মুক্তধারা

জেনারেশন গ্যাপ এবং পারিবারিক অবস্থান

ফারহানা সলিম সিন্থিয়াঃ আমাদের মেয়েদের জীবনে কখনও কখনও সর্বনাশ অন্য কেউ না আমাদের বাবা মায়েরা করে ফেলেন। তারা বুঝতে চান সময় এক জায়গা আটকে নেই। সময়ের সাথে সমাজ,সংস্কৃতি,ধর্ম,জীবিকা নির্বাহের পথের পরিবর্তন হয়েছে।

এই যুগে একজন বাবা ভাই যদি ভাবে পড়ালেখা করে কি লাভ বিয়ে দিয়ে দেয়া ভালো, তাহলে অবাক হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। চাকরি করতে দিবে না তাই পড়ার দরকার নেই। এই যদি হয় আপন বাবা মা,ভাইয়ের চিন্তা তাহলে মেয়েটা কোথায় যাবে? কি করবে?

এখনও বহু পরিবার আছে যারা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী ছেলেমেয়েদের বিয়ে দেয় জিজ্ঞাস করার প্রয়োজন মনে করে না। যেন আমার গরু আমি যেকোন কুটায় বাঁধতে পারি। পড়ালেখা শেষ হলে ভালো জামাই পাওয়া যাবে না এইটা তাদের ব্যাখ্যা, কিন্তু এই ব্যাখ্যাতে দুনিয়া চলে না এইটা তারা বুঝতে চায় না। উদাহরণ দেই- আমার বাইরের বা বাসায় পরার কাপড় এখনও আম্মুওই পছন্দ করে,উনার সব পছন্দ আমি সারাজীবন মেনে নিয়েছি। আমার থেকে ছোট চাচাতো,খালাতো ভাইবোনরা নিজেদের পছন্দে চলে। ক্লাস এইট পড়া আমার চাচাতো ভাই নিজের পছন্দে স্যান্ডেল কিনতে যেয়ে বকা খেয়েছিলো। আমার ভাতিজা দুইবছর বয়স থেকে নিজের পছন্দে কাপড়, জুতা কিনে। অন্য কিনে দিলে সে পরে না। এর নাম হচ্ছে জেনারেশন টু জেনারেশন পার্থক্য।

আমি এইটা খারাপ মনে করি না সবার নিজের পছন্দে বাঁচার অধিকার আছে। আমার দাদাদাদি যে বয়সে বিয়ে করেছিলেন তাদের ছেলেমেয়েরা সেই বয়সে করেন নাই। আবার দাদা দাদী যেভাবে সংসার করেছেন আমার বাবা চাচারাও তা করেন নাই।

সুতরাং উনাদের পরবর্তী জেনারেশনের বিয়ে বা সংসার তাদের মত হবে না। তেমনি আমাদের পরবর্তী জেনারেশনের চিন্তা আমাদের থেকে আলাদা হবে। এখন আমার ভাতিজাকে যদি বলে আমার বিয়ে, তোর বাবার বিয়ে মুরুব্বিদের পছন্দে হয়েছে তোমাকেও তাই করতে হবে তাহলে ব্যাপারটা খুব হাস্যকর হয়ে যাবে।সময়ের সাথে আমরা পরিবর্তন হচ্ছি না, তাই তারা আমাদের বুঝতে পারছে না বা তাদের কে আমরা বুঝাতে পারছি না। ছেলেমেয়েদের কল্যানে তাদের বুঝুন,পাশে থাকুন, সাহস দিন,ভালোবাসুন, বন্ধু হবার চেষ্টা করুন।

শায়েস্তা খায়ের আমলে আট আনাতে দশ মণ চাল পাওয়া যেতো সেসব গল্প শুনিয়ে ৬০ কেজি চালের ভাত খাওয়া মানুষের পেট ভরবে না। মনে রাখবেন আপনার গোড়ামি যেনো সন্তানকে আপনার থেকে দূরে নিয়ে না যায় এবং তাকে স্বেচ্ছাচারী করে নিজের ধ্বংসের পথে হাঁটতে বাধ্য না করে। সকলের জীবন সুন্দর এবং শান্তিময় হয় এই কামনা করি।