হুতুমপেঁচা বলছি

মেয়েদের জন্য সেক্সুয়াল লাইফ সব সময় এঞ্জয়মেন্ট

মেয়েদের জন্য সেক্সুয়াল লাইফ সব সময় যে এঞ্জয়মেন্ট তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন স্টাডি থেকে যা জেনেছি বা বুঝেছি – অনেক সময়ই মেয়েদের জন্য সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স পেইনফুল বা বেদনা দায়ক হয়।

চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী বলে একটা কথা আছে। যে অন্যের সাফারিংস থোরাই কেয়ার করে তাকে নসিহত করা আর ফুটা বালতিতে জল ঢালা একই কথা।
যে মদ খেয়ে এসে বউএর উপর ঝাপিয়ে পরে কিংবা অকারণে বউ পেটায় তারে আমি কেন স্বয়ং পয়গাম্বর এসেও যদি নসিহত করে “মেয়েটার উপর এমনে নির্যাতন চালায়ো না” তাইলেও কি বজ্জাত লোক টা শুনবে? বউ পেটানো থামাবে?
অথচ, সে যখন দিব্বি বউকে কেলিয়ে যাচ্ছে তখনও জানত যে সে মেয়েটার উপর নির্যাতন করছে।
এই যেমন ধরেন যেই বেটা যৌতুকের জন্য বউ পেটায়, বউয়ের উপর অকথ্য নির্যাতন করে সে তো নির্যাতন করার উদ্দেশ্য নিয়েই নির্যাতন করে। নির্যাতনের সহীহ নিয়ত যারে বলে আর কি।

আবার যে নিয়মিত অমানবিক ভাবে বউ পিটায়ে অভ্যস্ত, নাক ফাটাচ্ছে নাকি চোখ কানা করতেছে সেসবের কোন খেয়াল নাই তার কাছে “সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সের সময় বউ ব্যথা পাচ্ছে নাকি সুখ পাচ্ছে সেসব কেয়ার করবে” সেটা আশা করা যায়??
– যায় না।
এখন স্ত্রীর সম্মতি থাক আর না থাক এনাল সেক্স হারাম। এইটা তো সকলেই জানে। তারপরও বহুত লোক আছে বউকে জোর করে ধরে এনাল সেক্স করে। এই এনাল সেক্স মেয়েদের জন্য বহুত পেইনফুল।
তো কথা হইল আমার এই পোস্ট টা উপরে বর্ণিত বজ্জাত লোকদের জন্য না বরং কেবল প্র‍্যাক্টিসিং ভালো মুসলিমদের জন্য যারা গুরত্বপূর্ণ সুন্নতের মর্ম জানে ও বুঝে একি সাথে মানুষের দুঃখ যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারে,বিবেক, সহানুভূতি, দয়ামায়া, ভালোবাসা বলে তাদের মধ্যে কিছু আছে এবং তারা কোমল হৃদয়ের অধিকারী।
তবে কেউ যদি তওবা করে ভালো হইতে চায় তবে তো আরও ভালো কথা।
স্ত্রীকে সময় দেওয়া, সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স করা যেমন ওয়াজিব, আহলে ইলমদের মধ্যে যেমন এ নিয়ে মতভেদ নাই, তবে কতদিন অন্তর স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করা ওয়াজিব এটা নিয়ে মতভেদ আছে।যদিও কেউ কেউ বলেন চার মাসে অন্তত একবার সঙ্গম করা ওয়াজিব, তবে অনেকেই বলেন “না – বরং স্বামীর শক্তি এবং স্ত্রীর চাহিদা অনুপাতে ওয়াজিব, যেভাবে স্ত্রীর ভরণপোষণ ওয়াজিব হয়”। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ((জন্মঃ১২৬৩-মৃত্যু:১৩২৮) রহঃ বলেন এটাই যথাযথ।(সূত্রঃ তার লেখা শরীয়তী রাষ্ট্র ব্যবস্থা বই)
আবার একি সাথে(ওয়াজিবের বাইরে অন্য সময়) স্ত্রীকে সন্তুষ্টি করতে বা সুখী করতে সেক্স করা সদকাহর মত মহান বা সওয়াবপূর্ণ কাজ(সহীহ মুসলিমের হাদীসে বর্ণিত)

