মুক্তধারা

ধর্ষণ ও বাংলাদেশ

সাবরিনা চাঁদনীঃ সম্প্রতি এ দেশে ধর্ষণ মহামারী রূপ ধারণ করেছে। এ অবস্থা সৃষ্টির বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।

১. অন্যতম একটি কারণ হলো নীতি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়। আর এই অবক্ষয়ের কারণ হলো অভিভাবক সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে না পারা। তাদেরকে যথাযথ নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত না করতে পারা। সন্তানকে যথেষ্ট পরিমাণ সময় না দেয়া। বাবা-মায়ের অভ্যন্তরীণ কলহ।

২. বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ যে ব্যাপারটা তা হলো প্রত্যেকের হাতে smartphone । ইভেন টিন এজ এর বাচ্চাদের পর্যন্ত পার্সোনাল smartphone ইউজ করতে দেখা যায়। আচ্ছা এই বাচ্চা গুলা smartphone দিয়ে কী করছে বাবা-মা কী গিয়ে দেখেছেন কখনও?
ধরে নিলাম ওরা টিউশন এর পড়া গুলো capture করে আনে, তা আবার ফ্রেন্ড দের সাথে শেয়ার করে, হতে পারে ওরা facebooking করে, হতে পারে troll ভিডিও দেখে আবার এমনও হতে পারে ওরা porn ভিডিও দেখছে, হতে পারে messenger এ sex chat করছে । এই সম্ভাবনা গুলো কিন্তু আপনি উড়িয়ে দিতে পারেন না। বর্তমানে মেয়েরাও কিন্তু এ ব্যাপারে পিছিয়ে নেই।

মাঝে মাঝে কিছু নীরব গলি বা চিপা চাপায় দেখা যায় একদল ছেলে বা একজন বা দুজন লোক দাঁড়িয়ে কী যেন দেখছে। কী মনে হয় কী দেখছে? ধরি ওরা অশ্লীল কিছু দেখছে। তাদের উপর ভর করল হিংস্র জানোয়ার। ঠিক সেই মুহূর্তে একটা মেয়ে তার সামনে দিয়ে যাচ্ছে হতে পারে সে ২ বছরের শিশু, হতে পারে বোরকা পড়া কেউ, হতে পারে পঞ্চাশোর্ধ কোন মহিলা। তখনই তার উপর ঝাঁপিয়ে সে তার পশুত্ব মিটায়। এই smartphone আর অশালীন কন্টেন্ট গুলোই যুব সমাজের অধঃপতনের জন্য দায়ী। যা একেবারে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

৩. ইদানিং কিছু কিছু নিউজ পোর্টালে দেখা যায় “৪ বছর ধরে ধর্ষন”, “বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ” এ গুলো আসলেই কী ধর্ষণের সংজ্ঞার মধ্যে পরে কিনা। আমদের সমস্যা হচ্ছে আমরা বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কটাকে অপরাধ মনে করছি না। যাকে ধর্মীয়ভাবে ব্যাভিচার বলা হয়।

চার বছর ধরে আপনাকে কেউ ব্ল্যাকমেইল করে আপনার সবচেয়ে দামি সম্পদের উপর নেতৃত্ব করছে আর আপনি তাই করে যাচ্ছেন যা সে বলছে। আর আপনি বলছেন আপনার দোষ নেই। হ্যাঁ আপনার দোষ অবশ্যই আছে। আপনার সাথে যেদিন অন্যায় হয়েছিল সেদিনই আপনার এর প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কিন্তু আপনি তা না করে প্রতিনিয়ত তার সেই অন্যায়ের অংশীদার হয়েছেন । স্বজ্ঞানে প্রতিদিন ধর্ষিত হয়েছেন।

আচ্ছা ‘প্রলোভন’ মানে কী? লোভে পড়ে কোনো অপরাধ করা। যাতে মেয়েটিও সমান দোষী। আমি লোভে এমন কাজ করবো কেন যা একটা বড় অপরাধ? যখন ধর্ম, মা-বাবা, সমাজ আপনাকে কাজটা করতে নিষেধ করছে তখন আপনি মানলেন না, সেটাকে অপরাধ মনে করলেন না আর আপনার পার্টনার যখন বিয়ে করল না বা তার সাথে মিলল না তখন সে ধর্ষক। তাহলে আপনিও কী ধর্ষক নন? কারণ একই অপরাধ আপনিও করেছেন।

৪. অন্যতম আরেকটা কারণ হলো আমাদের দেশের দুর্বল আইন। ধর্ষণের বিরুদ্ধে শক্ত কোন আইন না থাকা আর যে আইন আছে তা যথাযথ প্রয়োগ না করা, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা, ক্ষমতা প্রয়োগ করে ধর্ষককে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়া ধর্ষনকে কয়েক মাত্রায় বাড়িয়ে দিয়েছে। আচ্ছা লোক সম্মুখে একজন ধর্ষককে বা ব্যাভিচারী পুরুষ অথবা নারীকে পাথর নিক্ষেপ করে অথবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে যদি হত্যা করা হয় এরপর কী মনে হয, আর কেউ ধর্ষন বা বিবাহ বহির্ভূত শারিরীক সম্পর্ক করবে? তখন এটা কেউ চিন্তা করতেও ভয় পাবে। ধর্ষণ ০.০০১% এ নেমে আসবে।

যদি দেশটাকে ধর্ষনের এই অভিশাপ থেকে বাঁচাতে হয় তবে অতিদ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। নিজেদের মাঝে সচেতনতাবোধ জাগ্রত করতে হবে। অন্যায়কে অন্যায় মনে করতে হবে। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহারের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে অশালীন সাইট গুলো বন্ধ করতে হবে। মজবুত আইন তৈরি করে তার দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

আরও অনেক বিষয় রয়েছে কিন্তু আমার কাছে বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে সেগুলো নিয়েই আলোচনা করলাম। লেখায় ভুল ত্রুটি থাকতে পারে, ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিক্ষায়-