মুক্তধারা

অশালীন পোষাক কি সমস্যা?

সাবরিনা চাঁদনিঃ জ্বি অশালীন পোষাক সমস্যা। তবে পোষাক একমাত্র সমস্যা না। অনেকগুলো সমস্যার মধ্যে একটি। অশালীন পোষাক একজন পুরুষের মধ্যে সুড়সুড়ি তৈরী করে। উদ্বুদ্ধ করে অন্যায় কাজের। যেখানে ছোট শিশু ধর্ষণের শিকার হয় সেখানে হয়তো পোষাক ভূমিকা রাখে না, আবার রাখে।

যেমন কেউ সামাজিকভাবে পর্দা প্রতিষ্ঠিত না থাকার কারণে বিকৃত হয়ে গেছে। এমন ঘটনার খবর পাওয়া যায়, যাকে দেখে সে উত্তেজিত হয়েছে তা তার নাগালের বাইরে তখন নাগালের মধ্যে থাকা শিশু অথবা অন্য কেউ তার জঘন্য আচরণের শিকার হয়। বাংলাদেশের বেশিরভাগ বিকৃতদের মানসিকতা নষ্ট হয় সিনেমার নায়িকাদের দেখে। শুধু দেশী নয়, বিদেশী নায়িকারাও এর মধ্যে আছেন। কিন্তু ধর্ষকরা তাদের নাগালে পায় না। নাগালে যাকে পায় তাকেই নির্যাতন করে।

আমাদের একটা ব্যাপার হলো আমরা ইফেক্ট নিয়ে আলোচনা করি। কারণ অনুসন্ধান করি না। কারণ অনুসন্ধান করলে ধর্ষণ শূন্যের কাছাকাছি নিয়ে আসা সম্ভব।

আমি মোটাদাগে ধর্ষণের কয়েকটি কারণ উল্লেখ করতে চাই
১- সমাজের সীমাহীন বৈষম্য ও অপরাধের বিস্তার
২- উপযুক্ত ও নৈতিক শিক্ষার অভাব
৩- অপসংস্কৃতির প্রভাব
৪- ব্যাক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে পর্দার বাস্তবায়ন না থাকা
৫- বিয়ে কঠিন হওয়া
৬- সর্বোপরি একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়পরায়ণ শাসনব্যবস্থা না থাকা।

তাহলে করণীয় কী?

করনীয় দুই ধরণের এক ব্যাক্তিগতভাবে দুই সামাজিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে

ব্যাক্তিগত করণীয়ঃ

১- পর্দার ব্যবস্থা করা। এই পর্দা শুধু সতর ঢাকা নয়। পর্দার বিধান মেনে নেয়া। ১৪ শ্রেণীর মাহরাম ছাড়া কারো সাথে (পুরুষ এবং নারী) দেখা না দেয়া। পরিবারে ও ব্যাক্তিগতভাবে পর্দা মেইন্টেইন করা। অবৈধ কোন কিছু না দেখা। পরিবারের সদস্যদের শালীন পোষাকে অভ্যস্ত করা। এতে সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়।

২- ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় সন্তানদের সুশিক্ষিত করা।

৩- অপসংস্কৃতি থেকে নিজে ও পরিবারকে রক্ষা করে সেখানে সুস্থ সংস্কৃতির বিস্তার করা। সন্তানরা কার সাথে মিশছে কাকে বন্ধু বানাচ্ছে এগুলো খেয়াল করা। অসৎ সঙ্গ থেকে সন্তানকে রক্ষা করা। শুধু পড়ালেখা নয় অন্য কোন এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিজে সন্তানদের আগ্রহী করা ও ব্যস্ত রাখা।

৪- ইন্টারনেট কানেকশনে প্যারেন্টিং সফটওয়্যার ইউজ করা।

রাষ্ট্রীয়ভাবে করণীয়ঃ

আপনি ব্যাক্তিগতভাবে যত পদক্ষেপই নেন না কেন তা কেবল সামান্যই ভূমিকা রাখবে। বলা চলে আপনি কিছুটা হিফাযত হবেন। কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান কোনভাবেই হবে না। সমস্যার সমাধান হতে পারে রাষ্ট্রীয়ভাবে গৃহীত পদক্ষেপে।

১- সমাজ থেকে অন্যায়কে রুখে দেয়া। সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করা।
২- ইন্টারনেটে অপসংস্কৃতি ও অশ্লীল কন্টেন্ট নিষিদ্ধ করা
৩- সিনেমাতে অসামাজিক ও অশ্লীল দৃশ্য এবং পর্দার বিধান লংঘন হয় এমন কন্টেন্ট নিষিদ্ধ করা।
৪- পর্দার বিধান প্রতিষ্ঠিত করা। জনগনকে শালীন পোষাকে অভ্যস্ত করা
৫- সবশেষে শাস্তির বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ হওয়া। এক্ষেত্রে উপরোক্ত বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করতে পারলে শাস্তি দেয়ার মত লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইনশাআল্লাহ।

যদি একলাইনে সমাধান চান তবে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী সমাজ প্রতিষ্ঠা করলেই এর সমাধান সম্ভব।

আসুন বিচ্ছিন্ন কথা না বলি, বিচ্ছিন্ন কাজ না করি। সবাই মিলে ইকামাতে দ্বীনের কাজ করি। আমরা আমাদের জাতিকে এই ভয়ানক ব্যধি থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।