যেটা বলতেছিলাম! ছেলেদের মত মেয়েদের জন্য সেক্স টা অলয়েজ এঞ্জয়মেন্ট নয়।বরং অনেক সময় খুব পেইনফুল । বিভিন্ন কারণে মেয়েদের জন্য সেক্স পেইনফুল হতে পারে। যেমনঃ- সেক্স করতে মেন্টালি প্রিপেয়ার না থাকা বা মুড না থাকা, পর্যাপ্ত উত্তেজিত বা হর্নি না হওয়া। এখানে এই দুইটাকেই পয়েন্ট করবো।
অন্যান্য ইবাদতের মত সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সের বেলাতেও কিছু বিধিবিধান আদেশ নিষেধ ও সুন্নাহ রয়েছে। এর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন হলো স্ত্রীর সাথে রোমান্টিক হওয়া, হোক সেটা সেক্স করার সময় অথবা অন্যকোন পার্সোনাল সময়ে।
বিশেষ করে স্ত্রীর সাথে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সের সময় রোমান্টিকতা খুবি জরুরী। স্ত্রীকে উত্তেজিত করা যাতে করে স্ত্রী সেক্স এঞ্জয় করে।অন্যথায় স্ত্রীর জন্য সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স পেইনফুল হতে পারে।

ইংরেজিতে যেটাকে আমরা হর্নি বলি বাংলায় সেটাকেই শৃঙ্গার বলা হয়। সঙ্গম বা ইন্টারকোর্সের পূর্বে শৃঙ্গার করা তথা স্ত্রীকে উত্তেজিত করা বা হর্নি করা রাসুল সাঃ এর নির্দেশ। অন্যথায় সেই ইন্টারকোর্স কে রাসুল সাঃ পশুর আচরণের সাথে তুলনা করেছেন।
ইমাম দাইলামি(রহ.) আনাস বিন মালিক(রা.) এর বরাতে এই হাদিসটি লিপিবদ্ধ করেছেন যে রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, “কেউ যেন পশুর মতো তার স্ত্রী হতে নিজের যৌন চাহিদাকে পূরণ না করে, বরং তাদের মধ্যে চুম্বন এবং কথাবার্তার দ্বারা শৃঙ্গার হওয়া উচিত।” (দাইলামি’র মুসনাদ আল-ফিরদাউস, ২/৫৫)
রাসুল সাঃ এর পারিবারিক জীবন ও উম্মুল মু’মিনি(রাঃ) গণ হতে বর্ণিত সহীহ হাদীস গুলোয় এটিই স্পষ্ট হয়। যার অনেকগুলি বর্ণনা বুখারী মুসলিমেও পাওয়া যায়।

ইমাম ইবনুল কাউয়্যিম জাওঝি(রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘তিব্বে নববী’তে উল্লেখ করেছেন যে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শৃঙ্গার করার আগে সঙ্গম করতে নিষেধ করেছেন।(দেখুন: ‘তিব্বে নববী’, ১৮৩, জাবির বিন আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত)

এছাড়াও আল্লামা আল-মুনাবি(১৫৪৫-১৬২১) (রহ.) বলেন: “সঙ্গমের আগে শৃঙ্গার এবং আবেগপূর্ণ চুম্বন করা সুন্নাতে মু্ওয়াক্কাদাহ এবং এর অন্যথা করা মাকরূহ।” (ফাইজ আল-ক্বাদির, ৫/১১৫, দ্রষ্টব্য: হাদিস নং ৬৫৩৬)

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো স্ত্রীকে আনসেটিস্ফাইড রেখে উঠে যাওয়া।এই ব্যাপারটি খুবই মারাত্মক ও ভয়াবহ। স্ত্রীর সাথে ক্রমাগত এরূপ আচরণ করা স্ত্রীকে পাপ কাজের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ ধরনের কাজ স্ত্রীর বৈবাহিক জীবনের উদ্দেশ্যকে ব্যহত করে। রাসুল সাঃ এ ধরনের কাজকর্ম নিষেধ করেছেন।
আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে – নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তখন সে যেন পরিপূর্ণভাবে (সহবাস) করে। আর তার যখন চাহিদা পূরণ হয়ে যায় (শুক্রস্খলন হয়) অথচ স্ত্রীর চাহিদা অপূর্ণ থাকে, তখন সে যেন তাড়াহুড়া না করে। [মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং-১০৪৬৮]
তো ভাইলোক।আশাকরি সবাই এই কেস গুলিকে খুব গুরত্বের সাথে নিবেন। আল্লাহ পুরুষদের সবাইক ভালো হাজবেন্ড হওয়ার তৌফিক দান করুক।আমিন।
এবং সবশেষে,
রাসুল সাঃ বলেন, “…আমি রোযা রাখি ও রোযা ছাড়ি, নামায পড়ি ও ঘুমাই, স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করি। যে ব্যক্তি আমার সুন্নতের প্রতি আগ্রহ রাখে না সে আমার দলভুক্ত না। [মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং- ৬৪৪১]
আবুহুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ঈমানদারদের মধ্যে পরিপূর্ণ মুমিন সেই ব্যক্তি, যার আচার-আচরণ উত্তম। আর তোমাদের মাঝে তারাই উত্তম যারা আচার-আচরণে তাদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম। [তিরমিযি]