মুক্তধারা

জলে ভাসা পদ্ম জীবন যাদের | নারীকণ্ঠ

সিদরাত মুনতাহাঃ একটা ওয়েস্টার্ন ড্রেস পড়া মেয়েও যে সংসারী হতে পারে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট এ একটা মধ্যবিত্ত বা মফস্বল শহরের পরিবার কে বুঝানো অসম্ভব, আসলে বোধহয় সামান্য ভুল বললাম কেবল মাত্র মধ্যবিত্ত বা মফস্বল এর মাঝেই বিষয়টা সীমাবদ্ধ না, প্রতিটা শ্রেণীর মাঝেই পরিলক্ষিত হয়, কারণ একজন মানুষ যতই সম্পদের দিক থেকে উচ্চবিত্ত হোক না কেন তার চিন্তাভাবনাও যে উচ্চবিত্ত হবে তা না, এখন প্রশ্ন হচ্ছে উচ্চবিত্ত চিন্তা কি?

আমার কাছে উচ্চবিত্ত চিন্তার অর্থ হলো নো হেজিটেশন ফর ডুয়িং এনিথিং, টাকার দিক দিয়ে উচ্চবিত্তরা কিছু কেনার সময় সাতপাঁচ না ভেবেই যেমন কিনে ফেলে অনুরূপ কোন কিছু করার ক্ষেত্রেও সাতপাঁচ ভেবে কে কি বলল পাছে লোকে কি ভাবে টাইপ কথা না ভেবে করে ফেলা,যদি মন তাতে ইতিবাচকভাবে সায় দেয়, কিন্তু আমরা করি টা কি?

যা করি অন্য এর জন্যই, প্রতিটা শ্রেণীর মানুষই অন্য এর প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে ভেবে কাজ করে, আমি মোটামুটি ৯০% নিশ্চিত ধনীরা যা করে যেভাবে চলে বেশীরভাগ শো অফ আর মধ্যবিত্ত মানুষ দের মনে হাহাকার জাগানোর জন্য,আর মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্ত দের জন্য নানা নিষেধাজ্ঞা রয়েছেই, কে কি ভাবল, কে কি ভাবল, এসব অহেতুক নিষেধাজ্ঞা আসলে আমরা নিজেরাই সৃষ্টি করি।

সবচেয়ে বেশী ভুগতে হয় মেয়েদের,একজন সেল্ফ ডিপেন্ডেড মেয়েকে বাহবা দেওয়ার চেয়ে ক্রিটিসাইজ করার লোকের সংখ্যাই তুলনামূলক বেশী,সবার মাথায়ই ঢোকানো ছেলেরা কামাই করবে মেয়েরা ঘরের কাজ করবে,একটা মেয়ে নিজে বিজনেস করে বা জব করে আবার সংসার ও করে,সারাদিন হাজার ব্যস্ততার শেষেও একটা মেয়ে ঠিক ই তার হাজবেন্ড কে হাজবেন্ড এর পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়াবে এ কথা কেউ মানতেই পারেনা।

ওয়েস্টার্ন ড্রেস পড়া এলোচুলে ঘুরা মেয়েটা যে বাসায় এসে টাইট করে চুল বেধে বাসার সবার জন্য ভালোবেসে রাঁধতে পারে সেটাও কেউ মানতে পারেনা,
স্বল্প সংখ্যক পুরুষ ই আছেন তারা স্ত্রীর বাইরে গিয়ে কাজ করাকে সাপোর্ট করেন,যদি স্বামী স্ত্রী দুজনেই কর্মজীবী হোন তারপর ও বাড়ি ফিরে ঘরের কাজ স্ত্রীকেই করতে হবে, স্বামীরা করবেন না, দুজনে বাইরে পরিশ্রম করবেন সমান অথচ বাড়ি ফিরে তারপর ও দায়িত্বটা স্ত্রী এরই,অনেক পুরুষ আছেন কর্মক্ষেত্রে নিজের চেয়ে বেশী স্ত্রী উন্নতি করলে সহ্য করতে পারেন না, নানারকম মানসিক যন্ত্রণাদায়ক কথা বলেন,কোন অসুবিধায় স্ত্রীর থেকে আর্থিক সাহায্য নেওয়া এক প্রকার অপমান মনে করেন,তারা সহজেই ভুলে যায় স্ত্রী তাদের জীবন সংগী সুখ দুঃখ বিপদাপদ সব কিছুর সংগী এবং সাধ্য থাকলে সে সাপোর্ট দিতেই পারে,অনেকক্ষেত্রে স্বামীগুলা চরম সাপোটিভ থাকে তবে আশেপাশের মানুষ বিশেষত স্বামীর মায়ের কথায় স্বামী মন ও বিষিয়ে উঠে।

ধরা যাক চুটিয়ে প্রেম করার ছেলে মেয়েটির বিয়ের সময় এসেছে, মেয়েটি এতদিন সুন্দর করে তার সংসারের স্বপ্ন সাজিয়েছে,শুধু স্বামীকে নিয়ে না স্বামীর পরিবার শ্বশুর শ্বাশুড়ি সবাইকে নিয়ে,শ্বশুর কি খেতে পছন্দ করেন সে রেসিপি ট্রাই করছে,মনে উত্তেজনা কাজ করছে ওই মুহুর্তে তার কানে ভেসে আসতে লাগল ছেলের পক্ষের লোকজন থেকে,মেয়ে নাকি বাইরে কাজ করে,মেয়ে নাকি শার্ট প্যান্ট পড়ে ঘুরে,ব্লা ব্লা…

মেয়েটার ধরুন গানের শখ,তবে গান করতে হলে তো কতই ছেলেদের সাথে মেশা লাগে,এই ব্যস,হয়ে গেল দোষ।
এখন মেয়েটার হাতে দুটো অপশনই থাকে-

১.সব ছেড়েছুড়ে সব নিজের পছন্দ পেশা সব বাদ দিয়ে বিয়ে করে পুরোপুরি সংসারী মনোনিবেশ করা,
২.বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে ক্যারিয়ার এর পথেই ছোটা

তবে সত্যি হলো যেকোন একটা চুজ করে সুখী হওয়া সম্ভব না,প্রথম টা বেছে নিলে নিজস্ব স্বত্বা ভুলে যেতে হবে, আর দ্বিতীয় টা বেছে নিলে আজীবন এর জন্য খারাপ মেয়ের ট্যাগ লেগে যাবে পিছনে,এত্তদিন প্রেম কইরা বিয়ে করল না।

আহারে জীবন!যতই আমরা আগাই উন্নতি করি এ ব্যাপারগুলো হয়তো কখনোই পিছু ছাড়বেনা আসলেই আমাদের জীবন জলে ভাসা পদ্মের মত!