মুক্তধারা

কিছু বাবা মা নিজের অজান্তেই সন্তানকে দেখান রঙ্গিন দুনিয়া

কিছু বাবা মা নিজের অজান্তেই
সন্তানকে দেখান রঙ্গিন দুনিয়া।

হয়ে যায় তারা মানসিক পঙ্গু
চলে যায় তারা জীবনের ভুল বিপথে।

ট্রেনের লাইনে এক জায়গায় মাথা আর এক জায়গায় পা আরেক জায়গায় শরীরের অংশ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন দেহ।

বাপ মায়ের না জানি কত আদরের মেয়ে। তার আজ লাশ টুকরো টুকরো। মেয়েকে ধর্ষণ করে টুকরো টুকরো করে ফেলে গেছে কে বা কারা। ধর্ষণ এই মুহূর্তে বিশেষ করে বর্তমানে অনেক বেশি আতংকের নাম। এমন ভয়ংকর দুঃখজনক ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে।

তবে মেয়ের অজান্তেই বা বেখেয়ালেই বা রঙ্গিন দুনিয়া ভেবে আবেগেই যে কারণেই সে আজ এই পরিস্থিতির শিকার হোক না কেন। এই ধর্ষণ শব্দটার জন্য দায়ী কোন বিষয়গুলো এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই।

যা বলতে চাই সেই বাপ মায়ের আহ্লাদীর কথাই বলতে চাই। অনেক বাবা মা ই তার ছেলে মেয়েদেরকে অতিরিক্ত শাসন করতে করতে তাদের ছেলে মেয়েদের একটা বাবু বাবু ভাব করে বড় করে তোলেন বা এটা অনেক বাবা মা ই পছন্দ করেন তাদের আদরের সোনামণি সবসময় তাদের বাধ্য অনুগত থাকবে।

অতিরিক্ত শাসন আবার অনেক সময় অতিরিক্ত আদর দিয়ে দিয়ে তাদের আত্মনির্ভরশীল আত্মোন্নতি বা যে কোন পরিস্থিতি সাহসের সাথে মোকাবেলা করবে এমন ভাবে তৈরি করাটার বারোটা বাজিয়ে ফেলেন নিজের অজান্তেই।

বাবা মা কে অবশ্যই সন্মান করবে তার মানে এই নয় যে তাদের দুনিয়াটা রঙ্গিন আর আহ্লাদে বাবু বাবু ভাব নিয়ে জীবনটা পাড়ি দিবে। এমনটা ভাবা বোকামি, অবশ্যই বোকামি।

জীবনের প্রতিটা স্টেপে একটা একটা করে ধাপ অতিবাহিত করার ক্ষমতা রাখতে হবে এবং এমন মন মানসিকতার শক্ত মনে তাদের বড় করতে হবে যেন তারা তাদের জীবনের ধাপে বিপদ আপদ সামলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

আপনার বাবু যদি বড় হয়ে যায় তখন তাকে নিজ হাতে খাইতে দেন। এমনও ছেলে মেয়ে আছে ক্লাস নাইন /টেন এ নিজ হাতে খাবার খেতে পারে না। তাকে তুলে তুলে খাইয়ে দিতে হয়।

তাহলে সে কি করে শিখবে জীবনের বাস্তবতা । কি করে শিখবে সে বাস্তবতা ?
অতি আদরে তার দুনিয়াটাকে রঙ্গিন করে ফেলছেন। নিজের অজান্তেই তাকে মানসিক পঙ্গু বানিয়ে ফেলছেন। তাকে বাস্তবতা বোঝাতে কী কী ভাবে বোঝাতে হবে তা সবচাইতে বাবা মা ই ভাল পারবেন।

স্নেহ শাসনের ভারসাম্য ঠিক রেখে ছেলে মেয়েদের বাস্তববাদী করে তুলুন। জীবনে কী কী ভাবে চলতে হয় তা একমাত্র সবার আগে বাবা মা র কাছেই সন্তান শিখে থাকে।

এক বছরের বাচ্চা থেকে বৃদ্ধা কেউই রেহাই পাচ্ছে না এই সমস্যা থেকে। এ ব্যাপারে সচেতন মূলক বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের খেয়াল রাখা উচিত।

টুকরো টুকরো করা সেই মেয়েটি কি জানতো যে সে এই পরিস্থিতির শিকার হবে। না, জানতো না। হয়তোবা যখন বুঝতে পেরেছিল তখন কিছু করার ছিল না ।
যতদূর জানি মেয়েরা নাকি খুব সহজেই কুনজর কুদৃষ্টি এসব বুঝতে পারে! শুধু বুঝতেই পারে না, খুব সহজেই বুঝতে পারে!

আপনি যদি আপনার বাবুকে ক্লাস টেনও ভাত নিজ হাতে তুলে খাওয়া না শিখান তাহলে সে কী করে এই রঙ্গিন দুনিয়ার কুনজর কুদৃষ্টি বোঝার ক্ষমতা রাখবে ।
কী করে থাকবে সে সাবধান?

লিখেছেন: জিলফিকা জুঁই