মুক্তধারা

মায়েরাই পারবে ডিভোর্স রুখতে সন্তানকে যদি শেখায় মানুষকে সন্মান করতে

ডিভোর্সের ব্যাপারে আমরা সাধারণত সবার আগে ছেলেদের দোষ দেই। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছেলে মেয়ে উভয়েই বা কখনো ছেলে কখনো মেয়ে দোষ করে থাকে।

একটা সম্পর্ক খুব সহজেই যেন ভেঙ্গে যায়। আজকাল বিয়েটাও যেন কেউ খেলা খেলা ভেবে বসে থাকেন। এমন কথাও কেউ কেউ বলেন দেখো গিয়ে এই বিয়েটা বা কয়দিন টিকে। ঘরে ঘরে এত এত বেশি ডিভোর্স হচ্ছে তাতে বিয়ের প্রতি বিশ্বাস আর থাকছে না।

ডিভোর্স হলেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমরা সবার আগে দোষের ব্যাপারে ছেলের দিকেই আগে আঙ্গুল উঠাই।
একটা সম্পর্ক কি আসলেই হুট করে ভাঙ্গার কথা?
খুব কি সহজ এই সম্পর্কের মায়া থেকে বেরিয়ে আসা?

যদি মায়া মমতা ভালোবাসা সন্মান শ্রদ্ধা থাকে সে সম্পর্ক ভাঙ্গার কোন প্রশ্নই আসে না। তবে ভাঙ্গে কেন এত ঘর এত সংসার ।
সম্পর্কটা যেন একেবারে কাগজ পাতার মত । ফুঁ দিলো আর সংসার যেন ভেঙ্গে উড়ে গেল।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ডিভোর্সটা খুব প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে ব্যাপারটা আলাদা।

এবার বলি ছেলেদের দোষের প্রসঙ্গে। ছেলে ভাল না ছেলে লুইচ্চা ছেলে দায়িত্ব নিতে পারে না ছেলের ব্যক্তিত্ব নাই ছেলের কোন ভবিষ্যত নাই ছেলে এটা ছেলে সেটা নানান দোষ। দোষের লিস্ট বেশ লম্বা।

যদিও ছেলেরা ডিভোর্সের পর মেয়েদের মত এতটা সমস্যায় ভোগে না। তাই ডিভোর্সের পর ছেলেদের মেয়েদের মত অত চিন্তিতও দেখায় না তুলনামূলক ভাব। ডিভোর্সের পর একটা মেয়েকে অনেক সমস্যায় পরতে হয় কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে অতটা না।

একটা কথা কেন জানি খুব বেশি একটা প্রচার হয় না। এই ডিভোর্সের মূল ভূমিকা কিছু কিছু নারী করে থাকেন। এই জন্যই হয়তো বা বলে মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু।
অনেক সময় মেয়ের মা ছেলের মা বা উভয়েরই বোন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ভূমিকা অনেকটা জোকের মত করে থাকেন।

কিছু মেয়ের মা মেয়ের সংসারে সুখের চিন্তা করে কূটনীতি পরামর্শ দিয়ে সংসারের জটলা পাকিয়ে ফেলেন নিজের অজান্তেই। ঘরে নারীরা একে অপরকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তোর সংসার আমি ভাঙ্গবো।

এই ধরনের ঘটনা আমি দুই পরিবারে দুই মহিলার মুখে শুনেছি। সিন টা অনেকটাই স্টার জলসার মত ।যতদূর মনে পরে তখনও বাংলাদেশে স্টার জলসা আসেনি। আমি তখন অনেক ছোট। সম্ভবত ক্লাস ফাইভে পড়ি তখন।

ঝগড়াঝাটি লাগতেই পারে সেটা যদি বড় আকার ধারণ করে তবে তা খারাপ পর্যায়ে চলে যায় ।
সন্তানকে ভালভাবে মানুষ করার দায়িত্ব সবার আগে মায়ের। মায়ের ভাষাই সন্তানের প্রথম ভাষা। মায়ের থেকেই সন্তান একটু একটু করে সব শিখে নেয়। মানুষের মত মানুষ হয়।

অল্প শিক্ষিত বেশি শিক্ষিত এই টপিকস টা নতুন কোন লেখায় বলতে চেয়েছিলাম। তার আগে নিজের সম্পর্কে বলে নেই। সব সময় শেখার চেষ্টা করি মাত্র শিক্ষিত এখনও হতে পারিনি। তাই এই অল্প শিক্ষিত বেশি শিক্ষিত এই বিষয়টা নিয়ে আমার লেখার সাহস দেখানোটা অবশ্যই বাড়াবাড়ি হবে। সে বাড়াবাড়ি আমি করছি না।

আমি আসলে এই বিষয়টা নিয়ে বলতে চাই এভাবে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টা দেখে কিভাবে ?
সাধারণত আমার সামনে যা ঘটেছে বা দেখেছি এমন ধরনের কথায় আমি বেশি লিখি।

এক মায়ের কথা বলি। ক্লাস ফাইভের ছেলেকে এমনভাবে সব গল্প শোনান সামনের যুগের মেয়েরা ভাল হয় না। অনেকটা কৌশল করেই বলেন কথাগুলো। ক্লাস ফাইভের বাচ্চা এই কৌশল বোঝার কথা না।

