মুক্তধারা

ঢাকার রাস্তায় জিম্মি জনগণ

সুস্মিতা জাফরঃ ট্রাফিক পুলিশের কাজ কি শুধু প্রতি সিগন্যাল এ মোটর সাইকেল অথবা প্রাইভেট কার থামিয়ে চট করে একটা মামলা ঠুকে দেয়া? এই যে কাল ধোঁয়া তুলে মুড়ির টিন মার্কা বাস গুলো হই হই করে গলির মধ্যে ঢুকে যায় মেট্রো রেলের দোহাই দিয়ে, লেন মেইনটেইন না করে বড় রাস্তায় একবার ডানদিকে তো এক সেকেন্ড পরে বামদিকে সরে যায়, রাস্তা আটকে মাঝ রাস্তায় যাত্রী ওঠায় এবং নামায়, ফ্লাই ওভার দিয়ে এত তীব্র বেগে প্রতিযোগিতা করে একটা বাস আরেকটাকে অতিক্রম করে যায় যে মোটর সাইকেলে বসা অবস্থায় আমার মনে হয়, যেন এই বুঝি মেরে দিল, ফ্লাই ওভার এর রেলিং ভেংগে এই বুঝি মারা পড়লাম!!

ড্রাইভিং শেখার পর ২০১৭ এর শেষের দিকে প্রায়ই ফ্লাইওভার থেকে নেমে মিরপুর DOHS কিংবা মিরপুর ১০ নাম্বার থেকে DOHS এ ড্রাইভিং করে আসা শুরু করসিলাম। অতি অল্প পথ মনে হলেও নতুন ড্রাইভিং শেখা কেউ দয়া করে মিরপুর ১০ থেকে DOHS রাস্তা টা একটু প্রাইভেট কার নিয়ে চালিয়ে এসে দেখবেন, মনে হয় যেন, দোযখের কোন রাস্তা পাড়ি দিচ্ছি! কিন্তু বাস ড্রাইভার যখন দেখল, বাহ, মহিলা ড্রাইভার চালাচ্ছে, কসায়ে মেরে দেই, প্রতিবাদ তো করতে পারবে না। কোন কারণ ছাড়াই সিগন্যাল দেয়া সত্ত্বেও সেই জাবালে নূর আমার আম্মু-আব্বুর গাড়িটা গুড়িয়ে দিয়ে চলে যায়! কোন ট্রাফিক পুলিশের টিকিটাও দেখলাম না সেদিন সকালে! একটু হলে সেদিন আমিও খবরের কাগজের পাতায় হয়ে যেতাম— মেধাবী ডাক্তার! আর এরপর থেকে আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, গাড়ি চালালে আর এই দেশে চালাব না কিংবা চালালেও নিজের গাড়ি চালাব, বাবা-মা’র পয়সা নষ্ট হতে দিব না এদের হাতে!

ভাই, যতই আন্দোলন করেন, এই দেশে বাস কিংবা বাস ড্রাইভারদের আপনি কিছুই করতে পারবেন না। কারণ এ দেশের বেশিরভাগ মানুষের চলাফেরার একমাত্র বাহন এই বাস। দুই দিন বাস সার্ভিস বন্ধ রাখলেই আমাদের মুখ দিয়ে আন্দোলন কারী ছাত্রদের উদ্দেশ্যে গালি বের হয়ে যায়— জ্বি হ্যা, কথাটা একদম বাড়িয়ে বলছি না, অগাস্টের আন্দোলনে বাস যখন দুই দিন বন্ধ রেখেছিল এরকম গালি মার্কা ফেসবুক স্ট্যাটাস অনেকেই দিয়েছিলেন। আমিও ওইসময় আধা রিকশা, আধা পায়ে হাটা— এই মাধ্যমে মহাখালী হতে মিরপুর ১২ — বাসায় এসেছিলাম।

তাই ধরেই নিসি, এদেশে এরকমই ঘটে চলবে,,,,,আজ ‘ও’, কাল ‘আপনি’ আর পরশু হয়তো ‘আমি’ এর শিকার হব!!!