামনে পড়লে সে আমার কাছে খাবার খাওয়ার জন্য টাকা চায়। এরপর তার কাছ থেকে আমি আমার মন থেকে তার পরিবার সমপর্কে জানতে চাইলে সে আমাকে বিস্তারিত বলে এবং আসল ঘটনা জানতে পারি।তারপরেই আমি তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।

এরপর সেলুনে নিয়ে তার চুল কাটানোর ব্যবস্থা করি এরপর বাসায় এনে গোসল করিয়ে তার ময়লা জামা কাপড় ফেলে দিয়ে পরিস্কার জামা কাপড় পরিধান করাই এবং খাবার খেতে দেই।এক পর্যায়ে তার শরীরে আগে থেকে থাকা জ্বর বাড়তে থাকে।এরপর তাকে নিয়ে আমি ফার্মেসী যাই এবং তাকে ঔষধ খাইয়ে তাকে কিছুটা সুস্থ্য করে তুলি।এরপর আমার কাছাকাছি থানায় রিপোর্ট করি এবং ছেলেটির বাড়ির ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মফিজ উদ্দিন স্যার কে অবহিত করা হয়।ছেলেটি তার ঠিকানা বলতে পারে বাসার মোবাইল নাম্বার বলতে পারে না।ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে ছেলেটিকে কথা বলিয়ে দিলে ছেলেটি তার ঠিকানা সেই অফিসার ইনচার্জ কে জানায়।

পরে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ এরপরেই ছেলেটির বাড়িতে খোজ নেয়া শুরু করে। এক পর্যায়ে ছেলেটির বাড়ির খোজ পাওয়া যায় এবং বালাপারা ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান সাহেব এর সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয় আমার সাথে।এরপর আমি ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ স্যার কে এবং চেয়ারম্যান কে আস্বস্ত করি এই যে আমি নিজে ছেলেটিকে বাড়িতে পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা করছি।এরপর সকলের সহযোগীতায় আমি ছেলেটিকে নিয়ে ১২/০৫/২০১৯ রাত ১১:০০ টায় আমি নীলফামারীর উদ্দেশ্যে রওনা হই।১৩/০৫/২০১৯ সকাল ৯:০০টায় আমি ডিমলা থানায় পৌছে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ স্যার সাথে ছেলেটিকে নিয়ে দেখা করি।এরপর অফিসার ইনচার্জ স্যার আমাকে ছেলেটিকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে বলে। আমি ছেলেটিকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আসলে তখন আমাকে ছেলেটির এলাকার মেম্বার সাহেব এর বাড়িতে পাঠানো হয়। এরপর সেখানে ছেলেটির পরিবারের সদস্যদের ডাকানো হলে তারা মেম্বার সাহেব এর বাড়িতে আসেন।এরপর ছেলেটিকে তার মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়।তুলে দিয়ে আমি আবার আমার গন্তব্য স্থলে রওনা হই।

খুবই ভাল লেগেছিল মা ছেলেকে কাছে পেয়ে তার আনন্দময় মুহুর্তে সেই মায়ের মুখের হাসি দেখতে পেয়ে এবং মায়ের কোলে তার সন্তান কে ফেরত দিতে পেরে আমি নিজেও আবেগ্লাপুত হয়ে পরি।
স্মরনীয় হয়ে থাকবে সারাজীবন এই মুহূর্তগুলো।
মোঃশামীম হোসেন
০১৭৮৯৯৮৫০০০
আরবান কমিউনিটি ভলান্টিয়ার
সাভার ফায়ার স্টেশন।