মুক্তধারা

হরেকরকমের ভালোবাসা

আফরিন পারভেজঃ ভালোবাসা নিয়ে অনেকেই অনেক মত প্রকাশ করেছেন। তবে মোটামুটি গ্রীকরা এর সঠিক কিছু প্রকারভেদ করেছেন। প্রাচীন গ্রীকশাস্ত্র মতে ভালবাসা ৭ ধরনের। প্রতিটি তার নিজস্ব গুরুত্ব এবং মান রয়েছে, বা বলা যায় প্রতিটিই নিজস্বতা আছে। আপনি যদি যথেষ্ট ভাগ্যবান হন প্রতি ধরনের ভালোবাসার অভিজ্ঞতা লাভের, তবে আপনি সত্যিই একটি সমৃদ্ধ জীবনযাপন করছেন। আসুন জেনে নেই ভালোবাসার প্রকারভেদ।

১। ইরোসঃ

ইরোস ছিল গ্রিসের আকর্ষণ এবং যৌনবাসনার ঈশ্বর। ইরোসকে ঐশ্বরিক সৌন্দর্য বা কামনা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। যৌবনের সবচেয়ে বেশি তীব্র প্রেমের প্রবণতা বা আমাদের প্রথম রোমান্টিক প্রেমকে ইরোস বলা হয়। প্রাচীন গ্রীসে এই ধরনের প্রেমকে বিপজ্জনক মনে করা হতো, কারন তারা মনে করতো ইরোসের ক্ষমতা আপনাকে ধ্বংস করতে পারে। ইরোস মূলত যৌন আকর্ষণের উপর ভিত্তি করে এবং “এরোটিকা” শব্দটি এখান থেকে এসেছে।

২। ফিলিয়া:

ফিলিয়া একটি আন্তরিক এবং প্ল্যাটনিক প্রেম প্রতিনিধিত্ব করে, যা সাধারনত ভ্রাতৃত্ব প্রেম হিসাবে পরিচিত । আপনার একজন ভালো বন্ধু জন্য আপনার যে ভালোবাসা তা মুলত ফিলিয়া।প্রাচীন গ্রীসে বলা হয়ে থাকে যে, ফিলিয়া গড়ের মাঠ থেকে সাম্রাজ্য গড়ে তোলার ক্ষমতা রাখে, যা ইরোসের তুলনায় আরও মূল্যবান এবং সমাদ্রিত ছিল। ফিলিয়া একই রকম মান এবং স্বভাবের সাথে মিলিত হওয়ার সাথে সাথে একটি মহান বোঝার এবং সম্মান ভাগ করে।যখন দুটিমানুষের মাঝে একই ধরনের মুল্যবোধ বা ভালবোঝাপড়া থাকে তখন তাদের মাঝে ফিলিয়া থাকে।

৩। লুডুসঃ

লুডাস হল শিশুসুলভ, হাস্যজ্জল প্রেম। ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে সে সম্পর্কে কিছু না ভেবে এই মুহূর্তে আনন্দ উপভোগ করা, এই আনন্দের জন্য যে কোনোকিছু করতে চাওয়া এবং পরবর্তি পরিনিতিতে কোনো আফসোস না থাকা হছে লুডাস।

৪।প্রগমঃ

প্রগম হচ্ছে একটি দীর্ঘ বিবাহ সময়ের মধ্যে বিকশিত একটি বিবাহিত দম্পতির মধ্যে অনন্ত প্রেম। প্রাচীন গ্রীসে প্রগম প্রেমের সর্বোচ্চ রূপ ছিল।প্রগম একটি সত্যকারের প্রতিশ্রুতি, যা দীর্ঘস্থায়ী বোঝাপড়া এবং আপোষের মধ্যে গড়ে ওঠে । যে কারণে প্রগমকে “প্রেমে পতিত” হওয়ার পরিবর্তে “প্রেমে দাঁড়িয়ে” বলে উল্লেখ করা হয়। যে কেউ প্রেমে পড়তে পারে, তবে যদি কেও কারো “ভাল এবং খারাপ” উভয়কে বিবেচনা করে তার প্রতি দৃঢ় অবিচল ভালবাসা নিয়েদাঁড়াতে পারে তাহলে তা প্রগম।

