'ও ডাক্তার'

সিন্ডারেলা সিন্ড্রোম

অনেকেই আছে নিজেকে অন্যদের কাছে করুণার পাত্র হিসেবে উপস্থাপন করবে। সবসময় আশা করবে যে অন্য কেউ এসে তাকে তার ‘দু:সহ’ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাক। এরা নিজেকে প্রমাণ করার, আত্নসত্তার উৎকর্ষের সুযোগ পেলেও তা গ্রহণ করবে না। নিজের ‘মনগড়া’ ‘কাল্পনিক’ দু:সহ অবস্থার মাঝেই দিনাতিপাত করতে ভালোবাসবে এবং স্বপ্নের রাজপুত্রের জন্য অপেক্ষা করবে।

‘মনগড়া’ এবং ‘কাল্পনিক’ অবস্থা বলার কারণ এদের বাস্তব বুদ্ধি খুবই কম, তাই চারপাশে অন্যদের বাস্তব দুর্দশা এদের কাছে গৌণ, নিজের ‘দু:সহ’ অবস্থাই এদের কাছে মূখ্য। এ ধরণের ব্যক্তিদের আত্মসম্মানবোধ থাকেনা বললেই চলে, কেননা আত্মসম্মানবোধ থাকলে কেউই নিজেকে করুণার পাত্র হিসেবে অন্যের কাছে উপস্থাপন করতে পারেনা।

এদের সংগী (বয়ফ্রেন্ড/ গার্লফ্রেন্ড) এর অবস্থা হয় ভয়াবহ, কেননা তারা সংগীর কাছে কখনোই নিজেদের বাস্তবিক সমস্যার কথা বলতে পারেনা। অন্যদিকে তাদের ‘কাল্পনিক’ দুর্দশা দূর করার জন্য সদা তৎপর থাকতে হয়। আর পরিণতি হিসেবে সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে, কেননা এই সিন্ড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাথে সুস্থ সম্পর্ক রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সবারই মনে রাখা দরকার যে জীবন কল্পকাহিনী নয়। আর রাজপুত্র/ রাজকন্যার প্রত্যাশা করলে নিজেকেও আগে রাজকন্যা/ রাজপুত্র হিসেবে গড়ে তুলতে হয়।

সিন্ডারেলা সিন্ড্রোম ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠার কারণ শৈশবে কোন ধরণের অবহেলার মাঝে বেড়ে ওঠা। অভিভাবক এবং কাছের মানুষদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত মনোযোগ এবং সময় না পাওয়া। তাছাড়াও যদি কেউ কোন ডিস্টার্বড পরিবেশে বেড়ে ওঠে যেমন বাবা মার মাঝে সার্বক্ষণিক দ্বন্দ্ব চলতে থাকে বা পরিবার বা ঘরে দ্বান্দিক পরিবেশ বজায় থাকে। তখন শিশু স্বাভাবিকভাবেই নিজের একান্ত কথাগুলো বাবা, মা, ভাই, বোন বা কাছের কারো কাছেই প্রকাশ করতে পারেনা। এবং প্রত্যেক শিশুই রূপকথার গল্প শুনে বড় হয়, এবং জীবনে একজন হিরো আসবে এই স্বপ্ন লালন করেই বড় হয়।

কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাস্তবে সব জায়গায় নিজেকে প্রমাণ করেই নিজের স্থান করে নিতে হয়। প্রাণী জগতের নিয়মই হচ্ছে সার্ভাইভাল অফ দ্য ফিটেস্ট।
সাধারণত অধিকাংশ মানসিক সমস্যার বীজ সকলের অজান্তেই শৈশবে রোপিত হয়ে যায়। তাই শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে সুস্থ, সুন্দর, স্বাভাবিক শৈশব অনস্বীকার্য।।
সকল শিশু বেড়ে উঠুক নির্মলতায়, নিশ্চিন্তভাবে এবং আপন মানুষের প্রতি নির্ভরতায়।

লিখেছেনঃ জোবাইদা ফাতেমা