মুক্তধারা

বর্তমান এবং নারী

মেয়েরা জন্ম থেকে প্রতিবাদ শিখে আসে না। এই সমাজ আমাদের মত মেয়েদের প্রতিবাদী করে তুলে। কত দিন থেকে দেখছি আমাদেরি ছোট সোনামনিরাও রেহাই পায়না মানুষ রুপি নরপশু দের কাছ থেকে।

আমরা মায়ের জাত। আর সেই মা ও মেয়েরা কোথাও কি তারা নিরাপদ আছে?আর দেখছি কচি মেয়েদের প্রতি চোখ পরে বেশি। তাদের যে কাছে আছে কচি দেহ। নতুন জিনিসে মজাই আলাদা। আজ মেয়ে হয়েও লিখছি এসব ভাষা।

পূজার মত আরও অনেক পূজা আছে যারা লুকিয়ে আছে। বয়সে পূজার চেয়ে অনেক বড়। হয়তো কর্পোরেট জগতের উচ্চ বেতনে অধিষ্ঠিত কেউ, অথবা বাড়িতে বাড়িতে কাজ করছে এমন কেউ। হয়তো কেউ ছাত্রী, অথবা গৃহবধূ। ওরা ভয় পায় প্রতিবাদ করতে। ওদের মুখে একটাই কথা যা হওয়ার তা হয়েছে এখন আর কি করার। সমাজের কাছে মাথা উচুঁ করে দাড়াঁতে ভয় পায়। ওরা প্রতিবাদ করলে এই সমাজের মানুষ ওদের ঘৃনা করবে। বলবে যে বাবা মা মেয়েকে দেখে শুনে রাখেনি তাই তো আজ বেহাল দশা।

কত মানুষ কত কথা। আর এই বেহাল দশায় ভূগছে আমাদের এই মধ্যবিত্ত পরিবার।

লজ্জা আর লজ্জা মানুষ শুনবে ওরা ছি ছি করবে আমাদের নিয়ে। মুখ দেখাতে পারবোনা। এই ভাবে হাজারো নারি লাঞ্ছিত হচ্ছে পথে ঘাটে বাসে সব জায়গায়।

একজন পাগলীও মা হয়। কিন্তু বাবা হয়নি।

তাই বলছি এখন থেকে সব সময় নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। যেখানে অন্যায় দেখবে সেখানেই প্রতিবাদ করতে হবে। আমরা যদি এক বোন কে বাচাঁতে আরও দশ বোন দাড়িয়ে যাই তাহলে মনে সাহস আসবে। প্রতিবাদ হবে এক সাথে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ চেয়েছি। কিন্তু ডিজিটাল সমাজ চাইনি। আধুনিকতা দেখিয়ে ঘরে বাহিরে সব জায়গায় যে খানে মেয়ে হোক আর ছেলে হোক বিপদে পরলে কোথায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবে, তা না করে মোবাইল এর ছবি তুলে আর ভিডিও করে আপলোড করছে। কিন্তু সাহায্য করিনি।

সব ছেলেরা যে খারাপ তা বলছি না। বলতে চাই আমরা তোমাদের মা তোমাদের বোন, তোমরা যদি আমাদের বিপদে এক পা বাড়াও তাহলে আমাদের মত আরও হাজারও মেয়েরা একটু হলেও নিরাপত্তা পায়। তাহলে নরপশুর হাত থেকে অনেক ছেলে মেয়ে রক্ষা পেত।

আমার সাথে ঘটে যাওয়া কিছুদিন আগের কথা বলছি। ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। লিফটে উঠবো এমন সময় আমার ঘা ঘেশে এক লোক দাড়িয়ে আছে। আমার হঠাৎ মনে হলো কে যেন আমার ব্যাগে হাত দিচ্ছে। তাকাতে দেখি ১০০০ টাকা বের করে ফেললো। আমি সাথে সাথে সবাই কে বলছি কিন্তু কেউ এক বারের জন্য কেউ কিছু বললো না। নিচে গিয়ে দেখি অন্য লোকের পকেটে হাত দিচ্ছে। আমি যখন বললাম তখন যদি কেউ একজন পাশে দাড়াতো তা হলে অন্য মানুষের সাথে একই কাজ করার সাহস পেত না।

ধর্ষনের কথা বলছি, যতই বলছি তার চেয়ে বেশি দেখছি এসব কাজ করছে মধ্যবয়স্ক পুরুষরা। তাদের ঘরে বউ আছে মেয়ে আছে। তো কিসের জন্য এত খারাপ নজর। এটা কেন মনে রাখে না আজ যা করছেন ঠিক তাই যদি আপনাদের মেয়ের সাথে বউ সাথে হয়। তখন লজ্জায় মুখ দেখাবেন কি করে।

আসুন না একটা সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি। যেখানে মা মেয়ে ঘর থেকে বের হলে কোন টেনশন থাকবে না। ভাই বোন কখনো রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগবেনা। সবাই মিলেমিশে একটা সুন্দর সমাজ সুন্দর দেশ গড়ে তুলি।

লিখেছেনঃ শাম্মী আক্তার