মুক্তধারা

রাজধানীর পপুলার হসপিটালে ভুল চিকিৎসায় ঝরে গেল আর একটি প্রাণ

রিংকি খুব প্রাণ চঞ্চল মেয়ে সে। বিয়ে হয়েছে একবছর ও পুরনো হলো না তার। নতুন সংসারে ছিল বাবা মা আর তার প্রাণ প্রিয় হাজবেন্ড।সবাই তাকে রাজ রানির মতই রাখতো। কে যানে ওর এই জীবন হঠাৎ থেমে যাবে। এটাকে কি মেরে ফেলা বলে কিনা তা হয়তো কাহিনী টা পরে আপনারা বুজতে পারবেন।

ঘটনা শুরু হলো নাম করা ধানমন্ডি পপুলার হসপিটাল থেকে।

পেসেন্ট তার সাইনাস প্রব্লেম, আর বমি ৭বার হবার কারনে প্রথমে আমরা ধানমন্ডি পপুলার ২.২০ এ ইমারজেন্সি তে গেলাম,তার পর ইমারজেন্সির ডাক্তার আমাদের সব কথা শুনে এবং পেসেন্ট কে দেখে বললেন যে রিংকি কে হস্পিটাল এ এডমিট করতে হবে আর তাকে সেলাইন আর হাল্কা ট্রিটমেন্ট দিয়ে ছেড়ে দিবে।

জাস্ট ডিহাইড্রেশন আর বিপি আপ আর ডাউন করছে তাই। আমরা যথারীতি হাইকেয়ার ইউনিট এ ভর্তি হলাম।তারপর ডাক্তার হুমাইরা আর আন্ডারে দিল। কিন্তু দেখতে আসছে তার এসিস্টেন্ট। উনার খোজ নাই। সেলাইন চালু হল। তার পর তার সব টেস্ট করানো হল। পেসেন্ট রাত ৮ টা বাজে ও ঠিক ছিল। হঠাৎ তাকে মেডিসিন দেওয়ার পর সে কেমন জানি ছটপট করা শুরু করলো। তার পুরো শরির পেইন হতে শুরু করল। আর যে মেয়ে নরমাল অক্সিজেন নিতে পারছিল কিন্তু মেডিসিন দেওয়ার পর অক্সিজেন নিতে পারছিল না।

সে বলছে তার খুব খারাপ লাগছে। রাত ৯টা বেঝে গেল যন্ত্রণা আরও বারছে। ডাক্তার কে ডাকা হলো আসলো এসিস্ট্যান্ট মানে ডিউটি ডাক্তার কল দিয়ে ম্যাম থেকে পরামর্শ নিয়ে নিউ মেডিসিন পেস্ক্রাইব করলেন।

বোফাম ৩ নামে একটা ঘুম এর মেডিসিন দিল আর সেটা দুধ দিয়ে খাবার জন্য দিল। নার্স আমাকে আরং এর রেডি দুধ আনতে বললেন। আমি নিয়ে আসার পর এসিস্ট্যান্ট ডাক্তার চেক আপ করার সময় জিজ্ঞাসা করলাম যে রিপোর্ট এ কি আসছে?

তার পর ডাক্টার বললেন যে তার ভিটামিন ডি কমতি আছে। কিন্তু তেমন ইনফেকশন আছে আমরা খুজে পাচ্ছি না।এই বলে ডাক্তার চলে গেল। ঘুম এর মেডিসিন খাবার পর পেসেন্ট আর ও বেশি পাগলামি বেরে গেল। অক্সিজেন না রাখার জন্য পাগলামি করতে লাগলো। পেসেন্ট বলছে তার মাথায় পেইন এ ফেটে যাচ্ছে। আর শরির পুরাই পেইন।

যখন পেসেন্ট এর পেইন কমছিল না ঠিক তখনি ১০.২০ এ আমি সেই কাংখিত সে ডাক্তার হুমাইরা কে দেখতে পেলাম। উনি এসেই উনার বড় স্যার (ডাক্তার) আসায় উনি আমার পেসেন্টকে ছেড়েই দোড় দিলেন। ৫ মিনিট পর এসে ফাইন্ড আউট করলেন যে তার হাল্কা নিউমেনিয়া হয়েছে।

আর যেহেতু পেসেন্ট ঘুম এর মেডিসিন এর ইম্পেক্ট এর ফলে পাগলামি করার কারনে অন্য পেসেন্ট এর সমস্যা হচ্ছিল বলে আমাকে সাজেশন দিলেন ওদের আর একটা ডিপার্টমেন্ট HDU তে রাখতে আর তার চার্জ আলাদা হবে।

তার পর ও রাখলাম। আমরা HDU ভিতরে যেতে পারব না বলে বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলাম।হঠাৎ ২০ মিনিট পরে ডাক্তার কল দিয়ে HDU আসতে বললেন আর আমরা যথারীতি আসলাম আর গিয়ে দেখলাম পেসেন্ট এর হাতে দড়ি দিয়ে বাধা। আর পেসেন্ট বলছে সে থাকবে না। কান্না করছে আর তার হাত পা আরও বেশি পেইন করছে। আর সে একটু ও অক্সিজেন নিতে পারছে না।

আর এই দিকে ডাক্তার বলছিল যে পেসেন্ট ৩০ মিনিট অক্সিজেন নিলেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু যে মেয়ে ইসিলি অক্সিজেন নিতে পারছিল কিন্তু রাত ৮টার পর থেকে কি যে হলো আমরা টেনশনে পরলাম।

একটা সুস্থ মেয়ে কিজে করলো। ওদের নাটকের শেষ নাই।ওরা রাত যখন ১১.৩০বাজে তখন রিংকির দুলা ভাই ওর পাশে বসে আছে। হঠাৎ খেয়াল করলো অর হাতের ক্লিপ খুলে আছে। ক্লিপ লাগানোর পর দেখলো ওর পেশার কমে আসছে। যলদি ডাক্তার কে ডাকতে গেল ডাক্তার পেসার কমার কথা শুনেও উল্টো জারি মারলো বেশি বুজেন। এতো করে রিকুয়েস্ট করলো যাওয়ার জন্য মহাদয় আয়াকে দেকতে বল্লো। আয়া এসে একই কথা বল্লো তার পর তাদের আরেক নাটক পেসেন্টকে ICU তে shift করতে হবে। নিল ICU নামের আরেকটা মঞ্চতে সেখানে নিয়েই মেয়েকে এবার মেরেই ফেললো।

কেমন লাগে যখন একটা সুস্ত মেয়েকে নিয়ে আসলাম ডাক্তার দেখাতে আর সেই মেয়ে একের পর এক চিকিৎসা নামক নাটকের সিকার হয়ে চলে যায়। চলে যাওয়ার পর ডাক্তার বলে মেয়ে নাকি এডিক্টেড।তখন কি করা উচিত এসব ডাক্তার দেরকে। আপনারাই বলেন।

এখন আপনার আমার পালা কখন যে ওদের নাটকের শিকার হবো তা জানি না কিন্তু একটু সর্তক হতে হবে আপনার আর আমাদের। সবাই মিলে প্রতিবাদ করে ওদের বিচার করতে হবে। আর যাতে কোন প্রাণ ওকালে ঝরে না যায়।

লিখেছেনঃ শাম্মী আক্তার