মুক্তধারা

অল্পের জন্য রক্ষা

বউটার বুক ধুকপুক করতেছে। দুদিন এর জন্য স্বামী বেড়াতে গেছে আবার কোন এক দরকারেও। এই দুই দিন বউ বাড়ীতে একা যেন না থাকে তাই পাশের বাড়ীর আত্মীয়কে বলে গেছে রাতে যেন ভাবি এসে থাকে।

বুক ধুকপুক করতেছে যে কারণে,স্বামীর এক কাছের আত্নীয় সম্পর্কে দেবর হবে। সে খেয়াল করেছে এই দুইদিন বাড়ীতে বউ একা তাই সে কারণে অকারণে যখন তখন টিভি দেখতে আসে।

এসে টিভির নিউজ দেখতে পরে যায়। কখনও কখনও টিভি দেখতে গিয়ে ঘুমের ভান করে।
বউটা অনেক আগেই বুঝতে পেরেছে তার প্রতি কুনজর পরেছে। তাই সে সাবধানে চলাফেরা করছে।

সে দেবরের আবার কান্ড যখন তখন ভাত খেতে আসছে বা কখনও চায়ের বায়না ধরছে। এমন মিশুক আর ভাল মানুষি ভাবে কথাগুলো এসে বলে যে কারো মনেই হবে না যে বউটার প্রতি তার কুনজর পরেছে।

বউটা একটু সাবধানী আর কৌশলী ভাবে ঘরের দরজা খুলে আবার বাইরের গেট খুলে রাখছে। যেহেতু পাশেই আত্মীয়ের বাড়ী তাই মনে মনে একটু সাহস করে আছে।

কিন্তু যতই সাহস করুক না কেন কোন অঘটন ঘটলেও সবাই বউটাকেই যে দোষ দিবে। তার কারণ এই বউ অনেক কষ্ট করে সংসারটা টিকে রাখছে। আবার স্বামীর নির্যাতন সহ্য করেও সে সংসারটা করছে।

যদি কোন অঘটন ঘটে বউ যদি সবাইকে নালিশ করে কিন্তু সবাই বউটাকেই দোষ দিবে। তাই সে ভাবছে একটু কৌশলে নিজেকে নিরাপদ রাখতে হবে। কারণ দেবর ঘরে যখন তখন আসছে বা যাচ্ছে এটা নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করারও উপায় নেই। কাছের আত্মীয় না হলেও কদরের ধরন এমন যেন বাড়ীর আদরের ছেলে বলে কথা। তাই সে চুপচাপ সব ম্যানেজ করে চলছে।

দেবর কথায় কথায় জ্বর আসছে এমন কথা জানতেই ভাবির কপালে হঠাৎ করেই হাত দিয়ে দেখলো। ভাবি একটু নিজেকে সরে নিল।

দেবর বলল যাই ভাবি আপনার জন্য ওষুধ আনি গিয়ে। সে ওষুধ নিয়ে আসল। বলল ওষুধ দুইটা এখনি খেয়ে নেন। দুইটা ট্যাবলেটই একসাথে খেতে হবে। একটা জ্বরের আরেকটা এলার্জীর। বউ এর এলার্জীর প্রবলেম ছিল এটা বাসার সবাই জানতো। খাবার বাছবিচার করতে গিয়ে এ নিয়ে তাকে কথাও শুনতে হয়েছে।
ভাবি বলল একটা কিছু খেয়ে তারপর খাই। দেবর সেই কথা শুনে টিভি দেখতে বসল।

ভাবি খেয়াল করলো দুটো ট্যাবলেটের একটা ওষুধের নাম দেখা যাচ্ছে আরেকটার নাম কেটে ফেলায় দেখা যাচ্ছে না। পাশের রুমে দেবর বসে টিভি দেখছে সেই সুযোগে ভাবি জ্বরের ওষুধটা খেয়ে নিল (স্বামী ওষুধ এনে দিতে চায় না বলে) আর নাম কেটে ফেলা ওষুধটা জানালা দিয়ে ফেলে দিল।
একটু পরেই দেবর জিজ্ঞাসা করল ভাবি ওষুধ দুইটা খেয়েছেন। ভাবি বলল হ্যাঁ খেয়েছি।

সন্ধ্যা হয়ে গেছে দেবরটা টিভির রুম থেকে এতক্ষণে চলে যাওয়ার কথা। যাচ্ছে না। ভাবিও টিভির রুমে চুপচাপ বসে আছে। বোঝা যাচ্ছে দেবর টিভির দিকে মনোযোগী না। সে বার বার ভাবির দিকে খেয়াল করছে। ভাবি সবটা বুঝতে পেরেও চুপচাপ বসে আছে। একবার ভাবছে পাশের বাড়ী চলে যাবে নাকি। এমনটা ভাবতে ভাবতে দেবর বিছানার এক কোণায় ছিল। সে ভাবির দিকে বালিশ ছুড়ে দিয়ে বলল সমস্যা নেই বালিশে হেলান দিয়ে টিভি দেখতে পারেন। ভাবি বালিশটা সাইডে রেখে বলল সমস্যা নেই লাগবে না।

কিছুক্ষণ পর দেবরের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল। হয়তো ভাবছিল সন্ধ্যার নিড়িবিলি এই সময়টাতে সুযোগ ছিল। হয়তো ভাবছিল ভাবি ঝিমোচ্ছে না কেন।
কোন কথা নেই বার্তা নেই সে গম্ভীর এবং লজ্জিত হয়ে বাইরে চলে গেল । ভাবি তড়িঘড়ি করে ঘরের দরজা লাগিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।

আরেকটা ওষুধ যে খাওয়া যাবে না ভাগ্যিস ভাবি বুঝতে পেরেছে। না হলে আজ কি হত যদি কোন অঘটন ঘটে যেত সবাই তাকেই দোষারোপ করত কারণ সেই দেবর যে এই বাড়ীর বড় আদরের।

যাইহোক স্বামীর সাথে সম্পর্ক খারাপ আবার শ্বশুর বাড়ীর লোকেরাও তাকে পছন্দ করে না এই সুযোগটা সেই দেবর নিতে চেয়েছিল ।
বউটা এখানে কোথায় নিরাপদ ?
ভাগ্যিস বউটা বুঝতে পেরেছিল ওষুধটায় কিছু একটা ছিল।

অনেক সময় আমাদের খুব কাছেই আশেপাশেই এইধরনের মানুষ থাকে। ভাল মানুষি সেজে কথা বলে চলাফেরা করলেও তাদের আসল রূপ সাধারণত আমাদের বেখেয়ালের কারণে ধারণার বাইরে থেকে যায়।

লিখেছেন: জিলফিকা জুঁই