হুতুমপেঁচা বলছি

বিচ্ছেদ | সন্তানের দিকে মুখ চেয়ে আমরা একসাথে থাকি

হুতুমপেঁচা বলছিঃ সন্তানের দিকে মুখ চেয়ে আমরা এক সাথে থাকি –
বিয়ের পর কোন কিছু তেই নিজেদের বনিবনা হচ্ছে না তাই বাচ্চাটা নিয়েছি –
যত কষ্টই হোক বাচ্চা হয়ে গেছে এখন একসাথে থাকতেই হবে –

বাচ্চাটা একটু বড় হবার পর———–
শুধুমাত্র তোর জন্য তোর মুখ দেখে এই সংসার করতেসি —
তুই না থাকলে জীবনটা অন্যরকম হতে পারত–

এই কথাগুলো খুবই কমন পারিবারিক ব্যপারে এই কথা গুলো খুব স্বাভাবিক।
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন এই কথাগুলো আপনার সন্তানকে কি মানসিক অবস্থায় ফেলছে ??

বাচ্চাটা কোন অস্ত্র নয় , বাচ্চা পয়দা করলেই একসাথে টিকে থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই , আপনাদের মধ্যের ঝামেলার জন্য বাচ্চাটা কিভাবে বেড়ে উঠছে কোনদিন জানতেও পারবেন না । সম্পর্ক টিকায় রাখার জন্য বাচ্চার দরকার হয় না , হয় একটা সুস্থ মন আর আন্তরিকতা এবং শ্রদ্ধা।

হিপোক্রেসি করে নিজেদের জীবন যেমন নষ্ট করছেন ঠিক তেমন ভাবে নিজের বাচ্চাদের মানসিকতা কেও নষ্ট করছেন। এই বাচ্চাগুলো বড় হয় নিজেকে ঘৃণা সৃষ্টি বা unwanted child হিসাবে । ফেরিওয়ালাদের মত তারা ভালবাসার জন্য একেক দরজায় ঘুরে বেড়ায় আর না পেলে তখন তারা নিজেদের চারিদিকে একটা দেয়াল তুলে দেয় যা শুধুমাত্র তাদের নিজেদের কষ্টকে ভুলে থাকতে । আশ্রয়হীনতা এর মধ্য দিয়ে তারা বড় হতে থাকে।

নিজেদের জীবন নতুন করে শুরু করতে পারবেন না , সমাজ কি বলবে এই সব চিন্তা করতে গিয়ে আপনারা নিজেদের সন্তানকে কি শিক্ষা দিয়ে বড় করছেন সেটা একবার ভেবে দেখবেন।

যে সম্পর্ক কে টিকায় রাখার জন্য সন্তান নিচ্ছেন সেই ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকা সম্পর্কে থেকে আপনাদের সন্তান শুধু মাত্র ঘৃণা শিখছে। শিখছে সম্মান না করা , শ্রদ্ধা না করা । বেড়ে উঠছে অপরাধ প্রবনতা নিয়ে ।

রাতের পর রাত তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সঙ্গী খুঁজছে , ভালবাসা বা আশ্রয় খুঁজছে । মাথার উপরে একটা ছাদ , গায়ে জামা , ক্ষুধার জন্য খাবার এই সব কিছু কে ছাপায় দরকার হয় একটা মানুষকে । যাকে নিজের কথা বলা যায় , যে খারাপ সময়গুলো তে বলতে পারে -” তুমি একা নয় আমিও আছে , একসাথে দেখা যাবে সবকিছু। ” আপনাদের অপূর্ণতার কারনে আপনাদের নিজেদের সন্তানরা এই অপর আশ্রয়ের দিকে চলে যায়।

সন্তানদের বখে যাওয়া অসৎ সঙ্গ , অনেক টাকা দিয়েছি ওর পিছনে যা চেয়েছি তাই কিনে দিয়েছি এসব বলার আগে একবার ভেবে বলুন মা-বাবা হিসাবে কতটুকু সময় তাদের দিয়েছেন?

সন্তানকে যদি আপনি নিজেই আঙ্গুল তুলে অভাগা বা আপনার এই ভাগ্যর জন্য দায়ী দেখান তাইলে মনে রাখুন এই সন্তানকে আপনি নিজেই নিজের দায়িত্বে এই পৃথিবীতে এনেছেন সে নিজে আসে নাই।

সম্পর্কে যদি টানাপোড়নে চলে আসে তাইলে আলোচনা করুন , আপনার সঙ্গীকে দোষ না দেখিয়ে বুঝিয়ে বলুন কেন হচ্ছে না বা আপনি কেন থাকতে চাচ্ছেন না এই সম্পর্কে। দুজনেই সময় নিন, সঙ্গী যদি আপনার উপরে নির্ভরশীল থাকে অর্থনৈতিক ভাবে তাকে স্বাবলম্বী হবার সময় দিন , না হলে তার ভালর জন্য কোন ব্যবস্থা নিজেই করুন। সম্পর্কের অবনতির মধ্যে কখনোই বাচ্চা নেবার কথা ভাব্বেন না । সম্পর্কে উন্নতি করুন না হলে ঝেড়ে ফেলুন । নিজেও বাঁচবেন এবং একটি প্রানও বেঁচে যাবে।

নিজে যদি নিজেকে সম্মান দিতে না পারেন জোড় করে কোন সম্পর্কে আটকে থাকেন, তাইলে কোনদিনও নিজেও সুখি হতে পারবেন না আর নিজের পরিবারকেও সুখি করতে পারবেন না। সময় যাই হোক না কেন অসুস্থ বা তিক্ত সম্পর্কের ইতি টানুন। কারন সবার জীবনেই ভালবাসার প্রয়োজন আছে।