মুক্তধারা

বিদআ’ত | ইসলাম কি বলে?

জেনে নিন বিদআ’ত কি বা কাকে বলে এবং এর পরিনতি ?

উত্তরঃ পারিভাষিক অর্থে বিদআ’ত অর্থ নব-আবিষ্কার।
কিন্তু শারঈ ভাষায় বিদআ’ত হলো “আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশায় দ্বীনের নামে নতুন কোন আমল বা প্রথা, কথা ও বিশ্বাস চালু করা, যা ইসলামে সহীহ দলিলের ভিত্তিতে নেই।” [আল-ইতিছাম, ১/৩৭]

কোনো কিছু বিদআ’ত জানার মূলনীতি হলঃ
১. কোনো বিষয় বা প্রথা বা আমাল নতুন প্রচলন যা নাবী ﷺ ও তার সাহাবাদের যুগে ছিলো না।
২. বিষয় বা প্রথা বা আমালটি দ্বীন-ইসলামের সাথে সংযুক্ত করা।
৩. বিষয়টি, প্রথা বা আমালটিকে সওয়াব লাভের জন্য করা।
৪. এমন বিষয় যার কোনো কুর’আন ও সহীহ সুন্নাহের দলিল নেই। যেহেতু রসূল ﷺ বলেছেন “ইসলামে সকল নব-আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআ’ত। তাই এখানে বিদআ’তে হাসানা (উত্তম বিদআ’ত) বা বিদআ’তে সায়্যিয়াহ (নিকৃষ্ট বিদআ’ত) বলতে কিছুই নেই। সুতরাং বিদআ’ত থেকে আমাদের সাবধান হতে হবে।

বিদআ’তী কাজের পরিনতি কী কী?

উত্তরঃ বিদআ’তী কাজের পরিনতি হলো ৪ টি।
১, ঐ বিদআ’ত যুক্ত আমালটি বাতিল হবে।
২, বিদআ’তি ব্যক্তি আল্লাহর লা’নাত প্রাপ্ত।
৩, গোমরাহীর ফলে বিদআ’তিকে জাহান্নামে যেতে হবে।
৪, বিদআ’তিদের তওবা কবুল হয় না ঐ বিদআ’ত ত্যাগ না করা পর্যত্ত।

রসূল ﷺ বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি ইসলামে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করল যা তার মধ্যে নেই তা বাতিল।” [বুখারীঃ ২৬৯৭]
রসূল ﷺ আরো বলেছেনঃ “(আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি করা থেকে সাবধান থেকো ! ) নিশ্চয় ইসলামে প্রত্যেক নতুন বিষয় বিদআ’ত, প্রত্যেক বিদআ’তই ভ্রষ্টতা, প্রত্যেক পথভ্রষ্টই জাহান্নামে থাকবে।” (মুসলিম ১৫৩৫, নাসায়ী ১৫৬০)
হাদীছে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيينَ، عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ؛ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ
আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে; সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত ও হেদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধর এবং তা দাঁত দিয়ে (অর্থাৎ খুব শক্তভাবে) ধরে রাখ; আর তোমরা দীনের মাঝে নতুন বিষয় আবিষ্কার করা থেকে বিরত থাকবে, কারণ প্রত্যেক নতুন বিষয়ই হচ্ছে বিদ’আত, প্রত্যেক বিদ’আত হচ্ছে গোমরাহী বা ভ্রষ্টতা। (আবূ দাউদ: ৪৬০৭, আত-তিরমিযী: ২৬৭৬, আহমদ: ১৬৬৯৫, ইবনে মাজাহ: ৪২, এবং মাজমুওয়ায়ে ফাতাওয়া: ১০/৩৫৪) ইমাম আত-তিরমিযী বলেন, হাদীছটি হাসান সহীহ।
অপর এক হাদীছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন;
تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّتِيْ
আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু ছেড়ে যাচ্ছি, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা এ দুটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে কক্ষনো পথভ্রষ্ট হবে না। বস্তু দুটি হলঃ আল্লাহর কিতাব (তথা আল-কুরআন) এবং আমার সুন্নাত (তথা হাদীছ)। [হাকেম: ১/১৭২, ৩১৯, বায়হাক্বী: ১০/১১৪, ২০৮৩, মালেক: ১৫৯৪, হাদীছ বিশুদ্ধ। আলবানীর ছহীহুল জামেয়া ২৯৩৭, ৩২৩২]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:
عَنْ عَائِشَةَ – رضى الله عنها – قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – « مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ » – أخرجه البخاري ومسلم
“আমাদের এ দীনে যে নতুন কোন বিষয় প্রচলন করবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।” (বুখারী ও মুসলিম।)
তিনি আরো ইরশাদ করেন:
وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ » رواه أبو داود و الترمذي وابن ماجه عن عرباض بن سارية.
“সাবধান! দীনের মধ্যে প্রবর্তিত নতুন বিষয় থেকে সর্বদা দূরে থাকবে। কেননা নব-প্রবর্তিত প্রতিটি বিষয় হল বেদআত ও প্রতিটি বেদআত হল পথভ্রষ্ঠতা।” (আবু দাউদ, তিরমিজী, ইবনে মাজা, মুসনাদে আহমাদ)