অনুরণন

শান্তির ঘুম

রুমকি এখন ঘুমোতে যাবে। বিছানায় এপাশ ওপাশ হচ্ছে প্রায় এমন হয় তার ঘুম আসতে চায় না। জেগে আছে দু ঘন্টা হল। রাত ১২ টা পার হয়েছে।

রুমে একটু পায়চারি করে বিছানায় এসে বসে আছে হাত পা গুটিয়ে। মশারী টানানোয় হঠাৎ তাকে চেনা কোন পরিবেশে আবদ্ধ মনে হল। ঠিক এমন করেই বসে ছিল সেদিন। চারপাশে মশারীর মত করেই ফুল দিয়ে সাজানো বিছানা।

সেদিনের ঘরটা ছিল বাসরঘর সাজানো। একটা টেবিল আর আলনা ছিল। এক কোণায় দেয়ালে রং করা বাদ আছে। যেটুকু অংশ বাদ আছে তাতে মনে হল একটা আলমারি ছিল হয়তো। সম্ভবত ঘরটা ফাঁকা করেছে সৌজন্য হিসেবে মেয়েপক্ষ থেকে ফার্ণিচার আসবে ভেবে।

রুমকি খেয়াল করল সেদিনের ঘরটা ছিল সংসার শুরু করার ঘর আর আজকের ঘরটা বাঁচার ঘর।

রুমকি সংসার থেকে চলে এসেছে। সংসারে সে মৃত্যুর প্রহর গুণছিল। তাকে নীরব ভাবে কিছুটা শক্তভাবেও নির্যাতন করা হয়েছিল। সে অপেক্ষায় ছিল মৃত্যুর। প্রতিদিন সে মৃত্যু কামনা করত।

অবশ্য এখন তাকে প্রতিনিয়ত বাঁচতে ইচ্ছে করে। বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে বাঁচার সুখ অনুভব করে। প্রতি মুহূর্তে সে ভাল থাকতে জানে হয়তো শিখেও গেছে।
মাঝে মাঝে সে অবাক হয় সংসার থেকে চলে এসে এত ভাল আছে কি করে। চলে আসা তো ভাল নয়। এতো হেরে যাওয়া জীবনের কাছে হেরে যাওয়া।
অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় না জিতে হেরে যাওয়ারও দরকার হয়ে পরে। চলে আসবো না বলেই যে জিতে যাবো তা তো নয়।

নির্যাতন থেকে তো মৃত্যুর প্রহর গুণছিল রুমকি। যখন মৃত্যু তাকে ধরা দিল না ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে বাধ্য হল সে তখন চলে আসতে। সংসার নামে সামাজিক সেই চিত্রের আড়ালে যখন নির্যাতনের মাত্রা সহ্যসীমার বাইরে তখন চলে আসাটাই বুদ্ধিমানের কাজ মনে হল তার।

তবে সেদিনের ঘর আর আজকের ঘরের বিশাল পার্থক্য। রুমকির কাছে মনে হয় সেদিনের ঘর ছিল মিথ্যে আর আজকের ঘরটায় আছে বাস্তবতা সত্যিকারের বাঁচার স্বপ্ন।

এই বাঁচার সুখ অনুভব করাটা অবশ্যই নিজের কাছে। হয়তো জীবনের সার্কেলটা এদিক সেদিক হয়ে গেছে। কিন্তু জীবন তো জীবনের গতিতেই চলে। মানিয়ে নেওয়াটা তো নিজের কাছে।

নিজের যুদ্ধের কাছে।
নিজের জয়ের কাছে।
নিজের সুখের কাছে।

এসব ভাবতে ভাবতেই রুমকি একটু ইমোশনাল হয়ে যায় । তবে নিজেকে ভাল রাখার শক্তিটা অনুভব করে সে একা একা সুখের মুচকি হাসি হাসে। এ সুখ রুমকির একার না। অনেক রুমকিরাই একটা সময় নিজেকে ভাল রাখার শক্তি অর্জন করেন। এটা ঠিক সেদিনের মিথ্যে ঘর তাকে ঠকিয়েছে তবে তার ভাল থাকার সুখ কেড়ে নিতে পারেনি।

এত কিছু ভাবতে ভাবতে রুমকির চোখে ঘুম চলে এল। চোখে তার ঘুম ঘুম ভাব। সে ঘুমিয়ে পরে। ঘুমিয়ে পরে অনেক রুমকিদের মতোই।

লিখেছেনঃ জিলফিকা জুঁই