'ও ডাক্তার'

ডায়েটিং নাকি ব্যালেন্স ডায়েট

সুস্মিতা জাফরঃ বিভিন্ন ডায়েট নিয়ন্ত্রণ ভিত্তিক ফেসবুক গ্রুপের কল্যাণে অনেকেই দেখি না খায়া থাইকা ওজন দুই দিনে ৫ কেজি কিংবা ৭ দিনে ১০ কেজি কমাইতেসে,কিন্তু আমি ভাবি, এদের তো জীবন কেবল শুরু,যতদিন বাইচা থাকবে ততদিন কী এভাবে না খাইয়াই বাইচা থাকবে?

খাওয়া বলতে আমি বুঝাচ্ছি না প্রতিদিনই ঘি-মাখন- মিষ্টি খাইতে হবে কিন্তু আমের সিজনে আম না খেয়ে, পিঠার সিজনে দুধ-গুড়ে ভেজানো রসভর্তি পিঠা না খেয়ে, লিচুর সিজনে গুণে গুণে দু-তিনটে লিচু চিবিয়ে সারা বছরের মত শশা আর আপেল ই খেয়ে যাবে, এ কেমন বিচার? এভাবে না খেয়ে এরা কয়দিন থাকবে, একদিন না একদিন তো খাবেই, তারপর আবার ওজন বাড়বেই!!

অন্যের চোখের সুখের জন্য নিজের চাহিদার ওপর এভাবে অবিচার করার মানে কী? ইদানিং হাসপাতালে কিছু তরুণী ভর্তি হচ্ছে ভয়াবহ রক্তশূন্যতা নিয়ে,জিজ্ঞেস করলেই বলছে, বন্ধুরা ‘মোটা’ বলে ক্ষেপাচ্ছে, আর তাই সে এখন মাস ছয়েক ধরে ভাত- মাছ-মাংস-ডিম বাদ দিয়ে দিন রাত শশা খাচ্ছে!! তুমি মোটা- সেটা ৭ বছর আগে তোমার ওজন যখন ৫৫ কেজি ছিল তখনো তুমি অন্যের কাছে মোটা ছিলে, ৭ বছর পর তোমার যখন ৭০ কেজি তখনো তোমাকে লোকে মোটাই বলতেসে,তাহলে না খেয়ে খেয়ে সাময়িক চিকনা হওয়ার লাভটা কী? শরীর সুস্থ থাকার মত ওজন হলেই যথেষ্ঠ।

২০০৮ এ মেডিকেল কলেজে ভর্তির দিন ‘মেডিকেল’ টেস্টের জন্য আমার যখন ওজন মাপা হল, ওজন এল ৫৪ কেজি, তাই দেখে পাশে থাকা চিকনা-বগা ৪৩ কেজির একজন হিহি করে হাসা শুরু করসিল, এমন সময় এক স্যার ধমক দিয়ে বলে উঠলেন, “ওকে দেখে তুমি হাসতেসো, বরং তোমাকে দেখেই আমার করুণা হচ্ছে, কারণ হাইট অনুযায়ী তুমি যথেষ্ঠ under weight!”

তোমার পেশা মডেলিং নয় কিংবা তোমার জীবনটা,তোমার রুচিটা, তোমার চাহিদাটা তোমাকে প্রতিনিয়ত টিজ করা তথাকথিত বন্ধু,প্রেমিক আর আত্মীয়রূপী ফালতুদের জন্য নয় যে খাবার এড়ায় চলে খ্যাংড়া কাঠি হতে হবে! এড়ায় চললে বরং ওইসব ফালতু দের এড়ায় চল,জীবনটা কাজে লাগানো তাহলে অনেক সহজ হবে।