আমি এতটুকু বলতে পারবো এভাবে চলতে থাকলে সে ভবিষ্যতে কোন নারীকেই সন্মান করতে শিখবে না বা পারবে না।
সেই বাচ্চা ক্লাস ফাইভে পড়ে অথচ আমাকে হঠাৎ একদিন বলে বসলো ছেলেদের চারটা বিয়ে করা যায়। প্রসঙ্গটা কোন একটা কথা থেকে সে আমাকে বলেছিল।

আমি তার মুখে কথাটা শুনে অবাক। তার ভাবে বুঝতে পারলাম ব্যাপারটা ঠিক কিনা সে আমার কাছে জানতে চাচ্ছে। এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাচ্ছিলাম না। তবে ওর মাথায় এসব কেন কাজ করছে তা বুঝতে পেরেই অনিচ্ছায় হলেও আমি কথা সংক্ষেপে করে বললাম এটাতো নবীদের সময়ে ছিল হয়তো এখনও আছে তবে চারজনের দায়িত্ব যদি নেয়া সম্ভব হয় তাহলে ঠিক হবে। চারজনের কারোই যেন মন খারাপ না থাকে বা ঝগড়া না লাগে এটা ম্যানেজ করতে হবে। ম্যানেজ করতে না পারলে পাপ হবে।

তুমি ছোট মানুষ এসব নিয়ে এখনি ভাবতে হয় না। সব কিছু বোঝার একটা সময় আছে। সময়ের আগেই বাড়াবাড়ি কিছু বুঝলে তা তোমার নিজের জন্যই ক্ষতি হবে। সে ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট কথাগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো। ওর মনোযোগটা আমার ভাল লাগলো।

সেই মা এস.এস.সি পাশ উনি কোন দুঃখে এইসব কৌশল করে বাচ্চাকে গল্প শোনান তা উনিই ভাল জানেন। যেসব শুনে শুনে বাচ্চার নারীদের প্রতি কোন সন্মানই থাকবে না।

আরেক মায়ের কথা বলি ছেলের নতুন বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে অন্য জায়গায় জব করায় নতুন বউকে বাসা ভাড়া নিয়ে সাথে রেখেছেন।
আমি একটু সেই মাকে মজা করে বলেছিলাম আপনি শ্বাশুরি মানুষ ছেলের বউকে যেতে দিলেন ! কোথায় একটু হাত পা টিপে নিবেন তা না আর অমনি যেতে দিলেন।

উনি মজা করে বললেন ওমাদের এখন রংচং করার সময় আমি তা বাঁধা দেব ক্যা ।
আমি বললাম একি! আপনি একলা মানুষ অসুস্থ মানুষ পাছে আবার ছেলে হাতছাড়া হয়ে যায় যদি, তখন কি করবেন।
উনি বললেন ওষুধতো খাইই। চলতে তো পারছি। প্রতিবেশীদের সাথে গল্প করেতো সময় কাটছেই। এতে আবার ছেলে হাতছাড়ার কি আছে! মাঝে মাঝে বেড়াতে আসবে আর কি নাতীপুতির মুখ দেখে মরবো।

মা কে একা রাখা ঠিক না। তাই মা যেন একা না থাকেন সেই ছেলে ব্যাপারটা অবশ্যই খেয়াল রাখছেন।
সংসারের প্রয়োজনে হাজবেন্ড ওয়াইফ অনেক সময় আলাদা থাকছেন। এতে তাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিং মজবুত থাকলে সাধারণত কোন সমস্যা হয় না।

প্রথমত অবশ্যই তাদের মধ্যে সন্মানের অবস্থানটা ঠিক থাকতে হবে। মানুষকে সন্মান করার শিক্ষাটা সবার আগে আমরা মায়ের কাছেই শিখি।
এই মা ক্লাস ফাইভ পাশ । ওনার হাতের লেখাও আমি দেখেছি। অনেকটা বাচ্চাদের মত।

দুইটা মা র কথা এখানে বললাম।
এখানে কে অল্প শিক্ষিত কে বেশি শিক্ষিত সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে?

মা যদি সন্তানকে শিখায় মানুষকে সন্মান করতে ছেলে কিংবা মেয়ে উভয়কেই মানুষ হিসেবে ভাবতে পারার শক্তি যদি মা সন্তানের শিক্ষায় দেওয়ার চেষ্টা করেন বা সফল হন তাহলে কি এত এত ডিভোর্স থাকতো?

কম লেখাপড়া বা বেশি লেখাপড়া যেমন মা ই হোক না কেন সেই মা যদি সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করতে সফল হোন তাহলে হয়তো এত ডিভোর্স থাকতো না।
পারিবারিক শান্তিটা সত্যিই খুব দরকার। যা বর্তমানে যেন বিলুপ্তির পথে। পরিবারে শান্তি না থাকলে পরিবারের সদস্যরা কখনই ভাল থাকতে পারে না।
পরিবার পরিচালনা করার দায়িত্ব বাবা মা’র।

আর সন্তানকে মানসিক শিকড় থেকে সুষ্ঠুভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার আগে মা’র।

লিখেছেন: জিলফিকা জুঁই