মুক্তধারা

দুই রুপের মানুষ

জিলফিকা জুঁইঃ এই একাকিত্বের কি মূল্য নেই ! হয়তো নেই । তাইতো তাকে আজ এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হল । জানল সে পৃথিবীর আরো সেই নতুন নতুন পরিচয় । কিছুটা আগেও জেনেছে আজও নতুন কিছু জানল।

যার কাছে পৃথিবী ছিল অনেক অনেক অচেনা । নিয়তির নিয়মে সে আজ একটু একটু করে সব চিনছে বা চিনতে শিখছে ।
তানিসা ছিমছাম গড়নের সাধারণ সুন্দর একটি মেয়ে । আজ তার জব বড্ড দরকার । তাই সে কি করবে না করবে জবের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নিবে ভেবে পায় না।

কিছুদিন তার বিয়ের চাপও গেল পর পর সে বিয়ের ব্যাপারে না করে দিল। এই নিয়ে অভিভাবক একটু বিরক্ত।

সে বিয়ে করতে চায় না আগে কাজ নিয়ে সিরিয়াস থাকতে চায়। হোক না জব তার জন্য খুব কঠিন হয়ে গেছে, তারপরও সে এর বাইরে ভাবতে চায় না।
এক ছেলের সাথে দেখা হয়ে গেল । ছেলে প্রথম দর্শনেই তামিসার জন্য পাগলপ্রায়।

ছেলে প্রথমেই পরিচয় দিয়ে বিয়ের প্রপোজ করল। তানিসা সরাসরি বলে দিল এসব নিয়ে সে এখন ভাবছে না। তাই এ নিয়ে তার সাথে আর কথা না বলতে।
ছেলেটি সে কথা কানেই তুলল না। উল্টো আরো সে তার পরিবার ও তার অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে দিল আর বলল তুমি সময় নিতে পারো পারিবারিকভাবে বিয়েটা হোক এ নিয়ে আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তানিসা এবার অনুরোধ করল এ নিয়ে যেন আর কথা না বলে। ছেলে রেগে গেল বলল কি প্রবলেম তোমার? তোমার যদি কোন প্রবলেম থাকে আমার কাছে সেটা কোন প্রবলেম না। তোমার যদি আগে কারো সাথে সম্পর্ক থেকে থাকে আমার কাছে সেটা কোন প্রবলেম না। অতীত তো অতীতই এ নিয়ে আমি কিছু বলবো না।

তানিসা এবার কথা বলা বন্ধ করে দিল। তাতে কোন লাভ হলো না। অনেক আগেই ছেলে তানিসার নাম্বার পেয়ে গেছে।

প্রায় আড়াইশো তিনশোর মত তোমাকে পছন্দ করি কথাটা মেসেজে লিখে দিল। তানিসার চেহারার মিল এমন ছবি আঁকিয়ে তানিসার কাছে পাঠাল। তার অনিচ্ছায় মোবাইলে কল করে ছেলেটি খবর রাখতো। জিজ্ঞাসা করতো তানিসা এখন রাজি কিনা। সে রাজি থাকলে পারিবারিভাবে কথা বলতে চায়।

বিয়েটা সে দু তিন মাসের মধ্যেই করতে চায়। ছেলের মা ছেলের জন্য পাত্রী খুঁজছেন তাই সে তাড়াতাড়ি এ ব্যাপারে মায়ের সাথে কথা বলতে চায়।

তারপরও তানিসা না করল আর কথা না বলার জন্য অনুরোধ করল। ছেলে রেগে গিয়ে বলল তোমার কি বিয়ে হয়েছিল আগে যদি এমন প্রবলেম থাকে তাহলেও আমার কোন প্রবলেম নেই। এত বলার পরও তুমি না বলে বলে আমায় অপমান করছো কেন? আমি কি তোমার যোগ্য না?

তানিসাকে আবারও কিছু সারপ্রাইজ পাঠালো। তানিসা এবার অতিষ্ঠ। সে আর এই মানসিক চাপ নিতে পাচ্ছে না। রেগে সিদ্ধান্ত নিল কেন সে বিয়ে করতে চাচ্ছে না এবার বলে দিবে। ছেলের এই বিয়ের প্রস্তাবের প্রেসার সে আর নিতে পাচ্ছে না।

তানিসা ছেলেটিকে জানিয়ে দিল সে না বলার কারণ জানাতে চায়। তারপর যেন সিদ্ধান্ত নিয়ে সে চলে যায়।

ছেলেটিকে বলার সময় এল। তানিসা অনেক সাহস করে জানিয়ে দিল সে ডিভোর্সী। তাই সে এখন বিয়ের কথা ভাবছে না।

ছেলেটি যেন বোবা হয়ে গেল। সেদিন ছেলেটি কোন কথা বলতে পারেনি। দুদিন পর তানিসার কাছে ফোন এল। এবার সে তানিসার কাছে ক্ষমা চাইল যে সে তানিসাকে বিয়ে করতে পারবে না। তার মা এটা মেনে নিবেন না।

তারপর প্রস্তাব দিল সে তানিসার একটা জব এর ব্যবস্থা করে দিবে। তানিসা ভাবল ছেলেটা মনে হয় সত্যিই শুভাকাঙ্খী হিসেবে উপকার করতে চাচ্ছে। কিন্তু জব এর আলাপে কথার মিল পাওয়া গেল না। তাই ধন্যবাদ জানিয়ে বলল আর যেন কল না করে।

তবুও ছেলেটি কারণে অকারণে কল করতো কথা বলার চেষ্টা করতো। একদিন কিছু অশ্লীল কথাবার্তা আর বাজে প্রস্তাব দিয়ে ফেলল।

তানিসা অবাক হয়ে ভাবল ডিভোর্স শব্দটার কারণে তাকে অপমান করা হচ্ছে। ডিভোর্সের প্রবলেমে তানিসা আত্নীয়ের বাড়ীতে ছিল। সে নাম্বার আর ঠিকানা বদলে ফেলল।

এবার নতুন ঠিকানায় সে আর কাউকে ডিভোর্সের কথাটা জানায় না।

তানিসার অভিজ্ঞতায় এই শব্দটা যারা যারা জেনেছে তাদের বেশিরভাগই তাকে ডিস্টার্ব করেছে। যেন এই শব্দটা ওই বাজে মানুষগুলার জন্য একটা সুযোগ।