৫। আগেইপঃ

আগেইপ মানে নিঃস্বার্থ প্রেম, মানবতার ভালবাসা। ভালবাসার শুদ্ধতম প্রকার মনে করা হয় একে। সকল প্রকার প্রত্যাশা ছাড়াই, সমস্ত দাতব্য কাজগুলিতে এই প্রেম প্রতিফলিত হয়। এটা সেই সমবেদনাময় প্রেম যা আমাদেরকে সহানুভূতিশীল করে তোলে। বিশ্বেকে একটি ভাল জায়গা তৈরি করতে চাইলে এই প্রকার ভালবাসার প্রয়োজন।

৬। ফিলৌতিয়াঃ

প্রাচীন গ্রীসে ফিলৌতিয়াকে দুটি রূপে বিভক্ত করা হয়েছিল। একটি নেতিবাচক এবং অন্যটি ইতিবাচক । নেতিবাচক প্রেমটি স্বার্থপর আর ইন্দ্রিয়গ্রাহী।এই প্রেম নিজের আনন্দ, খ্যাতি, সম্পদ আর সমৃদ্ধি খোঁজে।এটাকে অতিরিক্ত আত্মপ্রেম বা নারসিজম এর সাথেও তুলনা করা হয়।রবিন্ধনাথের “আমি কি হনু রে” টাইম আত্মপ্রেম।

ইতিবাচক ফিলৌতিয়া হচ্ছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য প্রয়োজনবোধ থেকে নিজেকে ভালোবাসা।সোজা কথায় সেলফ ডেভেলপমেন্ট। ফিলৌতিয়া যে কোন সম্পর্কের জন্য অপরিহার্য, কারন আমরা অন্যদেরকে কেবলমাত্র তখনই পূর্নভাবে ভালবাসতে পারি যখন আমরা সত্যিই নিজেদেরকে ভালোবাসি এবং আমরা কেবলমাত্র তখনি অন্যদের যত্ন নিতে পারি যদি আমরা সত্যিই নিজেদের যত্ন নিই।

৭। স্টোরেজঃ

স্টোরেজ হচ্ছে সন্তানদের জন্য বাবা-মায়ের যে ভালোবাসা। এটি একটি স্বাভাবিক প্রেম। এটি শক্তিশালী এবং এতটিই শক্তিশালী যে প্রতিরক্ষামূলক শক্তি সঙ্গে তা হার মানে না। এই প্রেম ক্ষমা, গ্রহণ এবং আত্মাহুতি জানে। এটি এমন একটি অনুভূতি যাতে, আপনি জানেন যে কেও জীবন দিয়ে হলেও আপনাকে রক্ষা করবেন, এমনকি তা আপনার সম্মতির বিরুদ্ধেও।যেহেতু একজন সাভাবিকভাবে বেরে ওঠা মানুষ তা জীবনে পাওয়া এই ধরনের ভালবাসা তার অভিভাবকের কাছে পেয়ে থাকে তাই সহযাতোভাবে রোমান্টিক সম্পর্কের প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ প্রায়ই শর্তহীন স্টোরেজকে প্রত্যাশা করে তার ভালবাসার মানুষের কাছে। তবে ইরোসে কেবলমাত্র প্রয়োজনীয়তা এবং নির্ভরতা খুঁজে পায় এবং যদি কেও অতি ভাগ্যবান হয় তাহলে তা একসময় ফিলিয়াতে পরিনত হয়। যথেষ্ট সময় দিলে ইরোস এর মধ্যে স্টরেজ বিকশিত হতে থাক।