মুক্তধারা

বাংলাদেশের তনু

রাত এখন বাজে ১:৩৬ উহহ এখনও ঘুম আসছে না। খুব নীরব হয়ে ভাবে তনু রুমের ডিম লাইটটার মত যেন তার জীবন। সবুজ আধো ছায়া আধো আলো যেনো কখন জীবনটা নিভে যায়।

চারপাশে মানুষরুপে এত কুকুর কি করে যে কাজ খুঁজে নিবে ভেবে পায় না প্রায় দুই বছর হয়ে গেলো সে কাজের চেষ্টা করছে পেয়েও গিয়েছিলো কাজ কিন্তু কুকুররুপী মানুষগুলোর জন্য আর সামনে এগোনো সম্ভব হয় নি। বাবাকে এত করে বলল যে সে ভাল করে পড়াশুনা করবে। না পড়াশুনার জন্য কোন সেক্রিফাইস ছিলো না। উল্টো আরো বিয়ে দিয়ে দিলো।

সংসার আর পড়াশুনা একসাথে সামলে নিতে পারেনি তনু। আজ তার একটা কাজের দরকার। কিন্তু পরপর তিনটা চেষ্টাতেই মানুষরুপী কুকুরের কথায় আর সামনে এগোনো সম্ভব হয় নি।

কিভাবে যে বাইরের জগতের মেয়েরা কাজ করে তনু বুঝে উঠতে পারে না। নিজের ভুলটা কোথায় তাও খুঁজে পায় না। অবশ্য তনুর অভিজ্ঞতাও কম কিন্তু তিন জনেই কুকুররুপী মানুষ নোংরা চিন্তা নিয়ে চলে একজন তো ভাল মানুষ হতে পারতো তাহলে কাজটা পেয়ে যেতো। এভাবে তো বেকার থাকা সম্ভব হচ্ছে না। এসব ভেবেও কোন কুল কিনারা পাচ্ছে না। ভাবতে ভাবতে সে আজ বড়ই ক্লান্ত । মাঝে মাঝে দম যেন বন্ধ হয়ে আসে। কি করবে বুঝে উঠতে পারে না।

মাঝে মাঝে সে ভাবে ভয় পায় যদি কোন বিপদ হয় তখন সে কিভাবে নিজেকে বাঁচাবে। নাকি সে চরম সর্বনাশের সম্মুখীন হবে। না না এসব ভেবে মাঝে মাঝে তনুকে খুব লুকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে।

কিন্তু লুকিয়ে কতদিন থাকবে তাকে তো কাজ করে খেতেই হবে। সে বুদ্ধি খুঁজে পেতে চেষ্টা করে কোন বুদ্ধি নিয়ে চললে এমন বিপদ হবে না কিন্তু কাজও পেতে পারে। কিভাবে সম্ভব? কোন সমাধান কি আছে? জেনেশুনে কুকুরের আশেপাশে তো চলাফেরা করা কঠিন এবং নিরাপদ নয়।

উহহ কাকে যে কথাগুলো খুলে বলি। হ্যাঁ হুতুমপেঁচা পেইজে পাবলিশের জন্য লেখাটা পাঠাবো কিন্তু নাম প্রকাশ করবো না কারণ এগুলো সত্যি ঘটনা। কোন মানুষরুপী কুকুর যদি বুঝে ফেলে তাহলে তো মুশকিল। কি মুশকিল সত্যি কথাও বলা যায় না যত্যোসব। অত্যাচার এর নাম অত্যাচার।

এতকিছু ভেবে কোন সমাধান তো পেলাম না। লুকিয়ে চলাফেরা করতে ভাল লাগে না। উড়ে বেড়াতে ইচ্ছে করে আকাশে বাতাসে ঘন বন জঙ্গলে আহা সে দিন কবে আসবে আমি ঘুরে বেড়াবো আকাশে বাতাসে আহা সেই দিন কবে আসবে আমার জীবনে আমি ঘুরে বেড়াবো আকাশে বাতাসে।
আসবে আসবে ধৈর্য নিয়েই চেষ্টায় আছি আসবে। সুদিন একদিন নিশ্চয় আসবে।

সুদিন? সুদিনের কথাতো আমাদের বোন মরে যাওয়া তনুও ভেবেছিলো। সে চেয়েছিলো জীবনে সে এমন কিছু করবে যা থেকে তাকে সবাই চিনবে।
হ্যাঁ চিনবে! চিনেছিলো ঠিকই কিন্তু তাকে সবাই ধর্ষিত মৃত তনু হিসেবে চিনেছিলো। এটা ভাবতেই চোখে কান্না চলে আসে।

তনুর সাথে আমার নামটা অনেক মিল। তনুর ঐ ছবির জায়গায় আমার ছবি হবে না তো? না না এমন যেনো কারো না হয় আর যেনো না হয় আর না আর না আর না।

আসবে ভাল দিন আসবে সেইদিন আসবে যেদিন নিরাপদে থাকবে প্রতিটি ঘরের মা বোন। সত্যিই কি আসবে!
দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৭ বছর আগেই মা বোনদের সম্ভ্রমহানি আর ভাইদের রক্তের বাণী সব মিলেই স্বাধীন হয়েছে দেশ। তাহলে আজকের তনু কেন লুকিয়ে থাকতে চায়।

যেকোন দেশের মানবিন অবস্থার পরিমাপ করতে হলে খুব সহজেই জানতে চাইলে বোধহয় সেই দেশের মানুষেরা সেইদেশের নারীদের সাথে কি রকম ব্যবহার করে এটা দেখে অনুমান করা যাবে। এই দেশের বাবা ভাইদের কাছেও মেয়েরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। তাহলে বাংলাদের মানবিক অবস্থা কতটা উন্নত তা বাবা ভাইদের দেখলেও সহজেই অনুমান করা যায়।

লিখেছেন: অগ্নি