অনুরণন

হৃদয়ের কাছাকাছি (পর্ব: ৭)

ইতি চেয়েছিলো আজ অন্তত সাজু তার পাশে থাক। এমন করে সবাইকে সব সময় পাওয়া যায় না। বন্ধুরা আর তাদের পরিবারের লোকজন এসে যখন দেখবে সাজু বাইরে সেটা কি সবাই সহজ ভাবে নিবে? ভাবতে ইচ্ছে করছেনা আর কিছু। সব আনন্দ নষ্ট হয়ে গেছে কাল যখন সাজু বেরিয়ে গেছে। ইতির খুব ইচ্ছে করছে মানুষটাকে একবার ফোন করতে। কিন্তু এতো ব্যস্ততায় কি কথা বলবে বুঝতে পারছে না।

ইতি খুব বলেছিলো সাজু যেনো আজকের দিনটা কোন কাজ না রাখে। সাজু কথা রাখতে পারেনি কারন রোদেলার সময় হবে না এই সময় ছাড়া। ইতির কোন প্রশ্নের উত্তর সাজু দিতে পারবে না তাই একবারও বাড়িতে ফোন করেনি সে। এতো মেহমান আসবে মেয়েটা কি করে সামলাবে সব দিক ভেবে খারাপ লাগছে সাজুর।

পিয়াসার কথা খুব মনে পরছে সাজুর,মেয়েটা গায়ে গায়ে লেগে থাকে। এতো আদুরে হয়েছে। বাড়িতে কত শান্তির পরিবেশ তারপরেও সাজুর দম বন্ধ হয়ে আসে ইতির দিকে তাকালে।সে নিজেকে ক্ষমা করতে পারেনা। ইতির উপর উচু গলায় কথা বলে ঠিকই কিন্তু ওর চোখে চোখ রাখার সাহস হয়না তার।

এতো কিছুর পরেও ইতি চায় সাজু তার পাশে পাশে থাকুক সব সময়, সেটা সাজু বোঝে। কিন্তু সাজুর নিজেকে খুব ছোট লাগে ওর পাশে, অপরাধী মনে হয়।

আজ নিশ্চয় ইতির মনটা খুব খারাপ থাকবে, কারন কোন মেয়েই চায় না অন্যের সামনে নিজেকে বা স্বামীকে ছোট করতে। ইতির মুখটা ভেবে খুব খারাপ লাগছে সাজুর।

না আজ ইতির সামনে যাবে সে, তাকে ছোট করবে না। তাই সাজু সকালেই বেরিয়ে পরে বাড়ি যাওয়ার জন্য।

ইতির পুরো বাড়ি যেনো কলেজ ক্যাম্পাস। হা হা হিহিময় পুরো বাড়ি। আনন্দ যেনো ধরছে না। কত গল্প কত ঠাট্টা চলছে। কতদিন পর সবার সাথে দেখা। ছবির মতো করে সাজানো গোছানো পুরো বাড়ি। যত্ন আর ভালোবাসার ছাপ সব খানেই। সব সময়ের মতো পরিপাটি করে গোছানো আজও। ইতির সাজ পোষাকে কোন কমতি নাই তার সাথে খুশিতে উজ্বল মুখ। সাজু আর ইতিকে পাশাপাশি বেশ লাগছে। ইতির এমন স্নিগ্ধ মুখ দেখে আজ মালতীরও ভালো লাগছে খুব।

ইতির বাসায় সব বন্ধুদের মাঝে সাগরও আছে। মালতী দূর থেকে দেখেছে,কিন্তু ওর সাথে মালতী নিজ থেকে কথা বলতে যায় নি। সগর সবার সাথে মিশে গেছে সেই আগের মতো। মালতীকে দেখেই সাগর সেই আগের মতোই স্বাভাবিক স্বরে ডেকে উঠলো মালতী? অনেক বছর পর মালতী আর সাগর সামনা সামনি আজ।

সাগর: কতদিন পর দেখা তাই না মালতী?

মালতী: হ্যা তাই। তুমি কেমন আছো সাগর?

সাগর:তোমার খবর পাই মাঝে মাঝে। তবে আগের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়েছো তুমি?

মালতী: আগে কি আমার দিকে তাকিয়েছো কখনও যে এমন তুলনা করলে ?

সাগর: যার বসবাস হৃদয়ে তার দিকে তাকানোর প্রয়োজন হয় না।

মালতী: তোমার পরিবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে না?

সাগর: থাকলে করিয়ে দিতাম। সে জায়গাটা এখনও কাউকে দিতে পারিনি।

মালতী :এই মজা করার সভাবটা আবার কবে থেকে হলো তোমার? তুমি তো ছিলে ভীষন গম্ভীর!

সাগর: ভাবছি এভাবেই মজা করে জীবন পার করে দিবো

মালতী: তোমার ছেলে- মেয়ে?

সাগর: নি:সন্তান,তবে বিয়ে না করেই। হা হা হা…

মালতী: তুমি কি বিয়ে করোনি? কেনো,এখনও বসে আছো কেনো ?

সাগর: সেদিন দুই হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম তোমার বাড়ির সামনের রাস্তায় তবুও তোমাকে পাইনি,তুমি অন্যের ঘরে চলে গেলে। ফিরে চাওনি একবারও। তাই এখন বসেই পরেছি হাত পা গুটিয়ে।

মালতী: তবে কেনো বলোনি?

সাগর: তুমিতো সময় দাওনি মালতী?

মালতী: সময় কি চেয়েছিলে? আমার মন পরে থাকতো কোথায় জানতে চাওনি কখনই।
আজও আমার ভাবনাগুলো ছুঁতে চায় তোমাকে।

সাগর: হয়ত সাহস করতে পারিনি তখন। তবে কিচ্ছু চাই না আমি ,হৃদয়ের যেখানে সযত্নে রেখেছো আমাকে,সেটাই আমার বড় পাওয়া। শুধু কিছু অধিকার পাবার আশা করিনা আমি। তার চেয়ে বড় আধিকার আমাকে দিয়েছো,আর সেটা তোমার মনে প্রবেশের অধিকার। এরচেয়ে বেশী কাছে আসা আর কি হতে পারে!

মন পেয়েছে মনকে,আর চাইবার কিছু নাই মালতী, অনেক ভালো থেকো তুমি ।

প্রশান্তি মাখা মুখ নিয়ে বেরিয়ে যায় সাগর।

মালতীর এতো বছরের অভিমানগুলো যেনো নিমিষেই হারিয়ে গেলো….. নাকি সাগর সাথে করে নিয়ে গেলো তার সব অভিমান!!!

(চলবে……)

লিখেছেনঃ সাজিয়া আফরিন