মুক্তধারা

বর্তমান সামাজিক অবস্থায় নারীরা | মুক্তধারা

জিলফিকা জুঁইঃ চারিদিকে কি ভয়ংকর নেশায় সব মেতে আছে। কেউ কেউ নিজেকে নিয়েও ব্যস্ত। ব্যাগটা নিয়ে কোনরকম সামনে সে এগোচ্ছে। কিছুদূর এগোলেই সে বাসা পেয়ে যাবে।

পরিচিত এক বোনের বাসা খুব ভাল মানুষ সে। এখানে তেমন কিছু চেনে না শহরটা তার অচেনা। এসেছে একটা কাজের জন্য।
স্বামী আরেকটা বিয়ে করেছে তাই জীবনটাও নাকি তার বদলে গেছে । জীবনের মাঝপথে সব এলোমেলো হয়ে গেছে।
এই অচেনা শহরেই তার আসল ঠিকানা। শুরু হবে তার পথচলা।
তারপর?
কি হবে?
বিচারের জন্য কিছুদিন চিল্লাচিল্লি হবে ।
তারপর সব থেমে যাবে ।
তারপর?
গল্পটা শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে নয়তো হারিয়ে যাবে । কারো কারো কাছে এই গল্পগুলো খুব পুরনো ! বোরিং ! নতুন গল্প চাই তাদের হয়তো । নতুন ঘটনা নতুনত্ব কাহিনী।
হ্যাঁ, ঠিক তাই কারো কারো এসব পুরোনো সমস্যা কোন সমস্যাই না ! এটা নাকি কমন ব্যাপার !

বর্তমানে সামাজিক অবস্থা আর আমরা নারীরা খুব একটা পার্থক্য আছে কি অতীতের সাথে মিলিয়ে দেখলে ? আছে কিছু ভাল কিছু মন্দ দিক ।
ভাল দিকটা হচ্ছে একটু একটু করে এগোচ্ছে নারীরা তা অনেক আগেও আবার বর্তমানেও আর মন্দ দিকটা হচ্ছে সামাজিক সমস্যাগুলো কখনো কম কখনো বেশি। নারীদেরকে নির্যাতনের ধরনগুলোও একেক বার একেক ধরনের অভিনব কৌশল কখনো ধরাছোয়ার বাইরে।

শুরু থেকে আজ পর্যন্ত নারীরা একটা ব্যাপারে সব সময়েই এগিয়ে তা হচ্ছে মনের একটা নীরব শক্তি। বিধাতাও সেই শক্তিটা হয়তো নারীদের মাঝেই বেশি দিয়েছেন হয়তো দরকারও ছিল।

আজ থেকে তেইশ বছর আগে আমার দাদী ঈদের দিন বিকেলে প্রতিবেশীর বাসায় বেড়াতে যাবেন বলে বেরিয়েছিলেন। রাস্তায় তাকে একা পেয়ে এক মাতাল লোক বলে বসল উল্টাপাল্টা কথা আর হাত ধরে টানাটানি জড়িয়ে ধরার চেষ্টা। দাদী নিজেকে কোনরকম বাঁচিয়ে বাড়ীতে এসে অনেকটা ভয় ভয় মুখ আর বাধ্য হয়েই ছেলের বউদের সাথে কথাটা শেয়ার করলেন । ছেলের বউদের রাগ এবং ইয়ার্কী দুটোই ছিল । দাদীর মুখটা ছিল ভয় আর মন খারাপ । তারপর ঐ লোকটাকে কোনদিন বাসায় আসতে দেখিনি।

লোকটা ছিল তার ছেলেদের বয়সের চেয়েও ছোট। ছেলেদের সাথে আলাপের সুবাদেই মাঝে মাঝে বাসায় আসতো। দাদু মরে গিয়েছে অনেক আগেই লোকটা সেই কারণেই দাদীর দিকে কুনজর দিয়েছিল । হাজবেন্ড মারা গেলে ওয়াইফদের সাধারণত প্রায় এখনও এই প্রবলেম গুলো হয়।

কিন্তু কেন ?
পরিবেশে যতটা মনে হয়েছিল বাসা থেকে লোকটাকে কিছু বলেছিল হয়তো ছোটমানুষ হওয়াই সমাধানটা অনুমান করেছিমাত্র।

তেইশ বছর আগে যদি এমন ঘটনা হয়, এমন ঘটনা কিন্তু এখনও হয় ধরনটা কিছু কিছু ক্ষেত্রে একেক রকম। মেয়েরা অবশ্য এখন অনেক প্রতিবাদী হয়েছে। দুর্ঘটনাগুলোও এখন অনেকটা কমে গেছে। মাঝে মাঝে ঘটনাগুলো হিংস্রতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। অনেক কিছুই নিঃশ্বেষ হয়ে যায়। ভাল লাগতো যদি প্রতিটা অন্যায়ের বিচার হত। অবশ্য সেই বিচারের প্রতি বেশিরভাগ জনেরই আস্থা নেই বললেই চলে।

সামাজিক অবস্থায় নারীরা একটু একটু করে এগোচ্ছে ঠিকই। একবার এক বাবার কাছে শুনতে পেলাম মেয়েদেরকে বেশি বেশি করে খাওয়াও শ্বশুর বাড়ীতে গিয়ে তো খেতে পারবে না। এখনকার সময়েও নানান কথার মাঝে এমন কথা যখন শোনা যায় তখন বোঝা যায় সামনে এগোনোর মাত্রা এখনও কতটা পিছিয়ে।
সেই বাবা বেশিরভাগ সময়েই প্রবাসে ছিলেন আর মা এইচ.এস.সি পাশ। কি কারণে তারা জানেন না সমাধানটা বা কিভাবে জানতেন তারা সমাধানটা। নাকি আরো অনেক শিক্ষিত হতে হতো ? নাকি সহজ ভাবনাটা সমাজ মানুষকে ভাবতে দেয় না ?

তাদের দুই মেয়ে এক ছেলে। দুই মেয়ের খাবারের ব্যাপারে তারা খুবই যত্নশীল। কারণ শ্বশুর বাড়ীতে গিয়ে নাকি মেয়ের খাবারের স্বাধীনতা থাকবে না। তাই মেয়েদের জন্য সবসময় মাছের মাথা, বড় মাংসের পিচ, মুরগীর রোস্ট রান ইত্যাদি ইত্যাদি সব আলাদা করে রাখা হয়। ভাবখানা এমন যেদিন মেয়ের বিয়ে হবে সেদিন থেকে বোধহয় ভাল খাবার আর খেতে পারবে না। হায়রে আফসোস !

তারা এটা জানে না,নাকি মানে না যে মেয়েরা প্রতিষ্ঠিত হলে জীবনটাকে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে পারবে। হায়রে আফসোস !